আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রোহিঙ্গাদের জন্য ৩৪ টন ত্রাণ সহায়তা পাঠিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সাম্প্রতিক সময়ে দ্বিতীয় বারের মতো সহিংসতা শুরু হওয়ার পর থেকে স্রোতের মতো রোহিঙ্গারা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিচ্ছে।

স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে নয়টায় ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার একটি সামরিক ঘাঁটি থেকে ৩৪ টন ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে চারটি হারকিউলিস প্লেন যাত্রা করেছে।

জরুরি ভিত্তিতে রাখাইন প্রদেশের সহিংসতা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো। একই সঙ্গে তিনি রাখাইনে মানবিক সহায়তা প্রদানের আশ্বাসও দিয়েছেন।

হালিম বিমান ঘাঁটি থেকে ত্রাণ নিয়ে উড্ডয়নের আগে পুরো কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছেন উইদোদো, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আরো বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা এবং সেনা প্রধান।

প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র জোহান বুডি জানিয়েছেন, ত্রাণ বহনকারী বিমানগুলোতে চাল, শুকনো খাবার, পানির ট্যাংক এবং কম্বল রয়েছে।

মিয়ানমার এবং বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনার পরই প্রথম ব্যাচে রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণ পাঠানো হচ্ছে। গত ২৫ আগস্ট বেশ কয়েকটি পুলিশ চেক পোস্টে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাখাইনে সেনা মোতায়েন করে মিয়ানমার সরকার। তারপরই দ্বিতীয়বারের মতো সহিংসতা শুরু হয় রাখাইনে।

রোহিঙ্গাদের বাড়িঘরে আগুন, নারীদের ধর্ষণ ও হত্যা এবং গুলি করে রোহিঙ্গাদের হত্যাসহ ব্যাপক দমন-পীড়ন শুরু করে সেনাবাহিনী।

এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৩ লাখ ৭০ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অনেকেই বলছেন, মিয়ানমার সেনারা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে।

নির্বিচারে নারী, পুরুষ, শিশুদের গুলি করে হত্যা করেছে সেনারা। তারা নিরীহ লোকজনের বাড়ি-ঘরে আগুন ধরিয়ে তাদের হুশিয়ারি দিয়েছে হয় পালিয়ে যেতে নইলে সেখানেই মরতে। আবার অনেকেই অভিযোগ করেছেন বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজন তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

এদিকে, রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর অত্যাচার, নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা করতে এক জরুরি বৈঠক ডেকেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ।

আজ বুধবার ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার প্রধান রাখাইন প্রদেশের সহিংসতার ঘটনাকে জাতিগত নিধন বলে সতর্ক করার পরই জরুরি বৈঠক ডাকল সংস্থাটি।

(ওএস/এসপি/সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৭)