নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় আতপ ধানের শীষ মরা রোগ দেখা দিয়েছে। ধানের শীষ মরা রোগ প্রতিরোধে ওষুধ ছিটিয়েও কাজ হচ্ছে না। ফলে ফলন বির্পযয় নিয়ে দিশে হারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।

রাণীনগর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে উপজেলায় ১৮ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে আমন ধান রোপন করেছেন কৃষকরা। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবার প্রতিটি জমিতে আমন ধান খুব ভাল হয়েছে। ইতোমধ্যে আগাম জাতের প্রায় ১৫ শ’ হেক্টর জমির ধান কেটে ঘরে তুলেছেন কৃষকরা। এই ১৮ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে রোপনকৃত ধানের মধ্যে ১০ হাজার ৩ শ’ হেক্টর জমিতে চিনি আতপ ধান লাগানো হয়েছে।

কৃষকরা বলছেন, আর মাত্র কয়েক দিন পরেই হয়তো আতপ ধান কাটা শুরু হবে। এরই মধ্যে হঠাৎ করে উপজেলার হরিপুর, আবাদপুকুর, করজগ্রাম, মাধাইমুড়ি, ভান্ডারা, আমগ্রাম, ভেবড়া, দামুয়া, জলকৈসহ বিভিন্ন মাঠে আতপ ধানে ব্যাপক হারে শীষ মরা রোগ দেখা দিয়েছে। কৃষকদের দাবি ধানের শীষ মরা রোগ প্রতিরোধ করতে বিভিন্ন কোম্পানীর কিটনাশক ওষুধ ছিটিয়েও কোন ফল মিলছেনা। ফলে আতপ ধানে ফলন বির্পযয় দেখা দিতে পারে। এতে করে ধান রক্ষায় এবং লোকসানের আশংকায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা।

কালীগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসরাম বাবলু মন্ডল জানান, তার বিআর ৫১ জাতের প্রায় ৬ বিঘা জমির ধান সম্পন্ন নষ্ট হয়ে গেছে। তারা বলছেন, বিভিন্ন কোম্পানীর ওষুধ ছিটিয়েও কোন লাভ হচ্ছে না। ফলে ধানের ফলন বির্পযয় হতে পারে বলে আশংকা করছেন কৃষকরা। তারা বলছেন, আগাম জাতের মোটা ধান ভাল থাকলেও প্রতি বছর আতপ ধান পাকার আগেই মাজরা, কিম্বা ব্লাষ্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে শীষ মরে যায়। এতে ফলন বিপর্যয়ের কারনে লোকসান হয় তাদের। এবারও একই রকম অবস্থা দেখা দিয়েছে।

এ ব্যাপারে রাণীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, উপজেলা জুড়ে চলতি মৌসুমে কৃষকদের বিভিন্ন ভাবে ধান চাষে পরামর্শ দিয়েছি। বিভিন্ন সেমিনার, মিটিং করে কৃষকদের সচেতন করা হয়েছে। ফলে কোথাও ব্লাষ্ট এবং কারেন্ট পোকার নজির নেই। তবে দুই-একটি জমিতে মাজরা পোকার কারনে কিছু ধানের শীষ মরে যাচ্ছে যা পরিমানে খুবই অল্প। এতে ধানের ফলন বিপর্যয়ের কোন আশংকা নেই।

(বিএম/এসপি/নভেম্বর ১৭, ২০২০)