E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

নেতৃত্বে আসতে দৌড়ঝাঁপ শুরু

পদ রক্ষায় ইউনিয়ন কমিটি দিচ্ছে কর্ণফুলী যুবলীগ!

২০২২ ফেব্রুয়ারি ২৬ ১৫:২৮:০৭
পদ রক্ষায় ইউনিয়ন কমিটি দিচ্ছে কর্ণফুলী যুবলীগ!

জে. জাহেদ, চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম কর্ণফুলীতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অন্যতম সহযোগী সংগঠন আওয়ামী যুবলীগ মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে বহু আগেই। মানে তাঁদের কমিটির মেয়াদ শেষ। তবুও এই কমিটির ঘাড়ে ভর করে উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নে যুবলীগের নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে, সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা কাটিয়ে চাঙ্গা ভাব ফিরে এসেছে তৃণমূলে।

বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, কর্ণফুলী উপজেলা যুবলীগের কমিটি ভেঙ্গে দিতে পারে যেকোন সময়। এমন আশঙ্কায় তড়িগড়ি করে ইউনিয়ন কমিটি দেওয়ার দৌঁড় শুরু করেছে সোলায়মান-সেলিমের কমিটি। যাতে আরো বছর খানেক তাঁরা পদে থাকতে পারেন। ওদিকে, ইউনিয়ন কমিটি হবে এমন খবরে চরপাথরঘাটা, চরলক্ষ্যা, শিকলবাহা, বড়উঠান ও জুলধা ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের নেতৃত্বে আসতে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন।

বিশেষ করে দীর্ঘদিন ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকা নেতাকর্মীরা যুবলীগের দায়িত্ব আসতে চেষ্টা-তদবির করছেন। কেনোনা, গত একযুগ থেকে ইউনিয়ন যুবলীগের ক্ষীণ অবস্থানকে গতিশীল ও সক্রিয় করতে রাজনীতির মাঠে সক্রিয় এবং ত্যাগী নেতৃত্বদের আনতে চেষ্টা করছেন উপজেলা যুবলীগের নেতাকর্মীরা।

যদিও গত পাঁচ বছরে ইউনিয়ন পর্যায়ে সম্মেলনতো দূরে থাক, কোন কমিটিই ঘোষণা করতে পারেনি সোলায়মান-সেলিমের কমিটি। ফলে, দীর্ঘদিন ধরে ইউনিট কমিটি না থাকায় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করেছিলো হতাশা, ঝিমিয়ে পড়েছিলো দলীয় কার্যক্রম। কিন্তু এখন ইউনিয়ন যুবলীগের কমিটি হবে এমন সংবাদে নেতাকর্মীদের দানা বাঁধা ক্ষোভে বরফ গলতে শুরু করেছে।

এতে সাবেক ও বর্তমান ছাত্রনেতা যারা ছাত্রত্ব শেষে যুবলীগ করার অপেক্ষায় এমন একাধিক ছাত্রনেতারা জানিয়েছেন, সম্মেলন হবে। নতুন নেতৃত্ব আসবে। এতে রাজনীতি বিকাশের পথ আর রুদ্ধ হবে না। তাই খুশি লাগছে। যদিও গত ২৮ নভেম্বর চট্টগ্রামে সাংগঠনিক সফরে আসেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈম এবং কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুর রহমান সোহাগ। এর আগে ২০১৯ সালে যুবলীগের এক প্রতিনিধি সভায় চট্টগ্রামে আসেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান খান নিখিল।

তাঁরা সকলেই নির্দেশনা ও তৃণমূলে কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়ে সে সময় বলেছিলেন, সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে যুবলীগকে সুসংগঠিত করতে হবে। যুবলীগের কমিটিতে ত্যাগী নেতা কর্মীদের মূল্যায়ণ করতে হবে। নিষ্ক্রিয় কর্মীদের যেনো স্থান দেওয়া না হয়।। কমিটিতে ভুলক্রমে স্থান পেলেও কেন্দ্রের নজরে এলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। হয়তো তাদের সে নির্দেশনা এখন আলোর মুখ দেখবে দক্ষিণ চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায়।

এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের দিক নির্দেশনায় কর্ণফুলী আওয়ামী যুবলীগকে চাঙ্গা ও গতিশীল করার লক্ষ্যে নতুন কমিটি গঠনের চিন্তা করেছেন সভাপতি সোলায়মান তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ সেলিম হক। যদিও তিন বছর মেয়াদি তাদের কমিটি এখন ৫ বছরে কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণ।

এই উপজেলায় যুবলীগের ৭১ সদস্যের সর্বশেষ কমিটি হয়েছিল ২০১৭ সালের ২৭ জানুয়ারি। ফলে, উপজেলা যুবলীগের অনেক নেতাকর্মীরা চান, মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির নবায়ন। বিতর্কিত নেতাদের দূরে সরিয়ে নতুন নেতৃত্ব তৈরির। কেননা, দীর্ঘদিন একই ব্যক্তিরা দায়িত্বে থাকায় দিন দিন বেপরোয়া হয়ে ওঠছে যুবলীগের কিছু নেতা। অনেকেই আবার মাদক ব্যবসা, হত্যা মামলার আসামি কিংবা কেন্দ্রের নির্দেশ অমান্য করে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বহিষ্কার ও গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনাও ছিল কর্ণফুলীতে আলোচিত।

সাংগঠনিক নেতৃত্বের দূর্বলতার কারণে দলের চেইন অব কমান্ডও ভেঙ্গে পড়েছিলো হয়তো। ফলে, নেতারা অপকর্মে জড়িয়ে গেলেও তাদের বারণ করার মতো নেতৃত্বের বিচক্ষণতার অভাব ছিলো বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত। তবে কর্ণফুলী উপজেলায় যুবলীগ বলতেই সোলায়মান তালুকদারের অনুসারিদের বুঝানো হয়। প্রকৃতপক্ষে অন্যান্য নেতাদের অনুসারি তেমন মাঠে-ময়দানে সক্রিয়ভাবে তেমন দেখা যায় না। আবার অনেকেই সমালোচনা করেছেন, কর্ণফুলীতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ইউনিয়ন কমিটির জন্য যোগ্যকর্মী ও সদস্য খুঁজে পাওয়াও কঠিনতর বিষয়। কেন সে প্রশ্নের উত্তরও অধরা।

জানতে চাইলে কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ সেলিম হক বলেন, ‘আমাদের কমিটির মেয়াদ শেষ সেটা সত্য। এটাও সত্য সংগঠনকে গতিশীল করতে হলে নির্দিষ্ট সময়ে কমিটি ভাঙ্গাগড়া উচিত। নতুন ভাবে সাংগঠনিক গতিশীলতায় কমিটি করার ব্যাপারে আমাদের রাজনৈতিক অভিভাবক মাননীয় ভূমিমন্ত্রী মহোদয়ও সব সময় চেষ্টা করেন। যদিও নিবার্চন ও করোনার কারণে আমাদের কিছুটা হোঁচট খেতে হয়েছে। তবুও এ মাসে আমরা প্রতিটি ইউনিয়নে সম্মেলন করে ইউনিয়ন কমিটি উপহার দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছি।’

কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি মোহাম্মদ সোলায়মান তালুকদার বলেন, ‘সাংগঠনিকভাবে দলে গতি আনতে আমরা ইউনিয়ন কমিটিগুলো ঘোষণা দেওয়ার জন্য প্রক্রিয়া শুরু করেছিলাম কিন্তু কমিটি না করতে কেন্দ্রের নির্দেশনা ও চিঠি আসায় তা করা সম্ভব হয়নি। অপরদিকে, উপজেলা কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে তা সত্য। তবুও আমাদের রাজনৈতিক অভিভাবক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপি’র সম্মতি ও জেলা যুবলীগের নির্দেশনায় শিগগিরই প্রতিটি ইউনিয়নে নতুন কমিটি উপহার দেওয়া হবে।’

মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি আ ম ম টি পু সুলতান চৌধুরী বলেন, ‘মেয়াদ শেষ হলেও করোনা প্রভাবের কারণে আমরা উপজেলা কমিটিগুলো করতে পারিনি। শুধু কর্ণফুলী নয়, দক্ষিণের সব উপজেলায় একই অবস্থা। আর ইউনিয়ন কমিটির বিষয়ে বলব, আমরা যে বর্ধিত সভা করেছিলাম, সেখানেই নির্দেশনা ছিলো কমিটি গুলো করে ফেলার। সংগঠনকে গতিশীল করা এবং আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে এটা চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে করা হচ্ছে।’

এমনকি দীর্ঘদিন যারা উপজেলায় দায়িত্বে ছিলেন তাঁরা কেন এতদিন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি দিতে পারেননি জানতে চাইলে যুবলীগ সভাপতি বলেন, ‘আসলে আমরা চেষ্টা করলেও নানা কারণে তা করতে পারিনি। এখন সম্মেলন করে নতুন কমিটি করার কার্যক্রম শুরু করব।’

(জেজে/এসপি/ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২২)

পাঠকের মতামত:

০৫ মার্চ ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test