পরাধীন ভারতবাসীদের কেউই তখন ব্রিটিশদের শাসন ও শোষণ থেকে রক্ষার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেনি।সাধারণ মানুষদের কেউ কখনই ভাবতো না যে তারা ব্রিটিশদের শৃঙ্খল থেকে কখনও মুক্ত হতে পারবে।এমন স্বপ্ন ছিল তাদের চোখে ঝাপসা কুয়াশার মতই।কখনই তা চোখের মণিতে স্বচ্ছ হয়ে ধরা দিতো না।কিন্তু তারপরও কিছু মানুষ সেই স্বপ্ন দেখতেন আবার অন্যকে দেখাতেন দৃপ্ত শপথে।অন্যের চোখে সেই স্বপ্নের বীজও বুনে দিতেন।আলো জ্বালাতেন আঁধারকে দুর করার। পরাধীন ভারতবাসীকে মুক্তির স্বপ্ন চোখে দেখিয়েছিলেন,আগুন জ্বালিয়েছিলেন প্রতিবাদের। আবার নিজের জীবনবাজী রেখেই স্বপ্ন দেখতেন এবং স্বপ্ন দেখাতেন স্বাধীনতার ।

এমনই এক কণ্যা জন্মেছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশে। যার নাম সবারই জানা। তিনি হলেন অগ্নিকন্যা বলে খ্যাত প্রীতিলতা ওয়াদ্দার। যিনি ছিলেন ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের মহানায়ক মাষ্টারদা সূর্য সেনের অন্যতম সহযোগী এবং এদেশের প্রথম নারী শহীদ।

জন্ম ও বেড়ে উঠাঃ

প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ১৯১১ সালের ৫ই মে মঙ্গলবার চট্টগ্রামের ধলঘাট গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন মিউনিসিপ্যাল অফিসের হেড কেরানী জগদ্বন্ধু ওয়াদ্দেদার এবং মাতা প্রতিভাদেবী।বাবা মায়ের ছয় সন্তানের মধ্যে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ছিলেন দ্বিতীয়।তাঁদের পরিবারের আদি পদবী ছিল দাশগুপ্ত।পরিবারের কোন এক পূর্বপুরুষ নবাবী আমলে “ওয়াহেদেদার” উপাধি পেয়েছিলেন বলে ওয়াহেদেদার থেকে ওয়াদ্দেদার বা ওয়াদ্দার নামে পরিচিতি পায় পরিবারের লোকজনও।পটিয়া থানার ধলঘাট গ্রামে প্রীতিলতার জন্ম হয়।আদর করে মা ডাকতেন তাকে “রাণী” বলে।

পরবর্তীতে তারা তাদের বাড়ি ছেড়ে চট্টগ্রাম শহরের আসকার খানের দীঘির দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়ে টিনের ছাউনি দেয়া মাটির একটা দোতলা বাড়িতে স্থায়ীভাবে থাকতেন।
ছোটবেলা ওয়াদ্দেদার ছিলেন অত্যন্ত অন্তর্মুখী,লাজুক এবং মুখচোরা স্বভাবের। তবে বাড়ির কাজকর্মে ঠিকই আবার মাকে সহযোগিতা করতেন বিভিন্নভাবে।

প্রীতিলতার বিপ্লবী হয়ে উঠাঃ
হঠাৎ করেই প্রীতিলতা বিপ্লবী হয়ে ওঠেননি। তখন সবে শৈশব পেরিয়ে কৈশোরে পা রেখেছেন তিনি।চট্টগ্রামের বিপ্লবীরা তখন মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলন শেষে সক্রিয় হচ্ছিলেন।এর মধ্যে ১৯২৩-এর ১৩ ডিসেম্বর টাইগার পাস এর মোড়ে সূর্য সেনের বিপ্লবী সংগঠনের সদস্যরা প্রকাশ্য দিবালোকে সরকারী কর্মচারীদের বেতন বাবদ নিয়ে যাওয়া ১৭,০০০ টাকা ছিনতাই করে।এ ছিনতাইয়ের প্রায় দুই সপ্তাহ পর গোপন বৈঠক চলাকালীন অবস্থায় বিপ্লবীদের আস্তানায় হানা দিলে পুলিশের সাথে যুদ্ধের পর গ্রেফতার হন সূর্য সেন এবং অম্বিকা চক্রবর্তী।তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় রেলওয়ে ডাকাতি মামলা।এই ঘটনা কিশোরী প্রীতিলতার মনে অনেক প্রশ্নের জন্ম দেয়।

স্কুলের প্রিয় শিক্ষক ঊষাদির সাথে আলোচনার মাধ্যমে এই মামলার ব্যাপারে বিস্তারিত ভাবে অনেক কিছুই জানতে পারেন তিনি।ঊষাদির দেয়া “ঝাঁসীর রাণী” বইটি পড়ার সময় ঝাঁসীর রাণী লক্ষীবাইয়ের জীবনী তাঁর মনে গভীর রেখাপাত করে।১৯২৪ সালে বেঙ্গল অর্ডিনান্স নামে এক জরুরি আইনে বিপ্লবীদের বিনাবিচারে আটক করা শুরু হয়।
চট্টগ্রামের বিপ্লবীদলের অনেক নেতা ও সদস্য এই আইনে আটক হয়েছিল। তখন বিপ্লবী সংগঠনের ছাত্র আর যুবকদেরকে অস্ত্রশস্ত্র,সাইকেল ও বইপত্র গোপনে রাখার ব্যবস্থা করতে হত। সরকার বিপ্লবীদের প্রকাশনাসমূহ বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করে।প্রীতিলতার নিকট-আত্মীয় পূর্ণেন্দু দস্তিদার তখন বিপ্লবী দলের কর্মী।তিনি সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত কিছু গোপন বই প্রীতিলতার কাছে রাখেন।তখন তিনি দশম শ্রেনীর ছাত্রী।লুকিয়ে লুকিয়ে তিনি পড়েন “দেশের কথা”,“বাঘা যতীন”,“ক্ষুদিরাম” আর “কানাইলাল”।এই সমস্ত গ্রন্থ প্রীতিলতাকে বিপ্লবের আদর্শে অনুপ্রাণিত করে।প্রীতিলতা দাদা পূর্ণেন্দু দস্তিদারের কাছে বিপ্লবী সংগঠনে যোগদান করার গভীর ইচ্ছার কথা বলেন।কিন্তু তখনো পর্যন্ত বিপ্লবীদলে মহিলা সদস্য গ্রহণ করা হয়নি।এমনকি নিকট আত্মীয় ছাড়া অন্য কোন মেয়েদের সাথে মেলামেশা করাও বিপ্লবীদের জন্য নিষেধ ছিলো।

বাংলাদেশের একটা মেয়ে সেই সময় বৃটিশদের থেকে নিজেদেরকে স্বাধীন করার জন্য কিভাবে এতোটা দুঃসাহসিক হতে পেরেছিলো!মেয়েদের মধ্যে চট্রগ্রামের এই সাহসী মহিলাই প্রথম কোন নারী বিপ্লবী ছিলেন,যিনি ব্রিটিশ আন্দোলনে নিজের প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন!

ঢাকায় যখন প্রীতিলতা পড়তে যান তখন “শ্রীসংঘ” নামে একটি বিপ্লবী সংঘঠন ছিল। এই দলটি প্রকাশ্যে লাঠিখেলা,কুস্তি, ডনবৈঠক, মুষ্টিযুদ্ধশিক্ষা ইত্যাদির জন্য ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ক্লাব তৈরী করেছিল।ঢাকায় শ্রীসংঘের “দীপালী সঙ্ঘ” নামে একটি মহিলা শাখা ছিল।

লীলা নাগ (বিয়ের পর লীলা রায়)এর নেতৃত্বে এই সংগঠনটি নারীশিক্ষা প্রসারের জন্য কাজ করতো।গোপনে তাঁরা মেয়েদের বিপ্লবী সংগঠনে অন্তর্ভুক্ত করার কাজও করো।ইডেন কলেজের শিক্ষক নীলিমাদির মাধ্যমে লীলা রায়ের সাথে প্রীতিলতার পরিচয় হয়েছিল।তাঁদের অনুপ্রেরণায় দীপালী সঙ্ঘে যোগ দিয়ে প্রীতিলতা লাঠিখেলা,ছোরাখেলা ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।পরবর্তীকালে তিনি লিখেছিলেন “আই এ পড়ার জন্য ঢাকায় দু’বছর থাকার সময় আমি মহান মাস্টারদার একজন উপযুক্ত কমরেড হিসাবে নিজেকে গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়েছি”।১৯২৯ সালের মে মাসে চট্টগ্রামে সূর্য সেন ও তাঁর সহযোগীরা চট্টগ্রাম জেলা কংগ্রেসের জেলা সম্মেলন,ছাত্র সম্মেলন,যুব সম্মেলন ইত্যাদি আয়োজনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।

নারী সম্মেলন করবার কোন পরিকল্পনা তখনও ছিলো না কিন্তু পূর্ণেন্দু দস্তিদারের বিপুল উৎসাহের জন্যই সূর্য সেন নারী সম্মেলন আয়োজনের সম্মতি দেন।মহিলা কংগ্রেস নেত্রী লতিকা বোসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে প্রীতিলতা ঢাকা থেকে এবং তাঁর বন্ধু ও সহযোদ্ধা কল্পনা দত্ত কলকাতা থেকে এসে যোগদান করেন। তাঁদের দুজনের আপ্রাণ চেষ্টা ছিল সূর্য সেনের অধীনে চট্টগ্রামের বিপ্লবী দলে যুক্ত হওয়ার; কিন্তু ব্যর্থ হয়ে তাঁদের ফিরে যেতে হয়।১৯৩০ সালের ১৯ এপ্রিল আই এ পরীক্ষা দিয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ফিরে আসেন প্রীতিলতা।আগের দিন রাতেই চট্টগ্রামে বিপ্লবীদের দীর্ঘ পরিকল্পিত আক্রমণে ধ্বংস হয় অস্ত্রাগার, পুলিশ লাইন,টেলিফোন অফিস এবং রেললাইন।এটি পরবর্তীতে “চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ” নামে পরিচয় লাভ করে।চট্টগ্রামের মাটিতে বিপ্লবীদলের এই উত্থান সমগ্র বাংলার ছাত্রসমাজকে উদ্দীপ্ত করে।প্রীতিলতা লিখেছিলেন “পরীক্ষার পর ঐ বছরেরই ১৯শে এপ্রিল সকালে বাড়ি ফিরে আমি আগের রাতে চট্টগ্রামের বীর যোদ্ধাদের মহান কার্যকলাপের সংবাদ পাই।ঐ সব বীরদের জন্য আমার হৃদয় গভীর শ্রদ্ধায় আপ্লুত হল। কিন্তু ঐ বীরত্বপুর্ণ সংগ্রামে অংশগ্রহণ করতে না পেরে এবং নাম শোনার পর থেকেই যে মাষ্টারদাকে গভীর শ্রদ্ধা করেছি তাঁকে একটু দেখতে না পেয়ে আমি বেদনাহত হলাম”।

১৯৩০ সালে প্রীতিলতা কলকাতার বেথুন কলেজে পড়তে আসেন। দাদা পূর্ণেন্দু দস্তিদার তখন যাদবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ছাত্র। যুব বিদ্রোহের পর তিনি মধ্য কলকাতায় বিপ্লবী মনোরঞ্জন রায়ের পিসির (গুণু পিসি) বাসায় আশ্রয় নেন। প্রীতিলতা ঐ বাসায় গিয়ে দাদার সঙ্গে প্রায় দেখা করতেন।

সেই সময় ‘দীপালী সংঘ’নামে সংগঠনটি খেলাধূলা চর্চার মাধ্যেম মূলত মেয়েদেরকে তৎকালীন আত্মরক্ষার্থে লড়াই করার ট্রেনিং দিতেন। প্রীতিলতারা সেখান থেকেই বিপ্লবের জন্য লড়াই করার ট্রেনিং পেয়েছিলো। আর তারই ধারাবাহিকতায় তিনি সঙ্গী হতে পেরেছিলেন অনেক গুলো অভিযানের। তিনি ১৯৩২ সালে ধলঘাটের সংঘর্ষে অংশ গ্রহণ করেন । তিনি একজন নিবেদিত দেশপ্রেমিক ও বিল্পবী মহীয়সী নারী ছিলেন।

মাকে লেখা প্রীতিলতার চিঠিঃ
মৃত্যুর আগে এই বিপ্লবী নারী তার মাকে একটি পত্র লিখেছিলেন।যা আজও পড়লে সেই সময়ে বিপ্লবের মাধ্যমে স্বদেশকে স্বাধীন করার যে মনোবাসনা তা খুঁজে পাওয়া যায়।প্রীতিলতা লিখেছেন-

”মাগো,তুমি আমায় ডাকছিলে? আমার যেন মনে হলো তুমি আমার শিয়রে বসে কেবলই আমার নাম ধরে ডাকছো, আর তোমার অশ্রু-জলে আমার বক্ষ ভেসে যাচ্ছে। মা, সত্যিই কি তুমি এত কাঁদছো? আমি তোমার ডাকে সাড়া দিতে পারলাম না—তুমি আমায় ডেকে ডেকে হয়রান হয়ে চলে গেলে।
স্বপ্নে একবার তোমায় দেখতে চেয়েছিলাম—তুমি তোমার আদরের মেয়ের আবদার রক্ষা করতে এসেছিলে! কিন্তু মা, আমি তোমার সঙ্গে একটি কথাও বললাম না। দু’চোখ মেলে কেবল তোমার অশ্রুজলই দেখলাম। তোমার চোখের জল মোছাতে এতটুকু চেষ্টা করলাম না।
মা, আমায় তুমি ক্ষমা করো—তোমায় বড় ব্যথা দিয়ে গেলাম। তোমাকে এতটুকু ব্যথা দিতেও তো চিরদিন আমার বুকে বেজেছে। তোমাকে দুঃখ দেওয়া আমার ইচ্ছা নয়। আমি স্বদেশ-জননীর চোখের জল মোছাবার জন্য বুকের রক্ত দিতে এসেছি। তুমি আমায় আশীর্বাদ কর, নইলে আমার মনোবাঞ্ছা পুর্ণ হবে না। একটিবার তোমায় দেখে যেতে পারলাম না! সেজন্য আমার হৃদয়কে ভুল বুঝোনা তুমি। তোমার কথা আমি এক মুহুর্তের জন্যও ভুলিনি মা। প্রতিনিয়তই তোমার আশির্বাদ প্রার্থনা করি।
আমার অভাব যে তোমাকে পাগল করে তুলেছে, তা আমি জানি। মাগো, আমি শুনেছি, তুমি ঘরের দরজায় বসে সবাইকে ডেকে ডেকে বলছো—“ওগো তোমরা আমার রাণীশূন্য রাজ্য দেখে যাও”।
তোমার সেই ছবি আমার চোখের ওপর দিনরাত ভাসছে। তোমার এই কথাগুলো আমার হৃদয়ের প্রতি তন্ত্রীতে তন্ত্রীতে কান্নার সুর তোলে।
মাগো, তুমি অমন করে কেঁদোনা! আমি যে সত্যের জন্য-স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দিতে এসেছি, তুমি কি তাতে আনন্দ পাও না?
কি করবে মা? দেশ যে পরাধীন! দেশবাসী যে বিদেশীর অত্যাচারে জর্জরিত! দেশমাতৃকা যে শৃঙ্খলভারে অবনতা, লাঞ্ছিতা, অপমানিতা!
তুমি কি সবই নীরবে সহ্য করবে মা? একটি সন্তানকেও কি তুমি মুক্তির জন্য উৎসর্গ করতে পারবে না? তুমি কি কেবলই কাঁদবে?
আর কেঁদোনা মা। যাবার আগে আর একবার তুমি আমায় স্বপ্নে দেখা দিও। আমি তোমার কাছে জানু পেতে ক্ষমা চাইবো।
আমি যে তোমায় বড় ব্যথা দিয়ে এসেছি মা। ইচ্ছা করে ছুটে গিয়ে তোমার কাছে ক্ষমা চেয়ে আসি। তুমি আদর করে আমাকে বুকে টেনে নিতে চাইছো, আমি তোমার হাত ছিনিয়ে চলে এসেছি। খাবারের থালা নিয়ে আমায় কত সাধাসাধিই না করেছো—আমি পিছন ফিরে চলে গেছি।
না, আর পারছি না। ক্ষমা চাওয়া ভিন্ন আর আমার উপায় নেই। আমি তোমাকে দুদিন ধরে সমানে কাঁদিয়েছি। তোমার ক্রন্দন আমাকে এতটুকু টলাতে পারেনি।
কি আশ্চর্য মা! তোমার রাণী এত নিষ্ঠুর হতে পারলো কি করে? ক্ষমা করো মা; আমায় তুমি ক্ষমা করো!”
প্রীতিলতার মা বাকী জীবন খুব গর্ব করতেন নিজের মেয়ের জন্য,বলতেন- ‘আমার দুঃখ নেই,আমার মেয়ে প্রাণ দিয়েছে দেশের জন্য’। এমন মায়ের মেয়ে বলেই হয়তো প্রীতিলতা পেরেছিলেন,স্বাধীনতার জন্য নিজের প্রাণের মায়াকে ভুলে যেতে!
কল্পনা দত্তের চোখে প্রীতিলতাঃ
প্রীতিলতার সঙ্গী কল্পনা দত্ত ১৯৩০ সালে প্রীতিলতার বাড়িতে প্রীতিলতার সাথে তার এক আলাপচারিতা প্রসঙ্গে লিখেছেন-
“কথা হচ্ছিল, পাঁঠা কাটতে পারব কি না। আমি বলেছিলাম, ‘নিশ্চয় পারব, আমার মোটেই ভয় করে না’। প্রীতি উত্তর দিয়েছিল ‘ভয়ের প্রশ্ন না, কিন্তু আমি পারব না নিরীহ একটা জীবকে হত্যা করতে’। একজন তৎক্ষণাৎ প্রশ্ন করল ‘কী, দেশের স্বাধীনতার জন্যও তুমি অহিংস উপায়ে সংগ্রাম করতে চাও?’ আমার মনে পড়ে প্রীতির স্পষ্ট জবাব, ‘স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দিতেও পারব, প্রাণ নিতে মোটেই মায়া হবে না। কিন্তু নিরীহ জীব হত্যা করতে সত্যি মায়া হয়, পারব না।’

প্রীতিলতার আত্মাহুতিঃ

ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের মহানায়ক মাষ্টারদা সূর্য সেনের অন্যতম সহযোগী। এদেশের প্রথম নারী শহীদ বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ১৯৩২ সালের ৩ সেপ্টেম্বরে চট্টগ্রামের ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমনের নেতৃত্ব দেন তিনি।আক্রমনের সময় ইংরেজদের হাতে ধরা পড়লে অন্যান্ন সহকর্মীদের নাম জোরপূর্বক আদায়ের চেষ্টা করবে মনে করে সঙ্গে রাখা পটাশিয়াম সায়ানাইড খেয়ে আত্মহুতি দেন প্রীতিলতা। -মোস্তফা ইমরুল কায়েস





(ওএসএস/জুন ১৪,২০১৬)