ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি : ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান বলেছেন, কবি নজরুলের কবিতা ও গান মানুষকে যুগে যুগে শোষণ ও বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ দেখিয়ে চলছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে কবির গান ও কবিতা ছিল প্রেরণার উৎস।

বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কবি বাল্য স্মৃতি বিজড়িত ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার দরিরামপুর নজরুল মঞ্চে তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে ধর্মমন্ত্রী একথা বলেন। তিনি বলেছেন, কবির জীবন চেতনায় ছিল আধিপথ্যবাদ বিরোধিতা। যখন সামাজ্রবাদী দেশগুলো বিশ্বযুদ্ধে জড়িয়ে যাচ্ছে মূলত আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য, আর দেশে চলছে ব্রিটিশ উপনিবেশবাদী রাষ্ট্রের জবরদখল প্রক্রিয়া- এই দুয়ের বিরুদ্ধেই সোচ্চার ছিলেন নজরুল।

স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক উপসচিব হারুন অর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্মারক বক্তা ছিলেন নজরুল গবেষক কবি নুরুল হুদা। বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ডা. এম আমান উল্লাহ এমপি, বিভাগীয় কমিশনার জি এম সালেহ উদ্দিন, ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আলম মামুন, পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, ত্রিশাল উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম মন্ডল প্রমুখ।

এর আগে সকালে ত্রিশাল প্রেসক্লাবের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়ে উপজেলা সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে দরিরামপুর নজরুল মঞ্চে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহীত উল আলম। র‌্যালীতে ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু জাফর রিপন, প্রেসক্লাবের সভাপতি খোরশিদুল আলম মুজিব, সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান নোমানসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও শিক্ষার্থীসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে কবি নজরুলের জন্মবার্ষিকীকে ঘিরে ত্রিশাল মুখরিত হয়ে উঠেছে। সাজানো হয়েছে ভিন্ন সাজে। দরিরামপুর নজরুল একাডেমি মাঠে বসেছে বই ও ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ মেলা। এছাড়াও নজরুল মঞ্চে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের পরিচালনায় সকাল থেকে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন। নজরুল ভক্ত-অনুরাগীদের পদচারণায় ত্রিশাল এখন উৎসবমুখর।

(এমএন/এএস/মে ২৫, ২০১৭)