E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

নির্মাণ সামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি

চট্টগ্রামে বন্ধের পথে ১২ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ 

২০২২ মার্চ ২৩ ১৫:২৫:১৩
চট্টগ্রামে বন্ধের পথে ১২ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ 

জে. জাহেদ, চট্টগ্রাম : গত ৯ মাসের ব্যবধানে নির্মাণ সামগ্রীর মূল্য বেড়েছে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ। চট্টগ্রাম এলজিইডি, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত বিভাগ, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ, পানি উন্নয়ন বাের্ড, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, বাংলাদেশ রেলওয়ে, জনস্বাস্থ্য এইচইডিসহ সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলমান। দাম বাড়ায় এতে সরকারের প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ বন্ধ হওয়ার পথে। অনেক কাজ ইতিমধ্যে আবার বন্ধও হয়ে গেছে।

আজ বুধবার সকাল ১১ টায় চট্টগ্রামে প্রেস ক্লাবের হলরুমে নির্মাণ সামগ্রীর অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ‘চট্টগ্রাম সম্মিলিত ঠিকাদার ফোরাম’ আয়োজিত মানবন্ধন ও সাংবাদিক সম্মেলনে এসব কথা বলেন সংগঠনটির আহ্বায়ক মোঃ গোলাম মুর্তজা (টুটুল) ও সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান টিটু।

ঠিকাদারেরা আরও বলেন, ৯ মাস পূর্বে রডের (প্রতি টন) বাজার মূল্য ছিল ৬২ হাজার টাকা বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ৯২ হাজার টাকা, পাথরের (প্রতি টন) বাজার মূল্য ছিল সাড়ে ৩ হাজার বর্তমানে তা বেড়ে এখন সাড়ে ৪ হাজার টাকা, প্রতি ব্যাগ সিমেন্ট এর বাজার মূল্য ছিল ৩৮০/৩৯০ টাকা বর্তমানে তা বেড়ে ৪৫০-৪৭০ টাকা, ইট ছিল (প্রতি হাজার) ৭ হাজার টাকা, তা বেড়ে হয়েছে ১১ হাজার, বিটুমিন ছিল (প্রতি ড্রাম) সাড়ে ৬ হাজার, তা বেড়ে এখন ১২ হাজার, বিটুমিন লিকুইড ছিল (প্রতি টন) ৩৮ হাজার তা বেড়ে এখন ৬৫ হাজাওে দাঁড়িয়েছে।

একই সময়ে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ বেড়েছে ইলেকট্রিক, হার্ডওয়্যার, সেনিটারীসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম। নির্মাণ শ্রমিকের মজুরীও বৃদ্ধি পেয়েছে। পূর্বে ছিল ৫০০ টাকা বর্তমানে ৭০০-৮০০ টাকা প্রতি জন লেবার। এতে চলমান প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। নির্মাণ কাজে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ওয়েল কোম্পানীর উৎপাদিত বিটুমিন ব্যবহার করা হতো। কিন্তু বিদেশ থেকে বিটুমিন আমদানীকারকদের কারসাজির কারণে দেশীয় বিটুমিনের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় একেবারেই কমে গেছে। তাছাড়া ড্রাম সংকট দেখিয়ে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ওয়েল কোম্পানী চাহিদা অনুযায়ী বিটুমিন সরবরাহ করছেন কম।

ফলে, বাজার সংকট দেখিয়ে বিটুমিন বিক্রি হচ্ছে প্রতি ড্রাম ১১ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা। এতে নির্মাণ খরচ ৩০% থেকে ৪০% বৃদ্ধি পাওয়ায় বেকাদায় পড়েছেন ঠিকাদাররা। তাই দাবি আদায়ের লক্ষে “চট্টগ্রাম সম্মিলিত ঠিকাদার ফোরাম" এর উদ্যোগে সাংবাদিক সম্মেলণের আয়োজন করেন।

সাংবাদিক সম্মিলনে ঠিকাদার সংগঠনের নেতারা লিখিত বক্তব্যে জানান, চট্টগ্রামে ঠিকাদার রয়েছে প্রায় তিন হাজার। সবাই সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের অংশীদার। কিন্তু গত ৯ মাস থেকে পর্যায়ক্রমে এবং গত ২ মাস থেকে নির্মাণ সামগ্রীর অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে ঠিকাদাররা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এবং অনেকেই ব্যাংক ঋণে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার কারণে দেউলিয়া হওয়ার আশঙ্কায় আছেন।

সরকারের চলমান প্রকল্পে কিছু প্রকল্প ২০১৪ সালের এবং কিছু প্রকল্প ২০১৮ সালের রেইট সিডিউল অনুযায়ী তৈরি করা। এলজিইডি ২০১৯ সালে রেইট সিডিউল করেছিল। আজ প্রায় ৩-৪ বছর নতুন কোন রেইট সিডিউল তৈরি করা হয় নাই। তাই পুরাতন রেইটে কাজ করে ঠিকাদাররা প্রচুর আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে এবং অনেক ঠিকাদার দেউলিয়া হওয়ার পথে ।

সাংবাদিকদের তাঁরা আরো জানান, ২০১৮ সালের চডউ এর রেইট সিডিউলে এবং ২০১৯ সালের এলজিইডিসহ বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের রেইট সিডিউলে ভ্যাট ৬% এবং আয়কর ৫% ছিল। বর্তমানে নতুন রেইট সিডিউল না হওয়ার কারণে ভ্যাট/আয়কর রেইটের সাথে সংযােজন না করে ভ্যাট ৭.৫% এবং আয়কর ৭% করে কাটা হচ্ছে, যা ঠিকাদারদের সাথে চুক্তির বর্হিভূত।

ঠিকাদারেরা এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সরকারের কাছে নির্মাণ সামগ্রীর মূল্য কমানাের দাব জানিয়ে সরকার তথা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

পাশাপাশি সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পে বাধা সৃষ্টিকারী অসাধু সিন্ডিকেট ব্যবসায়ী কর্তৃক নির্মাণ সামগ্রীর অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির এই মানববন্ধন ও সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রিক মিডিয়ার সাংবাদিক, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও চট্টগ্রাম সম্মিলিত ঠিকাদার ফোরামের নেতৃবৃন্দ।

(জেজে/এসপি/মার্চ ২৩, ২০২২)

পাঠকের মতামত:

১৪ মার্চ ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test