নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁর ধামইরহাটের চিরি নদীর দুই পাড়ের কৃষকদের মাঝে পালিত হলো নবান্নের উৎসব। প্রতি বছরের ন্যায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই দিনটিকে ওই এলাকার কৃষকরা পালন করে। তবে এবার ধানের দাম বেশী পাওয়ায় তাদের মাঝে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। প্রতিটি গ্রামে ফিরে এসেছে নবান্নের উৎসবের আমেজ।

১ অগ্রহায়ণ গ্রাম বাংলার কৃষকরা সাধারণত তাদের নতুন ফসল ঘরে তোলে। বর্তমানে মাঠে মাঠে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন দুলছে। আর এ সোনালী স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে কৃষক-কৃষাণীরা কোমর বেঁেধ কাজ করছেন। বর্তমান এ এলাকায় স্বর্ণা-৫ জাতের ধান বেশি রোপন করা হয়েছে। ধান কাটামাড়াই পুরোদমে শুরু হয়েছে। বাজারে প্রতি মণ (৪০ কেজি) ধান এক হাজার ১শ’ টাকা দরে বেচা কেনা চলছে। কৃষকরা এবার ধানের দাম বেশি পেয়ে খুব খুশি। তাদের মাঝে বাড়তি উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে।

দেখা গেছে, উপজেলার ধামইরহাট ইউনিয়নের অন্তর্গত ভারত সীমান্তবর্তী উত্তর রুপনারায়নপুর চিরি নদীর দুই পাড়ের কৃষকরা নবান্ন উৎসব পালনের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়। তারা নতুন ধানের আটা দিয়ে বিভিন্ন ধরণেয় পিঠা,পুলি এবং ক্ষীর তৈরি করে। দিবস উপলক্ষে এলাকার মেয়ে-জামাইদের শ্বশুর বাড়িতে আগমন ঘটে। প্রায় প্রতিটি বাড়িতে মাংস এবং নতুন ধানের চাল দিয়ে তৈরি করা হয়েছে পায়েস ও ক্ষীর। এসব দিয়ে মেহমানদের আপ্যায়ন করা হয়। নবান্ন উপলক্ষে চিরি নদীর ব্রীজের পশ্চিম পার্শে উত্তর রুপনারায়ণপুর গ্রামের দুইটি মহিষ জবাই করা হয়।

ওই গ্রামের মাতব্বর মো.আইয়ুব হোসেন, আলহাজ্ব মো.নবিবর রহমান জানান, তারা দুটি মহিষ জবাই করে গ্রামবাসীদের মাঝে মাংস বিতরণ করেছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো.সেলিম রেজা বলেন,এবার ধামইরহাট উপজেলায় ১৯ হাজার ৭শ’ ৯০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ করা হয়েছে। এবার ফলন কিছুটা কম হলেও দাম বেশি পেয়ে কৃষককূল খুশি। ১৯ হাজার হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল (উফশী) এবং ৭শ’ ৯০ হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের ধান রোপন করেছেন।

ব্রিধান-৩৪,৪৯,৭৫,৮৭,বিনা-১৭, স্বর্ণা-৫, ত্বরা স্বর্ণা, চিনি আতপ, জিরাশাইল ও কাটারীভোগ জাতের ধান চাষ করছেন। বর্তমানে ধান কাটামাড়াই পুরোদমে শুরু হয়েছে। বাজারে কাঁচা ধান এক হাজার একশ’ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে এলাকার কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।

(বিএম/এসপি/নভেম্বর ১৬, ২০২০)