সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় অবস্থিত বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছারি বাড়ির দক্ষিন পাশে পুরাকৃতির বিধি বিধান না মেনে ব্যক্তি উদ্যোগে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন (সূতার মার্কেট) নির্মান কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজে উপস্থিত হয়ে এই কাজ বন্ধ করে দেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবীন্দ্র কাছারিবাড়ির প্রত্নতত্ব বিভাগ দায়িত্ব নেয়ার পর, বাড়িটিকে বিশ্বকবি রবীন্দ্র স্মৃতিযাদুঘর হিসেবে রুপান্তরিত করা হয়। সৌর্ন্দয্য বৃদ্ধির জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে অত্যাধুনিক মিলনায়তন, সীমানা প্রাচীর, শৌচাগার, অভ্যন্তরিন পাকা সড়ক, বাগান নির্মান করা হয়। গত ২০০৪ সালে শাহজাদপুর উপজেলা ইয়ার্ণ মার্সেন্ট এ্যসোসিয়েশনের (সূতা ব্যবসায়ীর সংগঠন) ৬৫ জন সদস্য কাছারিবাড়ীর দক্ষীন পাশ্বে ৬৫ শতাংশ জমি ক্রয় করে একতলা ভবন মার্কেট নির্মান করে। এখানে বহুতল ভবন নির্মান করা যাবে না বিষয়টি তারা অবগত হয়। কৌশল অবলম্বন করে ২০০৬ সালে উক্ত ভবনের উপর দ্বিতীয় তলা মার্কেটের সম্প্রসারন কাজ শুরু করে।

(পুরাকৃীতি আইনের ১২ (৩) এবং ১৯ (চ) ও (২) ধারানুযায়ী সংরক্ষিত পুরাকৃীতির সন্নিকোটে কোন ভবন নির্মাণ, সৌন্দর্যহানী কিংবা কোন প্রকার ক্ষতি সাধন আইনত দন্ডনীয় ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ, একই ভাবে এ নির্মাণ বাংলাদেশ সংবিধানের ২৩ ও ২৪ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী।) প্রতœতত্ব বিভাগ ইতিপূর্বে কয়েকদফা নির্মান কাজ বন্ধ করে দেয়। এর পরও তারা কৌশল অবলম্বন করে নির্মান কাজ চালিয়ে যায়।

সম্প্রতি গত ৩০ মে ২০১৪ থেকে নতুন উদ্দমে কাজ শরু হয়। দিন রাত অবিরাম কাজ করতে থাকে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও একাধিকবার নোটিশ প্রদান করলেও তারা সেটি অগ্রহ্য করে কাজ চালু রাখে। এ ঘটনায় গত কাল সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামীম আহমেদ, সহকারী কমিশনার (ভুমি) সন্দীপ সরকার থানা পুলিশ নিয়ে সরেজমিনে গিয়ে উপস্থিত হয়ে উক্ত কাজ বন্ধ করে দেন।

এ বিষয়ে কাছারিবাড়ির দায়িত্বে নিয়োজিত (কাস্টোডিয়ান) মোঃ মুজিবুর রহমান বলেন, পুরাকৃর্তির আইননুযায়ী উক্ত স্থানে একতলা ভবন নির্মান করা যেতে পারে। তারা সকল নিয়ম লংঘন করে বিধি বর্হিভূত ভাবে বহতল ভবন নির্মান করেই যাচ্ছে। পরবর্তি ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে সরকারী আজিজুল হক বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সাবেক বাংলাবিভাগের প্রধান রবীন্দ্র বিশ্লেষক অধ্যাপক নাসিম উদ্দীন মালিথা বলেন, পুরাকৃতি হিসেবে সরকারের যে বিধান রয়েছে, এই বিধান অবশ্যই মেনে চলা উচিত। তা না হলে পুরাকৃতির সকল স্মৃতি ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে যাবে।

এ বিষয়ে সমিতির সদস্য এনামুল হাসান বলেন, এলাকাটি তাঁতসমৃধ এলাকা। যে কারনে ব্যবসায়ীক ও এলাকার উন্নয়নের লক্ষ্যে বহুতল ভবন নির্মান করা হচ্ছে। আমরা রবীন্দ্র নাথের পুরাকৃীতির সৌন্দর্য হানী কর কোন কাজ করবোনা। প্রতœতত্ব বিভাগের পক্ষ থেকে কাজ বন্ধকার জন্য বলে নাই। শুধু উপজেলা প্রশাসন থেকে নিষেধ করেছিলো। তারা বাধা দিলে অবশ্যই কাজ বন্ধ থাকতো।

সার্বিক বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামীম আহম্মেদ জানান, ইতিপূর্বে তাদেরকে কাজ বন্ধ করার জন্য একাধিকবার নোটিশ জারি করা হলেও তারা বন্ধ রাখেনি। যে কারনে কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

(এসএস/অ/আগস্ট ০৪, ২০১৪)