স্টাফ রিপোর্টার : একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের চূড়ান্ত যুক্তিতর্কের জন্য আগামী ১৮ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ এ দিন নির্ধারণ করেন।

আজহারুল ইসলামের পক্ষে তার এক মাত্র সাফাই সাক্ষী আনোয়ারুল হককে জেরা করেন প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম। আজহারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট আব্দুস সোবহান তরফদার।

গত ১৩ জুলাই এ মামলায় সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৩ আগস্ট দিন ঠিক করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল।

গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর থেকে আজহারের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। তার বিরুদ্ধে সর্বমোট ১৯ জন প্রসিকিউশনের সাক্ষী তাদের জবানবন্দি পেশ করেন। একই বছরের ১২ নভেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের ৬টি অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন ট্রাইব্যুনাল-১।

এসব অভিযোগ তদন্তকালে ৬০ জনেরও বেশি ব্যক্তির সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। মামলা তদন্ত করেন তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তা (আইও) এসএম ইদ্রিস আলী।

প্রসিকিউশনের এক আবেদনের প্রেক্ষিতে তদন্তের স্বার্থে ২০১৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি আজহারকে সেফ হোমে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

২০১৩ সালের ১৮ জুলাই আজহারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। ৬টি অভিযোগের ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল র্চার্জ) দাখিল করা হয়েছে। মোট ৪টি ভলিয়মে ৩শ পৃষ্ঠার নথিপত্র দাখিল করা হয়।

এর আগে গত বছরের ৪ জুলাই মানবতাবিরোধী অপরাধের ৯ ধরনের অভিযোগে তদন্ত শেষ করে তদন্ত সংস্থা প্রসিকিউশন বরাবর তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করে।

জামায়াত নেতা এটিএম আজহারের বিরুদ্ধে রংপুর অঞ্চলে ১২শ২৫ ব্যক্তিকে গণহত্যা, ৪ জনকে হত্যা, ১৭ জনকে অপহরণ, একজনকে ধর্ষণ, ১৩ জনকে আটক ও ১৩ জনকে নির্যাতন করা এবং শতশত বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের সঙ্গে এ আসামি জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগে বলা হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ট্রাইব্যুনালের আদেশে রাজধানীর মগবাজারস্থ নিজ বাসা থেকে ২০১২ সালের ২২ আগস্ট আজহারকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

(ওএস/এটিআর/আগস্ট ০৪, ২০১৪)