E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

‘ট্রেনকে ধাক্কা দিয়ে কেউ যদি দুর্ঘটনা ঘটায়, এ দায় কি রেলের’

২০২২ আগস্ট ০১ ১৭:০৯:৪৯
‘ট্রেনকে ধাক্কা দিয়ে কেউ যদি দুর্ঘটনা ঘটায়, এ দায় কি রেলের’

তুষার কান্তি বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ : রেলপথ মন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন প্রশ্ন করে  বলেছেন, ট্রেনকে ধাক্কা দিয়ে কেউ যদি দুর্ঘটনা ঘটায়, এ দায় কি রেলের? কারণ, ট্রেন তো নিজের পথে চলে। অন্যের পথে কখনো ট্রেন চলে না। ট্রেন কখনো কাউকে ধাক্কা দেয় না। অন্যরা (বিভিন্ন যানবাহন) এসে ট্রেনকে ধাক্কা দেয়।  অন্যরা বরং রেললাইনের ওপর দিয়ে রাস্তা তৈরি করে চলাচল করে। তাহলে তাদের দায়িত্ব, জনগণ ও যানমালের নিরাপত্তা দেওয়া।

আজ সোমবার (১ আগস্ট) গোপালগঞ্জ রেল স্টেশনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ভ্রাম্যমাণ রেল জাদুঘর দেশব্যাপী প্রদর্শণের শুভ সূচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, রেলে ব্যারিকেড বা গেট দেওয়া হয় অন্যের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য না, রেলকে কেউ যাতে অনিরাপদ করতে না পারে, রেলের নিরাপত্তার জন্যই এসব গেট দেওয়া হয়। রেললাইনের ওপর দিয়ে পথ বানিয়ে যারা চলাচল করেন, তাদের উচিত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা। কারণ ট্রেন যখন চলে, তখন রেল আইন মতে ১৪৪ ধারা জারি থাকে। ১৪৪ ধারা অমান্য করে কেউ যদি লাইনে উঠে যায়, তাহলে অপরাধ তার, ট্রেনের নয়। ট্রেন তো বড় গাড়ি। তাই অনেকেই না বুঝে রেলের দোষ দিই।

তিনি আরো বলেন, কোন মৃত্যুই আমাদের কাম্য নয়। কোন দুর্ঘটাই কাম্য নয়। এ দুর্ঘটনা রেলের নয়। ট্রেন যদি নিজের লাইন রেখে অন্যের বাড়িতে ঢুকে পড়ে, তাহলে এটা ট্রেনের দুর্ঘটনা হবে। তার দায়িত্ব রেল নেবে। কিন্তু স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, উপজেলা, পৌরসভা ও গ্রামীন রাস্তা রেল ক্রস করেছে। সেখানে কি ব্যবস্থাপনার মধ্যে আমরা জনগনের যানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারব। কোন দুর্ঘটনা যাতে না হয়, সেইটা এককভাবে রেলের ওপর না দিয়ে যৌথভাবে আমরা কিভাবে নিশ্চিত করতে পারি। সেই ব্যবস্থাটি আমাদের খুঁজে বের করতে হবে।

রেলমন্ত্রী আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে সবচেয়ে ক্ষতি হয়েছিল রেলের। বঙ্গবন্ধু রেলকে নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর রেলকে সংকুচিত করা হয়। একটি ভারসাম্যপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ছাড়া একটি দেশের উন্নয়ন সম্ভব না। যে দেশ যত উন্নত, সে দেশের রেলপথ তত উন্নত। তাই বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে রেলকে পুনর্গঠনের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় গঠন করেছেন। রেল মন্ত্রণালয় রেলের উন্নয়নে নতুন নতুন পথ তৈরি করেছে।

আগামী ডিসেম্বরে খুলনার সাথে মোংলার সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্থাপন করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, পদ্মা সেতু হয়ে যশোর পর্যন্ত ১৭২ কিলোমিটার তৈরি করা হচ্ছে। ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে পদ্মা সেতু হয়ে ভাঙ্গা পর্যন্ত রেল চালু করা হবে। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত নতুন রেলপথের কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে পর্যটকরা ট্রেনে করে কক্সবাজার যেতে পারবেন।

গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানার সভাপতিত্বে রেলের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্রনাথ মজুমদার (ডিএন মজুমদার) , অতিরিক্ত মহাপরিচালক মঞ্জুর উল আলম চৌধূরী পুলিশ সুপার আয়েশা সুলতানা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান বক্তব্য দেন। এসময় রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দুপুর ১ টায় রেলমন্ত্রী টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি সৌধের বেদীতে ফুল দিয়ে শোকাবহ আগস্টের শ্রদ্ধা জানান। এসময় তিনি পবিত্র ফাতেহা পাঠ করে বঙ্গবন্ধু ও ৭৫ এর ১৫ আগস্টের শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত করেন।

(টিকেবি/এসপি/আগস্ট ০১, ২০২২)

পাঠকের মতামত:

১১ মার্চ ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test