কলাপাড়া(পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : চারিদিকের ফসলের মাঠ ফেটে চৌচির। খাল ও পুকুরের পানি শুকিয়ে গেছে। দীর্ঘ তিন/চার কিলোমিটার হেঁটে সংগ্রহ করতে হচ্ছে খাবার পানি। পটুয়াখালীর কলাপাড়ার ধানখালী ইউনিয়নের লোন্দা ও ধানখালী গ্রামের চিত্র এটি। একই অবস্থা উপজেলার অন্তত ৪০ টি গ্রামে। বিশুদ্ধ পানি সংকটে দিশেহারা হাজার হাজার মানুষ বাধ্য হয়ে নদী ও দূষিত পানি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার অন্তত অর্ধশতাধিক খাল ভরাট হয়ে শুকিয়ে গেছে। বালু দিয়ে অন্তত শতাধিক পুকুর ভরাট করে নির্মান করা হয়েছে বসত ঘর। প্রবাহমান খাল দখল করে বাঁধ নির্মান করে মাছের ঘের ও পাকা স্থাপনা। এ কারনে এই মৌসুমে তীব্র পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
ধানখালী ইউনিয়নের ধানখালী ও লোন্দা গ্রামের মাঝদিয়ে বহমান কেবলা’র খাল শুকিয়ে গেছে আরও একমাস আগে। তীব্র পানি সংকটে এই দুই গ্রামসহ গিলাতলা গ্রামের মানুষ এবার রবিশষ্য রোপন করতে পারেনি। তরমুজ চাষাবাদ করলেও পানি সংকটে উৎপাদন কমে যাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছে কৃষকরা। এ গ্রামে একটি নলকূপ থেকে অন্তত তিন হাজার গ্রামবাসী নির্ভরশীল। এ নলকূপ থেকে ৩/৪ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে গৃহবধূরা দল বেঁধে পানি সংগ্রহ করে। ধানখালী গ্রামের সমাজ সেবক গাজী রাইসুল ইসলাম রাজিব জানান, ইউনিয়নের অন্তত ছয়টি গ্রামে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। কেবলা’র খাল জরুরী ভিত্তিতে খননের উদ্যোগ না নিলে আগামী মৌসুমে এ খালটি পলি জমে ভরাট হয়ে যেতে পারে। এতে অন্তত পাঁচশ একর জমিতে সেচের পানির তীব্র সংকট দেখা দিবে।
ধুলাসার ইউনিয়নের গঙ্গামতি ও কাউয়ার গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, ৫/৬ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে গ্রামের মানুষ খাবার পানি সংগ্রহ করলেও গৃহস্থালী কাজ ও গোসল করার জন্য বালুচরে গর্ত খুড়ে পানি তুলে সেই পানি ব্যবহার করছে। চর কাউয়া গ্রামের জলিল মিয়া বলেন, ‘এইহানে খাবার পানির লাইগ্যা মোগো তো যুদ্ধ করতে হয়। বইষ্যাকালে পানি আনা আরও কষ্টের। মাইলের পর মাইল মোগো হাইট্রা পানি আনতে হয়’। নীলগঞ্জ ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, মিঠা পানি সংরক্ষণের জন্য উপজেলা পরিষদ খাল খননের উদ্যেগ নিলেও অধিকাংশ খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় দূর্ভোগে পড়েছে সবজি গ্রামের কৃষকরা। নীলগঞ্জের সোনাতলা গ্রামের কৃষক আব্দুল হালিম জানান, সোনাতলা গ্রামের মাঝ দিয়ে আগে তিনটি খাল বহমান ছিল। এখন তা ভরাট হয়ে গেছে।
লোন্দা গ্রামের ইউপি সদস্য মো. আব্বাস মোল্লা জানান, এ বছর বৃষ্টি না হওয়ায় ইউনিয়নের অধিকাংশ খাল শুকিয়ে যাওয়ায় তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে। এমনকি গবাদি পশুকেও পানি কাওয়াতে ২/৩ মাইল হেঁটে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
ধানখালী ইউপি চেয়ারম্যান মো. আবদুল লতিফ গাজী জানান, কেবলা’র খাল শুকিয়ে যাওয়ায় এবার গ্রামের মানুষ দূর্ভোগে পড়েছে। তারা কিছু খাল খনন করেছেন। কিন্তু তা যথেষ্ট নয় বলে জানান।
কলাপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান আঃ মোতালেব তালুকদার জানান, সরকারি ও বেসরকারি ভাবে কিছু খাল মিঠা পানি সংগ্রহেনর জন্য খনন করা হয়েছে। ভরাট হয়ে যাওয়া খালগুলো উদ্ধার করে পর্যায়ক্রমে খনন করে পানি প্রবাহের উদ্যেগ নেয়া হবে। এজন্য দখলদারদের কোন ছাড় দেয়া হবে না।
(এমআর/পিবি/মে ১১,২০১৫)