E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

ভোক্তার সাথে এ কেমন প্রতারণা?

প্রতারণার নতুন ফাঁদ প্যাকেটজাত খাদ্য পণ্যের ওজন কম!

২০২২ জানুয়ারি ৩০ ১৮:৪১:১১
প্রতারণার নতুন ফাঁদ প্যাকেটজাত খাদ্য পণ্যের ওজন কম!

মোঃ শান্ত, নারায়ণগঞ্জ : প্রতারণার বিভিন্ন নতুন কলাকৌশলের মাধ্যমে প্রতারণা করা হচ্ছে জনগণের সাথে। এর মধ্যে অন্যতম হলো প্যাকেট জাত খাদ্য। যা কখনো ভোক্তা বা ব্যবহারকারি ওজন করে ক্রয় করেনা। তারই ফায়দা হাসিল করছে কিছু অসাধু খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহকারি কোম্পানি গুলো। মানুষের পাঁচটি মৌলিক অধিকারের মধ্যে অন্যতম হলো খাদ্য অধিকার। এই মৌলিক অধিকারকে নিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ি লুফে নিচ্ছে ভোক্তার ভোগ্য অধিকার। এমনি এক খাদ্য উৎপাদন প্রতিষ্ঠান হলো শামাম এগ্যো ফুডস লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত পেকেট জাত খাদ্যপণ্যের জ্বাল চানাচুর পণ্যটির ওজন পরিমানে কম দিয়ে ভোক্তাদের সাথে করছে প্রতারণা। ভোক্তা যেন নিরুপায়। এ যেন দেখার কেউই নেই বলছে সাধারণ ভোক্তা। 

নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকার সর্বত্র এই খাদ্য প্রতিষ্ঠানটির জ্বাল চানাচুর সহ ১২ থেকে ১৫ ধরনের প্যাকেট জাত খাদ্যপণ্য পাওয়া যায়। এছাড়াও বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় রয়েছে এদের বিস্তার। শামাম এগ্যো ফুডস লিমিটেডের জ্বাল চানাচুর পণ্যের প্যাকেটে লেখা ২০(বিশ) গ্রাম কিন্তু ওজন করে দেখা যায় ১৫(পনেরো) গ্রাম।

এবিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ সনের ২৬ নং এর (৪৬) এ বলা হয়েছে কোন ব্যক্তি কোন পণ্য সরবরাহ বা বিক্রয়ের সময় ভোক্তাকে প্রতিশ্রুত ওজন অপেক্ষা কম ওজনে উক্ত পণ্য বিক্রয় বা সরবরাহ করিলে তিনি অনূর্ধ্ব এক বছর কারাদণ্ড বা অনাধিক পঞ্চাশ (৫০) হাজার টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হইবেন।

ভুক্তভোগী সোহেল রানা বলেন, আমি প্রায় সময়ই জ্বাল চানাচুর পণ্যটি ক্রয় করি। তেমনি একদিন দোকান থেকে এই পণ্যটি ক্রয় করার পর কৌতুহল বসত ওজন মাপার মেশিনের উপর রাখি। ঠিক তখনি আমার নজর পরে প্যাকেটের গায়ে লিখা বিশ (২০) গ্রাম কিন্তু মেশিনে দেখা যায় পনেরো (১৫) গ্রাম। তখনি আমি এই কোম্পানির আরো কয়েকটি চানাচুরের প্যাকেট ওজন করে দেখি সবকটিতে একই অবস্থা। এইভাবেই কি ভোক্তার সাথে প্রতারণা করা হবে? এমনি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে ভুক্তভোগী সোহেলের মনে। এবিষয়ে তিনি ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

শামাম এগ্রো ফুডস লিমিটেডের পণ্য পাওয়া যায় এমন কিছু দোকানের দোকানদার কে এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করার পর তারা একই কথা জানান, আমরা তো ওজন করে ক্রয় করিনা। প্যাকেট গননা করেই ক্রয় করি। এবং কোম্পানির লোকেরা ও আমাদের প্যাকেট হিসেব করে দিয়ে যায়।

এবিষয়ে জানতে শামাম এগ্রো ফুডস লিমিটেডের সেলস ম্যানেজার মোঃ মাহমুদুল হাসান খানের মুঠোফোনে কয়েক বার কল করা হলেও তার মুঠোফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে উক্ত কোম্পানির নারায়ণগঞ্জ জেলার দ্বায়িত্বে থাকা ডিএসএম মোঃ আমিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ২০ গ্রাম ছিলো আগে এখন ওজন কমানো হয়েছে। ৫ গ্রাম কমে আছে কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন কোন কারনে হয়তোবা মিস্টেক হয়েছে। তিনি আরো জানান, নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর জোন সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের কোম্পানির পণ্য হরদমে চলছে।

(এস/এসপি/জানুয়ারি ৩০, ২০২২)

পাঠকের মতামত:

০১ মে ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test