লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মো. মহিউদ্দিন নামের এক ব্যবসায়ীকে ডিবি পুলিশের ভুয়া পরিচয় দিয়ে আবাসিক হোটেলে জিম্মি করে মারধর করে টাকা, মোবাইল ও ৭টি ব্যাংকের চেক নিয়েছে ৩ বখাটে। ওই ব্যবসায়ী চট্টগ্রামের সিতাকুন্ডের ফকিরহাট এলাকার বাসিন্দা। 

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ আবাসিক হোটেলের মালিক ইসমাইল হোসেনকে মঙ্গলবার রাতে পৌর শহর থেকে গ্রেফতার করেছে। সে পৌর ১নং ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার মরহুম তোফায়েল আহম্মদের পালক ছেলে। সোমবার গভীর রাতে শহরের আব্বাস আলী সড়কের সেতারা আবাসিক বোর্ডিংয়ে এ ঘটনা ঘটে। বুধবার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

পুলিশ ও নির্যাতিত ব্যবসায়ী জানান, সোমবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম থেকে গাড়ী কেনার জন্য রায়পুরে আসেন ব্যবসায়ী মহিউদ্দিন। রাতে তিনি শহরের সেতারা আবাসিক বোর্ডিংয়ে ওঠেন। গভীর রাতে ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে বোর্ডিং মালিক ইসমাইল, জসিমসহ ৩ বখাটে মিলে ওই ব্যবসায়ীর রুমে প্রবেশ করে তার মুখ বেঁধে ফেলে। ওই সময় তারা ব্যবসায়ীকে মারধর করে সঙ্গে থাকা নগদ ৮হাজার টাকা ও দু’টি মোবাইল সেট এবং ব্র্যাংক ও জনতা ব্যাংকের ৭টি চেক স্বাক্ষর করিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে ঘটনার বিবরণ দিয়ে ওই ব্যবসায়ী বাদী হয়ে রায়পুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

রায়পুর থানার এসআই মো. ফোরকান বলেন, ব্যবসায়ীর অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আবাসিক হোটেলের মালিক ইসমাইলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধিন রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৭-৮ বছর ধরেই এ আবাসিক বোর্ডিংটিতে নিয়মিত মাদক বিক্রি ও সেবন, অসামাজিক কার্যকলাপ ও আগত বোর্ডারদের মালামাল লুটপাট ও নারীর সম্ভ্রমহানী অসংখ্য ঘটনা ঘটেছে। হোটেল মালিক ইসমাইল হোসেনসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র সরাসরি শেল্টার দিয়ে এসব অপকর্ম করাচ্ছে বলে অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। ইসমাইল নিজেই সেখানে ডিবি পুলিশসহ বিভিন্ন ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে আগতদের হয়রানি ও নির্যাতন চালিয়ে আসলেও কেউ ভয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সাহস পায়নি। অধিকাংশ বোর্ডার দ্বিতীয়বার কখনো এ হোটেলমুখী হয়নি বলে আশপাশের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

(এমআরএস/এএস/অক্টোবর ২৯, ২০১৪)