সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :পাবনার চাটমোহরের পুলিশের এক উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবীতে স্ত্রীকে  মারপিট ও গর্ভের সন্তান নষ্ট করার অভিযোগে সিরাজগঞ্জ বিজ্ঞ আমলী আদালতে দায়ের করা মামলায় আসামী আনিছুর রহমানের জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

বৃহষ্পতিবার সিরাজগঞ্জ শিশু ও নারী নির্যাতন বিশেষ ট্রাইবুন্যাল আদালতের বিচারক এই আদেশ প্রদান করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মেহেরপুর জেলার আমলী আদালতে কর্মরত উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) আনিছুর রহমান গতকাল বৃহষ্পতিবার সিরাজগঞ্জ শিশু ও নারী নির্যাতন বিশেষ ট্রাইবুন্যাল আদালতে হাজির হয়ে আইনজীবীদের মাধ্যমে জামিনের আবেদন করেন। বিচারক প্রাথমিক শুনানী শেষে তার জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দোষ দেন।

উল্লেখ্য, তাড়াশের মাগুড়াবিনোদ ইউনিয়নের ঘরগ্রামের হাফিজুর রহমানের মেয়ে রোজিনা পারভীনের পাশ্ববর্তী পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার বাঘলবাড়ী গ্রামের আখের আলীর ছেলে আনিছুর রহমানের সঙ্গে ২০১১ সালে ১৪ লাখ দেনমোহরনায় বিবাহ হয়। তাদের সংসারে একটি ৩ বছর বয়সের পুত্র সন্তান আছে। সাম্প্রতিক সময়ে আনিছুর রহমানের পদন্নোতির জন্য সে তার শ্বশুরের নিকট ৩ লাখ টাকা যৌতুক দাবী করেন। কিন্তু তার স্ত্রী বাবার বাড়ি থেকে যৌতুকের টাকা না আনায় তাকে মেহেরপুরের ভাড়া বাসায় তার আত্মীয় স্বজনসহ সে বেধড়ক মারপিট করে তাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।

পরে গত ৮ মে এসআই আনিছুর রহমান তার মা বাবা, ভাইসহ রোজিনাকে নেবার জন্য এসে রাত্রি যাপন করে আবারও ৩ লাখ টাকা নিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে যাবার কথা বলে। কিন্তু রোজিনা ও তার বাবা সাধ্যের অতিরিক্ত টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে এনিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে আনিছুর রেগে গিয়ে গর্ভবতী স্ত্রী রোজিনা পারভীনের পেটে লাথি মারেন। এতে তার প্রচন্ড রক্তক্ষরণ শুরু এবং গর্ভপাত ঘটে। পরে মূমূর্ষ অবস্থায় সিরাজগঞ্জ নর্থ বেঙ্গল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে রোজিনা বাদী হয়ে মারপিট ও যৌতুক আইনে সিরাজগঞ্জ বিজ্ঞ আমলী আদালতে স্বামী আনিছুর রহমান, শ্বশুর আখের আলী, শাশুড়ি সোনাভান বেগম ও ভাসুড় আসাদ আলীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পড়ে থানা পুলিশ তদন্তে শুধু আনিছুরের নাম উল্লেখ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। বাদি পক্ষের আইনজীবি মোহাম্মদ মিলন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।


(এসএস/এসসি/আগষ্ট০৮,২০১৫)