নাটোর প্রতিনিধি : নাটোর সদর ভুমি অফিসে বুধবার সকালে রহস্যজনকভাবে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। অগ্নিকান্ডে মূল্যবান কাগজ পত্র সহ প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকার মালামাল পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সহ স্থানীয় ফায়ার স্টেশন কর্মকর্তা এই অগ্নিকান্ডটি সর্ট সার্কিট থেকে ঘটেছে বলে জানিয়েছেন। তবে সর্টসার্কিট থেকে লাগা আগুনে ষ্টিল আলমারির মুল্যবান কাগজ পত্র পুড়ে যাওয়ার বিষয়টি স্থানীয়রা সন্দেহের চোখে দেখছে। জেলা প্রশাসন থেকে ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সদর উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, সহকারি কমিশনার (ভূমি) সহ অন্যান্য কর্মকর্তাগণ মঙ্গলবার রাত ১১ টা পর্যন্ত অফিসের কম্পিউটারে কাজ করেন। পরে কর্মচারীদের একটা বনভজনেও তারা অংশ নেন। রাত ১ টা পর্যন্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সেখান থেকে বাসায় চলে যান। বুধবার সকাল ৬ টায় নৈশপ্রহরী সাইফুল ইসলাম অফিসের বারান্দার আলো নিভাতে এসে ভেতরে ধোঁয়া দেখতে পান। তাৎক্ষণিক ঘটনাটি সহকারি কমিশনারকে জানানো হয়। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত সেখানে গিয়ে বৈদ্যতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দেন। এ সময় আসে পাশের লোকজন এসে আগুন পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। আগুন নেভানোর পর দমকল কর্মী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উপস্থিত হয়।

আগুনে অফিসের একটি ফটোস্টেট মেশিন, একটি কম্পিউটার, তিনটি স্টিলের আলমারিসহ মূল্যবান কাগজপত্র পুড়ে ভষ্মিভূত হয়ে যায়। আগুন নিয়ন্ত্রনে আসার পর পানিতে ভিজে যাওয়া জিনিসপত্র কর্মচারীদের সরিয়ে ফেলতে দেখা যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী জানান, শর্টসার্কিট থেকে আগুন লেগেছে বলে ধারণা করা হলেও তাতে সন্দেহ রয়েছে। কারণ এভাবে আগুন লাগলে স্টিলের আলমারির মধ্যেকার কাগজপত্র পুড়ে গেল কিভাবে ? অভিযোগ ওঠে -আগুন নিভে যাওয়ার পর ওই সব স্টিলের আলমারি থেকে কাগজ পত্র সরিয়ে ফেলা হয়। তবে এই অভিযোগ মনগড়া বলে দাবি করেছেন ওই দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এদিকে খবর পাওয়ার পর পরই জেলা প্রশাসক মশিউর রহমান সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান।

নাটোর ফায়ার ব্রিগেডের উপ-পরিচালক আব্দুর রউফ জানান, সকালে ভুমি অফিসের একটি কক্ষের ভিতর আগুন জ্বলছে এমন খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনা হয়। অগ্নিকান্ডে অফিসের ব্যবহৃত দুইটি কম্পিউটার, একটি ফটোস্ট্যাট মেশিন, আসবাব পত্র সহ জরুরী কাগজ পত্র পুড়ে ভস্মিভুত হয়ে যায়। বৈদ্যুতিক সর্ট সার্কিট থেকে এই আগুনের সুত্রপাত বলে প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হয়।

সদর উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারি কমিশনার আলমগীর কবির জানান,খবর পাওয়ামাত্র তিনি দ্রুততার সাথে অফিসে গিয়ে বৈদ্যতিক বোর্ডে আগুন জ্বলতে দেখে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে বলেন। দমকল কর্মীরা আসার আগেই আমরা নিজ উদ্যোগে আগুন নেভাতে সক্ষম হই। ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নিরুপণ করা হয়নি। তবে অফিসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খতিয়ানগুলো পুড়ে যায়নি। সেগুলো অন্য কক্ষে রাখা ছিল।

নাটোর সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, এ ব্যাপারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে। ঘটনাটি পুলিশ ও প্রশাসন উভয়ই তদন্ত করে দেখছে।

জেলা প্রশাসক মশিউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান,ঘটনাটি তদন্ত করতে বলা হয়েছে।

(এমআর/এএস/ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০১৫)