E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

সংবাদ প্রকাশেও প্রতিকার নেই

থামছে না ফরিদপুর জেলা সেনিটারী ইন্সপেক্টর বজলুর রশিদের দুর্নীতি!  

২০২১ নভেম্বর ১৭ ১৮:১৫:৩৪
থামছে না ফরিদপুর জেলা সেনিটারী ইন্সপেক্টর বজলুর রশিদের দুর্নীতি!  

ফরিদপুর প্রতিনিধি : ফরিদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের জেলা সেনিটারী ইন্সপেক্টর বজলুর রশিদ প্রতিনিয়ত দুর্নীতি করেই যাচ্ছে। একাধীক জাতীয় দৈনিক প্রত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলেও সব কিছু ম্যানেজ করার কারনে বহাল তবিয়তে তিনি তার দূর্নীতি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।জানাযায় জেলা সেনিটারী ইন্সপেক্টর বজলুর রশিদ ফরিদপুর জেলাশহরের এবং শহরতলীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে লেবার বডি ফিটনেস সার্টিফিকেট এবং সেনেটারী লাইসেন্সের নবায়ন ফি বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নির্ধারন করা থাকলেও অনেকগুন বেশী টাকা আদায় করছেন। বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নির্ধারন করা আছে লেবার বডি ফিটনেস সার্টিফিকেট জন প্রতি ১০০ টাকা আর সেনেটারী লাইসেন্সের নবায়ন ফি ১০ টাকা।

এ বিষয়ে সাংবাদিকরা সরেজমিনে ফরিদপুর জেলা শহরের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে গেলে অনেক ব্যবসায়ী অকপটে স্বীকার করেন যে জেলা সেনিটারী ইন্সপেক্টর বজলুর রশিদ বিভিন্ন মিষ্টি দোকান, রেষ্টুরেন্ট, মুদির দোকান,বেকারী, ফুটপাতে বসা বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে স্বশরীরে হাজির হয়ে লেবার বডি ফিটনেস সার্টিফিকেট এবং সেনেটারী লাইসেন্সের নবায়ন ফি আদায় করে থাকেন।

অনুসন্ধানে গেলে ফরিদপুর জেলাশহরের টেপাখোলা রনি সুইটস এর পরিচালক রনি সাংবাদিকদের জানান , তার প্রতিষ্ঠানের ২জন কর্মচারীর লেবার বডি ফিটনেস ফিসহ সেনেটারী লাইসেন্সের নবায়ন ফি সহ ১৩০০ টাকা নিয়েছে। যেখানে সরকারী ধার্যকরা নবায়ন ফি মাত্র ১০ টাকা।

জেলা শহরের টেপাখোলা সুমন সুইটস এর পরিচালক জানান, গত বছর ৪০০০ টাকা দিয়েছি এ বছর এমন টাকাই লাগবে বলেছে।

জেলা শহরের রাজবাড়ি রাস্তার মোড়ে রবি মিষ্টান্ন ভান্ডারের পরিচালক শুনিল জানান, লাইসেন্স করতে এবার বেশী টাকা দাবী করেছেন। দাবীকৃত টাকা পরশোধ না করলে ম্যাজিষ্ট্রেট দিয়ে জরিমানা করায়। তাই বাধ্য হয়ে যেভাবে টাকা ধার্য করে সেইভাবে পরিশোধ করি।

শহরের নতুন বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় বিসমিল্লাহ হোটেল এন্ড রেস্তোরার পরিচালক মোঃ মতিয়ার খান বলেন, আমার প্রতিষ্ঠান থেকে এ বছর জেলা সেনিটারী ইন্সপেক্টর বজলুর রশিদকে নগদ হাতে দিয়েছি ১২০০০ টাকা। এই টাকার কোনো রশিদ আমাকে দেয় নাই।

ফরিদপুর শহরের ঝিলটুলি টেরাকোটা চাইনিজ রেষ্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ জানান, এ বছর লেবার বডি ফিটনেস সার্টিফিকেট সহ সেনেটারী লাইসেন্সের নবায়ন ফি ১০,০০০ টাকা চেয়েছিলো জেলা সেনিটারী ইন্সপেক্টর বজলুর রশিদ। অনুরোধ করে তাকে ৮০০০ টাকা দেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু কোনো জমা রশিদ প্রদান করেনি।

শহরের আলীপুর মোড়ে পাচতারা হোটেল এন্ড রেষ্টুরেন্ট এর পরিচালক লিয়াকত হোসেন লিটন জানান, তার প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি কর্মচারীর জন্য ৮০০ টাকা আর জেলা সেনিটারী ইন্সপেক্টর বজলুর রশিদ নিজে সরেজমিনে আসায় তাকে কিছু বাড়তি টাকা দেওয়া হয়েছে। তবে রশিদ প্রদান করেননি।

এ বিষয়ে ফরিদপুর পৌরসভার মেয়র অমিতাব বোস সাংবাদিকদের জানান,ফরিদপুর পৌরসভা এলাকার ভ্যাট, ট্যাক্স মুলত পৌরকর্তৃপক্ষ আদায় করবে কিন্তু সেখানে দীর্ঘদিন ধরে দূর্নীতি করছে ফরিদপুর সিভিলসার্জন অফিসের জেলা সেনিটারী ইন্সপেক্টর বজলুর রশিদ। তিনি পৌর এলাকার প্রতিটা ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে গিয়ে মোটা অংকের টাকা আদায় করছে। যা আইনবিরোধী বলে মনে করি।

মেয়র আরো বলেন, আমি বিষয়টি জানার পর সিভিল সার্জনকে এবং জেলা প্রশাসক কায়ালয়ের এ ডি সিকে অবগত করেছি। কিন্তু তার পরও জেলা সেনিটারী ইন্সপেক্টর বজলুর রশিদ তার কার্যক্রম বহাল রেখেছে। যেখানে এই দায়িত্ব পালনের কথা ফরিদপুর পৌরসভার যা কাগজে কলমে লিপিবদ্ধ রয়েছে।

এ বিষয়ে ফরিদপুর সিভিলসার্জন ডাঃ মোঃ ছিদ্দীকুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, আমি এ ঘটনার বিষয়ে অবগত হয়েছি কিন্তু কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। কেউ লিখিকভাবে অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবো।

এ বিষয়ে ফরিদপুর পৌরসভার সেনেটারী ইন্সপেক্টর মোঃ মামুন হোসেন সাংবাদিকদের জানান, আমি ৩ মাস ধরে দায়িত্ব পেয়েছি কিন্তু তা পালন করতে পারছি না। কারন ফরিদপুর পৌরসভার এই জায়গাটিতে কাজ করে যাচ্ছে ফরিদপুর সিভিলসার্জন কার্যালয়ের জেলা সেনিটারী ইন্সপেক্টর বজলুর রশিদ । আমি যেই প্রতিষ্ঠানেই যাই সেখান থেকে আমাকে বলে ফরিদপুর সিভিলসার্জন কার্যালয়ের জেলা সেনিটারী ইন্সপেক্টর বজলুর রশিদ ভাই আপনাকে প্রতিষ্ঠানে আসতে নিষেধ করেছে। এই দায়িত্ব সিভিলসার্জন কার্যালয়ের। বিধায় কাজ না করতে পেরে আমি ফরিদপুর পৌরসভার মেয়র সাহেব কে অবগত করেছি।

দূর্নীতির নানান অভিযোগ নিয়ে জেলা সেনিটারী ইন্সপেক্টর বজলুর রশিদ সাংবাদিকদের জানান, এসব মিথ্যা তথ্য। আমাকে ফাসাতে কেউ এসব রটিয়ে বেড়াচ্ছে।

উল্লেখ্য যে , ফরিদপুর জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সেনিটারী ইন্সপেক্টর বজলুর রশিদের বিরুদ্ধে পূর্বেও নানান অনিয়ম এবং দূর্নীতির অভিযোগে বেশ কয়েকটি জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিলো কিন্তু সেটা তার ডিপার্টমেন্ট সেই বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

(ডিসি/এসপি/নভেম্বর ১৭, ২০২১)

পাঠকের মতামত:

১৪ মার্চ ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test