গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি :গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের কাটাখালী ব্রিজ এলাকার (হাওয়াখানা) করতোয়া নদীর সিসি ব্লকের পাশের গমক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা সেই দুই যুবকের পরিচয় মিলেছে।

তারা হলেন শরীয়তপুর জেলার পালং থানার সিলথিয়া গ্রামের আবদুস সালামের ছেলে আবির হোসেন (২০) ও শেরপুর জেলা সদরের বাগপাশা গ্রামের মৃত শাহাদত হোসেনের ছেলে শাকিব মিয়া (২৫)।

ঘটনার ১ মাস ১২ দিন পর নিহত আবিরের মা মোছা. আয়শা বেগম বৃহস্পতিবার রাতে গোবিন্দগঞ্জ থানায় এসে লাশের ছবি, পড়নের কাপড়, প্যান্ট ও জুতা দেখে পরিচয় নিশ্চিত করেন।

এসময় মোছা. আয়শা বেগম পুলিশকে বলেন, তার ছেলে আবির হোসেন ঢাকার সাভার কলেজের একাদশ শ্রেণির প্রথম বর্ষের ছাত্র। সে আশুলিয়া এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকতো। অপর যুবক শাকিব ছেলের সঙ্গে একই বাসায় থাকতো। পেশায় সে বাস চালক। ছেলে আবিরকে দুর্বৃত্তরা অপহরণ করে। তাকে উদ্ধারে চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় তিনি আশুলিয়া থানায় একটি অপহরণের মামলা করেন। তবে কি কারণে তাদের অপহরণ করে হত্যা করা হয়েছে সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি তিনি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গোবিন্দগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবদুল গফুর জানান, ময়নাতদন্ত শেষে ৩ দিন পর লাশ দুটি বেসরকারী স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের মাধ্যমে জেলা শহরের পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়। তাদের ডিএনও পরীক্ষার জন্য আলামত সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে। অপহরণ মামলার সূত্র ধরেই আবিরের মা গোবিন্দগঞ্জ থানায় এসে লাশ সনাক্ত করেন।

গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) মো. আমিনুল ইসলাম লাশ দাফনের বিষয়ে জানান, তাদের পড়নে জিন্স, গ্যাবাটি প্যান্ট ও শরীরে জ্যাকেট ছিল। নিহত আবির হোসেনের মাসহ স্বজনরা থানায় এসে পরিচয় শনাক্ত করেছেন। হত্যার সঙ্গে জড়িতদের সনাক্ত ও গ্রেফতার করতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

প্রসঙ্গত: ২১ জানুয়ারী সকাল ৯টার দিকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাটাখালি ব্রিজ এলাকার (হাওয়াখানা) করতোয়া নদীর সিসি ব্লকের পাশের গমক্ষেত থেকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা ২০-২৫ বছরের অজ্ঞাত পরিচয় দুই যুবককের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় গোবিন্দগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুল গফুর বাদি অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।


(এসআরডি/এস/ফেব্রুয়ারি০৪,২০১৬)