স্টাফ রিপোর্টার : বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বিদেশি ক্রেতাদের বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের জন্য ন্যায্য দাম দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ।
 

তিনি বলেন, সবকিছুর জন্যই টাকার প্রয়োজন। কারখানা-বিনিয়োগ কোনো কিছুই টাকা ছাড়া সম্ভব না। কিন্তু বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের উপযুক্ত দাম পাওয়া যাচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে ‘বাংলাদেশ-ফ্রেমিং দ্য ফিউচার: এ হাই লেভেল কনফারেন্স অন আরএমজি অ্যান্ড রেয়নড’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে। চলতি অর্থবছরে ৩৩ মিলিয়ন ডলারের ওপরে রফতানি আয় হবে। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্য আয়ের একটি দেশে হয়ে উঠবে।

তিনি বলেন, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর আমাদের ওপর বিভিন্ন শর্ত দেওয়া হয়েছিলো। আমরা সব শর্ত সফলভাবে পালন করেছি। ট্রেড ইউনিয়ন করা হয়েছে। ভোটের মাধ্যমে ট্রেড ইউনিয়নের নেতা নির্বাচিত হচ্ছেন।

গত দুই বছর ধরে গার্মেন্টেসে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি। সরকার শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর ব্যবস্থা করেছে। শ্রমিকদের ২১৯ শতাংশ মজুরি বাড়ানো হয়েছে। ন্যূনতম মজুরি ৬৯ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৯৭ ডলার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূমিকার কারণেই এটি হয়েছে বলেন মন্ত্রী।

তোফায়েল বলেন, ট্রেড ইউনিয়ন করতে আমাদের ওপর বিভিন্ন ধরণের চাপ আসছে। অথচ আমেরিকায় সরকারি ক্ষেত্রে মাত্র ৭ শতাংশ এবং বেসরকারিতে ৩৫ শতাংশ ক্ষেত্রে ট্রেড ইউনিয়ন আছে।

রানা প্লাজা দুর্ঘটনার দুই বছরে পদার্পণ এবং একটি নতুন স্ট্র্যাটেজিক সেক্টর ইনিশিয়েটিভ’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন উপলক্ষে ঢাকাস্থ ডেনমার্ক দূতাবাস এবং ডেনিশ বাণিজ্য ও উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে দেশি-বিদেশি দুই শতাধিক অতিথি উপস্থিত ছিলেন। মাল্টি স্টেকহোল্ডার সহযোগিতার ভিত্তিতে তৈরি পোশাক শিল্পের বিগত দুই বছরের প্রাপ্তি ও শিক্ষণীয় বিষয় এবং অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে কিভাবে রফতানি বাজার সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে সেমিনারটির আয়োজন করা হয়।

এ উপলক্ষে ডেনিশ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতা মন্ত্রী মগেন্স জেন্সেন এক বিবৃতিতে বলেন, বাংলাদেশ রানা প্লাজার দুর্ঘটনাকে পেছনে ফেলে অনেক দূর এগিয়েছে। বাংলাদেশ সরকার, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও আরএমজি সেক্টরের সমন্বয়ে নতুন মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা প্রণয়ন করা হয়েছে এবং পারস্পরিক সমঝোতার নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। যা বিশ্বের কোথাও আগে দেখা যায়নি।

সেমিনারে বিজিএমইএ’র সভাপতি আতিকুল ইসলাম বলেন, দেশে গার্মেন্টস সেক্টরে ২০১০ সালে একটি ও ২০১১ সালে দু’টি ট্রেড ইউনিয়ন ছিলো। বর্তমানে ২০০টির ওপরে ট্রেড ইউনিয়ন আছে।

সরকার গার্মেন্টস শিল্পের উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে উল্লেখ করে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, মুন্সিগঞ্জের অর্থনৈতিক অঞ্চল আমাদের কারখানা রিলোকেট করতে সহায়তা করবে।
(ওএস/এএস/মার্চ ১৯, ২০১৫)