কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি : কিশোরগঞ্জ শহরের উত্তর এলাকার প্রবেশধার শোলমারার সরকারি ইটখলার পতিত মাঠ পৌরসভার ময়লা আবর্জনার ভাগারে পরিণত হয়েছে। এসব ময়লা আবর্জনার পঁচা দুর্গন্ধ ছড়িয়ে আশপাশের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। হুমকির মুখে পড়েছে জনস্বাস্থ্য। বিষাক্ত গ্যাসে মরছে মূল্যবান গাছপালা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, কিশোরগঞ্জ-তাড়াইল-নীলগঞ্জ সড়কে শোলমারা ব্রীজের পাশে অন্তত ৩০ হাজার টাকা মূল্যেরও বেশি একটি সরকারি মেহগনি বিষাক্ত গ্যাসে মরে গেছে। আশপাশে আরও গাছ মরার উপক্রম হয়েছে। ময়লা-আবর্জনার পঁচা দুর্গন্ধে আশপাশের জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে।

জানা গেছে গত কয়েক দিন যাবত কিশোরগঞ্জ পৌরসভার ময়লা আবর্জনা বহনকারী পিকআপ দিয়ে প্রতিদিন রাতে শোলমারার সরকারি ইটখলার পতিত মাঠে দূষিত বর্জ্য ফেলে মাঠ ভরাট করছে। এমনকি রাস্তার পাশে দূষিত ময়লা আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এতে করে রাস্তার পাশে রোপিত সরকারি মূল্যবান গাছ গুলো বিষাক্ত বর্জ্যরে গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে মরে যাচ্ছে। ময়লা পঁচে গ্যাসের উৎপত্তি হয়ে গোটা এলাকায় বিষাক্ত দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। গন্ধে রাস্তায় চলাচলকারী মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। জনগুরুত্ববহুল রাস্তাটি দিয়ে সাধারন মানুষ ও শিক্ষাথীদের যাতায়াতে চরম পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন। অনেকেই নানা রোগবালাইয়ে আক্রান্ত হয়ে জীবন নিয়ে সংকটে পড়ছেন। আশপাশে কৃষি কাজ ব্যাহত হচ্ছে। কৃষি শ্রমিকরা দূর্গন্ধের কারণে চাষাবাদ করতে পারছেন না। স্থানীয় কৃষকরা জমিতে রোপা আমন ধানের চারা রোপনে বাঁধার সম্মুখীন হচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ইসলাম উদ্দীন জানান, আমার মেয়েকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে শোলমারা এলাকায় দূষিত বর্জ্যের দূর্গন্ধে রোগের মাত্রা আরও বেড়ে গেছে। কৃষক বিল্লাল ও আলম মিয়া জানান, এখন আমন ধানের চারা রোপনের ভরা মৌসুম চলছে। দূর্গন্ধের কারণে জমি চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। এখানে অনেক শ্রমিক ধানের চারা রোপন কাজে অনীহা প্রকাশ করে অতিরিক্ত মজুরী দাবি করছে।

চাকুরীজীবী রোকন উদ্দীন জানান, এখানকার দুর্গন্ধ এড়িয়ে প্রতিদিন অফিসে যেতে হয়। মাঝে মাঝে দুর্গন্ধের মাত্র এতই বেশি লাগে যে নাকে মুখে রোমাল দিয়ে তা শামাল দিতে হয়। ৮০ বছরের বৃদ্ধা পথচারী রুপসীর মা আক্ষেপ করে বলেন, এমন দুর্গন্ধ জীবনেও নাকে লাগেনি। বেড়াতে যাইয়া নাতির বাড়িতে যা খাইছি এখানকার দুর্গন্ধে সব বমি কইরা দিছি। ক্ষিরদা বাজারের ব্যবসায়ি ইকবাল ও বাবুল নিত্য দিন নীলগঞ্জ কিশোরগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে এই রাস্তা দিয়েই যাতায়াত করেন। তারা এখানকার দুর্গন্ধের চিত্র তুলে ধরে বলেন, বহুদিন ধরে দুর্গন্ধের শিকার হয়ে প্রতিকারের দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু কেউ এ বিষয়ে এগিয়ে আসেনি। স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আলপনা জানান, খোলামেলা স্থানে এ ধরনের বর্জ্য ফেলানোর কারণে আমরা অতীষ্ঠ হয়ে পড়েছি।

স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দীন জানান, দূষিত বর্জ্যের কারণে কৃষি জমির উর্বরতা হারাচ্ছে। পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব মাজহারুল ইসলাম ভূঞা এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পৌরসভার গাড়ি দিয়ে এসব বর্জ্য ফেলানোর কথা জানি না। কিন্তু পৌরসভার গাড়ি লেখা গাড়ি দিয়ে এসব বর্জ্য ফেলানোর কথা বললে তিনি তা এড়িয়ে যান।

(পিকেএস/জেএ/আগস্ট ০৮, ২০১৪)