E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

কর্ণফুলীতে দেখা নেই ‘ভ্রাম্যমান আদালত’

বাড়তি মূল্যে লাগামহীন বাজার, টেনে ধরার লোক নেই!

২০২২ এপ্রিল ১৭ ১৭:৪১:৩৬
বাড়তি মূল্যে লাগামহীন বাজার, টেনে ধরার লোক নেই!

জে.জাহেদ, চট্টগ্রাম : দেখতে দেখতে পবিত্র রমজান মাসের প্রায় অর্ধেক সময় চলে গেলেও চট্টগ্রাম কর্ণফুলী উপজেলায় বিভিন্ন মাংসের দোকানে এখনো দাম কমছে না। শিকলবাহা মাস্টারহাট, কলেবাজার, মইজ্জ্যোরটেক বাজার, চরপাথরঘাটার পুরাতন ব্রিজঘাটে দেদারছে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে গরু, মহিষ, ছাগল ও খাসির মাংস। 

কিন্তু প্রতি রমজানে বাজার মনিটরিং ও ভ্রাম্যমান আদালতের উপস্থিতি চোখে পড়লেও এবারে কোথাও সেভাবে উপজেলা প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। উল্লেখিত বাজার ঘুরে তথ্য পাওয়া যায়, গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা কেজিতে। আর খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা কেজিতে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, গরুর দাম কমেনি, তাই আমরা কম দামে মাংস বিক্রি করতে পারছি না। ’

উপজেলার সাধারণ মানুষ বলেছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম বেড়েছে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মাংসের দামও। তাই অন্য প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার পর মাংস কেনার মতো টাকা হয় না অনেকের। তাই মাংস কিনতে পারছেন না মানুষ।

যদিও পুরাতন ব্রিজঘাটে দৈনিক ৭/১০টি গরু জবাই করলেও বিকালে ভালো মাংস পাওয়া যায় না। বাজারের অন্যান্য ব্যবসায়িরা জানান, ব্রিজঘাট বাজার থেকে বিভিন্ন জাহাজের স্টাফরা বাজার করেন। বাজার করতে আসেন উপজেলার একাধিক কারখানার চাকরিজীবি ও কোম্পানীর লোকজন। আসেন হাজার হাজার গার্মেন্টস শ্রমিকও। তাতেই নাভিশ্বাস পুরো বাজার জুড়ে।’

খোয়াজনগর এলাকার আব্দুল শুক্কুর বলেন, গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা কেজিতে। হাড়সহ মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকা থেকে ৭০০ টাকায়। আর গরুর বট বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা কেজিতে। এত দামে মাংস চট্টগ্রামের কোথাও বিক্রি হয় বলে মনে হয় না। মূলত নিয়মিত বাজার মনিটরিং না থাকার কারণে এসব হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।’

কর্ণফুলীর আরিফ হোসেন বলেন, দেশী মাংসের আড়ালে খুচরা ব্যবসায়িরা ভারতের ফ্রিজিং মাংস ছড়িয়ে দিচ্ছে। আর ব্রিজঘাটের ব্যবসায়িরা সবাই সিন্ডিকেট জোট। শুধু মাংস বিক্রেতা নয়, চরপাথরঘাটার পুরাাতন ব্রিজঘাটের সকল ব্যবসায়িরা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছেন। আশেপাশের অন্যান্য বাজার থেকে এখানে সব ধরনের জিনিসের দাম বেশি। সবজির দাম কেজিতে ২০/৩০ টাকা বেশি। যা মইজ্জ্যারটেক ও ফকিরন্নিরহাটে কম। ফলমূলে ব্রিজঘাট বাজারের চেয়ে মইজ্জ্যারটেক দামে সস্তা বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, মূলত মাংস ব্যবসায়িরা বাকিতে গরু কিনে বেশি দামে। তাই মাংসের দাম বেশি রাখেন। মাংস বিক্রেতা মোঃ শফি বলেন, পরিচিতদের কাছে সর্বনি¤œ ৬৫০ টাকা কেজিতে মাংস বিক্রি করছি। এমনিতে ৭০০-৭৫০ টাকায় বিক্রি করছি। তবে দোকানে মাংসের দাম টাঙানো হয়নি কেজি কত দরে মাংস বিক্রি হবে।’

বাজার করতে আসা মোঃ রুবেল বলেন, মাছ-মাংস, মুরগি কোনো কিছুর দামই কমছে না। আর দুই সপ্তাহ পর ঈদ, মানুষ ঈদের কেনাকাটা শুরু করেছে। যদিও অভাবে লোকজন। গত দুই বছরের টানা করোনায় জনজীবনে ক্লান্তি। খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া বাজারে আসছে না। তারপরও মাংসের দাম কমছে না।’

সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য মতে, শহরের বিভিন্ন জায়গায় গরুর মাংস কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৬৫০-৬৮০ টাকায়। যা এক মাস আগেও ছিল ৬২০-৬৫০ টাকা। এক বছর আগের একই সময়ের চিত্র ছিল আরও ভিন্ন। ওই সময় গরুর মাংসের কেজি ছিল ৫৭০-৬০০ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে গরুর মাংসের দাম কেজিতে বেড়েছে ১০০-১২০ টাকা।

টিসিবির তথ্য মতে, খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮৫০-৯৫০ টাকা কেজিতে। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৫৫-১৭০ টাকা কেজিতে। আর দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজিতে। এদিকে রমজান মাসে মাংসের দাম সহনীয় পর্যায়ে আনতে উপজেলা জুড়ে কোন ভ্রাম্যমান ম্যাজিস্ট্রেটের অভিযান লক্ষ্য করা যায়নি।

অভিযানের বিষয়ে জানতে একাধিকবার কল করা হলেও উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ম্যাজিস্ট্রেট শাহিনা সুলতানার কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি। একই ভাবে চেষ্টা করা হয় সহকারি কমিশনার (ভূমি) শিরিন আক্তারের মুঠোফোনে। তবে উপজেলা সূত্র জানায়, ইউএনও ম্যাডাম বদলি হওয়ায় এখন আর মাঠে তেমন যাচ্ছেন না।

একাধিক মাংস ব্যবসায়িরা বলেন, মাংস ব্যবসা এখন আর খুচরা ব্যবসায়ীদের হাতে নেই। আমদানিকারকদের হাতে চলে গেছে মাংসের বাজারের নিয়ন্ত্রণ। সরকারের উচিত বাজার তদারকি করা।

(জেজে/এসপি/এপ্রিল ১৭, ২০২২)

পাঠকের মতামত:

২৫ আগস্ট ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test