E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

৯ ডিসেম্বর হানাদার মুক্ত হয় নাগরপুর

২০২১ ডিসেম্বর ০৯ ১৮:০৯:৩৪
৯ ডিসেম্বর হানাদার মুক্ত হয় নাগরপুর

মোঃ সিরাজ আল মাসুদ, টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় হানাদার মুক্ত দিবস পালিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৯ ডিসেম্বর) এই দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনে উপজেলা প্রশাসন ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। 

১৯৭১ সালের ৯ ডিসেম্বর এই দিনে বাংলার সূর্য সন্তানরা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কবল থেকে নাগরপুর উপজেলাকে মুক্ত করে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। জয় বাংলা স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে উঠে পুরো নাগরপুর উপজেলা। স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনে মুক্তিবাহিনীর বাইরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৃথক বাহিনী গড়ে উঠে। এর মধ্যে টাঙ্গাইলের কাদেরিয়া বাহিনী ও বাতেন বাহিনী অন্যতম। এই দুই বাহিনীর বীরত্বপূর্ণ যুদ্ধের কাহিনী সে সময় দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে। সারা দেশের মতো হানাদারদের দ্বারা ক্ষত-বিক্ষত টাঙ্গাইলের সর্ব দক্ষিণে ধলেশ্বরী নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন নাগরপুরকে শত্রু মুক্ত করতে কাদেরিয়া বাহিনী ও বাতেন বাহিনী বেশ কয়েকবার আক্রমণ করলেও চূড়ান্ত সফলতা পেতে সময় লেগে যায় ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

নাগরপুর উপজেলা সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ সুজায়েত হোসেন বলেন, আমরা মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধের সেই সময়ে নাগরপুরকে হানাদার মুক্ত করতে সফল হই ও ৬ জন হানাদার হত্যা হয় ও প্রায় ৩০ জন আহত হয়। আমরা শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। আমাদের নাগরপুরে গণকবর ও মুক্তিযোদ্ধাদের কবর গুলো বর্তমান সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আমি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করবো যেনো দ্রুত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কবর চিহ্নিত করে সংস্কারের পদক্ষেপ নেওয়া হয়।এছাড়াও তৎকালীন নাগরপুর থানা টর্চার সেল হিসেবে ব্যবহার করায় বহু মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ জনগণকে সেখানে হত্যা হয়েছিলো, আমরা সেখানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের জোর দাবি জানাচ্ছি।

নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিফাত-ই-জাহান বলেন, আজ নাগরপুরের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে আমরা উপজেলা প্রশাসন গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি ও দিবসটি পালনে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছি।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ২৯ নভেম্বর উপজেলার কেদারপুরে প্রায় চার হাজার মুক্তিযোদ্ধা নাগরপুর থানায় হানাদারদের আক্রমণের জন্য সমবেত হয়। খবর পেয়ে হানাদার বাহিনী দুইটি যুদ্ধ বিমান নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের উপর আক্রমণ করে তাদের এ পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেয়। পুনরায় শক্তি সঞ্চয় করে নাগরপুর থানা দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠে মুক্তিবাহিনী। অবশেষে কাদেরিয়া বাহিনী ও বাতেন বাহিনীর যৌথ আক্রমণে স্থায়ীভাবে হানাদার মুক্ত হয়। নাগরপুরবাসী ৯ মাসের দুঃখ বেদনা মুহূর্তেই ভুলে সমস্বরে জয়বাংলা- জয় বঙ্গবন্ধু ধ্বনিতে আকাশ বাতাস মুখরিত করে।

উল্লেখ্য, পুস্পস্তবক অর্পণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোঃ ইকবাল হোসেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ হুমায়ুন কবির, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সালমা বেগম, বীর মুক্তিযোদ্ধা লক্ষীকান্ত সাহা, বীর মুক্তিযোদ্ধা নিরেন্দ্র কুমার পোদ্দার, বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম সরোয়ার ছানা, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক খুরশীদুন্নাহার ভূঁইয়াসহ সকল ইউনিয়নের কমান্ডার ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা ।

(এসএম/এসপি/ডিসেম্বর ০৯, ২০২১)

পাঠকের মতামত:

২৫ আগস্ট ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test