নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি : প্রার্থীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষ, ভাংচুরের মধ্যদিয়ে টাঙ্গাইলের নাগরপুরের ১১টি ইউনিয়ন পরিষদের ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ১০৩টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশে লাইনে দাড়িয়ে ভোটারদের ভোট দিতে দেখা যায়। সকালের দিকে কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোটার উপস্থিতি বাড়তে থাকে। পুরুষের চেয়ে মহিলা ভোটারের উপস্থিতি বেশী ছিলো বেশি। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীক থাকায় উৎসব মধ্যদিয়ে ভোট দেয় সাধারণ ভোটাররা।

এদিকে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বেকরা ইউনিয়নের বেকরা বিশ্বেশ্বর মেমোরিয়ার উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে ৫০/৬০ জনের একদল দূর্বত্ত ভোটারদের উপর হামলা করে। এসময় ৪-৫ জন সাধারণ ভোটার আহত হন। আহতদের নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে সলিমাবাদ, বেকরা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনেছেন বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

১১টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৫৯ জন, সাধারণ সদস্য পদে ৪৪৫জন ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ১১৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। নির্বাচনে ১১টি ইউনিয়নের মোট ১০৩ টি কেন্দ্রের ৫শ ৬৬টি কক্ষে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ১০৩টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৩০টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপুর্ন কেন্দ্র হিসেবে চিন্থিত করেছিলো জেলা পুলিশ।

১১টি ইউনিয়নে মোট ভোটার ২ লাখ ৩ হাজার ১শ ৩৭ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫ হাজার ৮শ ৪৮ জন এবং মহিলা ভোটার ৯৯ হাজার ২শ ৮৯ জন।

নির্বাচন সুষ্ঠ ও শান্তিপুর্নভাবে সম্পন্ন করার জন্য নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়। ভোটকেন্দ্র ও নির্বাচনী এলাকার পরিবেশ শান্তিপুর্ন রাখতে প্রতিটি কেন্দ্রে ৭জন সশস্ত্র পুলিশ ও ১৩জন গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন ছিলো। একটি ইউনিয়নে তিনটি করে স্ট্রাইকিং ফোর্স ও তিনটি ভ্রাম্যমান আদালতের মোবাইল টিম থাকতে দেখা যায়।। এছাড়া নির্বাচনী এলাকায় বিজিবি, পুলিশ, র‌্যাব ও আনসার দায়িত্ব পালন করছেন।
উল্লেখ্য, প্রথম দফা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নাগরপুরের ১২টি ইউনিয়নের নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও গত ৪ মার্চ সীমানা সক্রান্ত জটিলতায় ভাড়রা ইউনিয়নের নির্বাচন স্থগিত করে হাইকোর্ট। অপরদিকে গত ২০ মার্চ টাঙ্গাইল ৪ (কালিহাতী) আসনের উপ-নির্বাচন হওয়ার কথা থাকায় ২২মার্চ থেকে একদিন পিছিয়ে ২৩ মার্চ নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করে নির্বাচন কমিশন।

(আরএসআর/এএস/মার্চ ২৩, ২০১৬)