স্টাফ রিপোর্টার : সামাজিক মাধ্যমের ভারতীয় পণ্য বর্জনের যে প্রচারণা চলছে তাতে সংহতি প্রকাশ করেছে বিএনপি। এরপরই প্রশ্ন ওঠেছে বিএনপি একটি রাষ্ট্রের পণ্য বর্জনের প্রচারণায় জড়িয়ে পড়ছে কেন? রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, ভারতীয় পণ্য বর্জনে সংহতির মাধ্যমে পাবলিক সেন্টিমেন্টকে কাজে লাগাতে চাইছে। এটি হয়তো তাদের জন্য একটি টেস্ট কেসও হতে পারে। যদিও বিএনপির রাজনীতিতে ভারত বিরোধিতার ইতিহাস আছে। কখনো কখনো ভারতীয় নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে দলটির সম্পর্ক ভালো করার চেষ্টা দেখা গেলেও অনেক ক্ষেত্রেই সম্পর্কের অবনতি হওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।

কিছুদিন ধরে সামাজিক মাধ্যমে ভারতীয় পণ্য বর্জনের পক্ষে ক্যাম্পেইন করছিলো সরকারবিরোধী নানা গ্রুপ ও ব্যক্তি। বিএনপির সাথে আন্দোলনে থাকা কয়েকটি দলের ব্যানারেও এমন ক্যাম্পেইন পরিচালিত হতে দেখা গেছে। তবে বিএনপি দলীয়ভাবে এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনও অবস্থান নেননি। কিন্তু গত বুধবার (২০ মার্চ) দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী তার নিজের গায়ে থাকা ভারতীয় চাদর ছুড়ে ফেলে ‘ভারতীয় পণ্য বর্জনের’ প্রচারণার প্রতি সংহতি জানান।

সামাজিক মাধ্যমে ভারতীয় পণ্য বর্জনের এই প্রচারণা দৃশ্যমান হয় মূলত সাতই জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে। ওই নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্ব নির্বাচন ইস্যুতে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের ওপর প্রচণ্ড চাপ তৈরি করলেও ভারতের বক্তব্য ছিল "নির্বাচন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় ও বাংলাদেশের জনগণই ঠিক করবে কারা দেশ পরিচালনা করবে।" এরপরই ধারণা সৃষ্টি হয় যে ভারতের অবস্থানের কারণেই আবারও ক্ষমতায় এসেছে আওয়ামী লীগ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জোবাইদা নাসরীন বলেন, ‘নির্বাচনের সময় থেকেই বিএনপি ধরেই নিয়েছে যে ভারতীয় নীতি নির্ধারকরা আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিচ্ছে। এ কারণেই তারা এখন ভারতীয় পণ্য বর্জনে সংহতির মাধ্যমে পাবলিক সেন্টিমেন্টকে কাজে লাগাতে চাইছে। এটি হয়তো তাদের জন্য একটি টেস্ট কেসও হতে পারে। তারা হয়তো দেখতে চায় জনগণ কীভাবে নেয় আর ভারতই বা কেমন রেসপন্স করে।

তার মতে, আগেও এক সময় বিএনপি ভারত বিরোধিতার জন্য পরিচিত ছিল। মাঝে সেই পরিচিতি কাটিয়ে ওঠে ভারতের সাথে সুসম্পর্ক তৈরির চেষ্টাও দেখা গেছে তাদের মধ্যে। কিন্তু নির্বাচনে ভারতের অবস্থান সবার কাছে পরিষ্কার এবং তা বিএনপির পক্ষে যায়নি। ফলে তারাও এখন মানুষের সেন্টিমেন্টকে আমলে নিয়ে ভারত বিরোধী আওয়াজ জোরালো করতে চাইছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে চীনের পরে ভারত থেকেই সবচেয়ে বেশি পণ্য আমদানি হয়ে থাকে, যা মোট আমদানির প্রায় বিশ শতাংশ। এর মধ্যে পেঁয়াজের মতো জরুরি অনেক নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের জন্য ভারতের ওপর নির্ভরতা আছে বাংলাদেশের আমদানিকারকদের।

(ওএস/এসপি/মার্চ ২১, ২০২৪)