E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

আউট অব স্কুল চিলড্রেন এডুকেশন কর্মসূচির শিক্ষকদের মানবেতর জীবন

২০২২ আগস্ট ০৪ ১৬:৩২:৩৫
আউট অব স্কুল চিলড্রেন এডুকেশন কর্মসূচির শিক্ষকদের মানবেতর জীবন

বিশেষ প্রতিনিধি : বেতন না পাওয়ায় মানবেতর জীবন যাপন করছে মাগুরার আউট অব স্কুল চিলড্রেন এডুকেশান কমসূচির শিক্ষকেরা। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সহযোগিতায় মাগুরায় এ কমসুচি বাস্তবায়ন করছে রোভা ফাউন্ডেশান । ৬ মাস বেতন না পেয়ে চরম হতাশায় ভুগছে কর্মসূচির শিক্ষকেরা ।

রোভা ফাউন্ডেশান সুজানায় , জেলার ৪ টি উপজেলায় চলছে আউট অব স্কুল চিলড্রেন এডুকেশান কর্মসুচির কার্যক্রম । ২৮০ টি শিখন কেন্দ্রে শিক্ষা গ্রহণ করছে ৭৯২৪ শিশু। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া বা কোনদিন স্কুলে যায়নি এরকম ৮ থেকে ১৪ বছরের শিশুরা শিক্ষা নিচ্ছে এসব স্কুলে। গত ১৫ ডিসেম্বর মাগুরায় যাত্রা শুরু করে ২৮০ টি শিখন কেন্দ্র । মন্তণালয় সিদ্ধান্ত নেয় কার্যক্রম ভেলিডেশানের ভিত্তিতে প্রদান করা হবে বেতন ও অন্যান্য ব্যয় । উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রধান করে গঠন করা হয় উপজেলা ভেলিডেশান কমিটি। ভেলিডেশানের নিমিত্তে চিঠি প্রেরিত হয় গত ৩১ মে। কিন্তু অদ্যাবধি ভেলিডেশান শেষ না হওয়ায় বেতন হয়নি ২৮০ শিক্ষকের । তাদের দিন কাটছে চরম অনটনে ।

রোভা ফাউন্ডেশান নির্বাহী পরিচালক কাজী কামরুজ্জামান জানান , ভেলিডেশান কমিটিতে নির্ধারিত ব্যক্তিদেরকে পাশ কাটিয়ে ভেলিডেশান চলছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আর নৈশ প্রহরীকে দিয়ে । অথচ প্রথম থেকেই তাদের অনেকেই এ কর্মসুচিকে মেনে নিতে পারেননি । যেহেতু আমরা ঝরে পড়া শিশুদেরকে খুজে বের করছি , আর অন্যদিকে তাদের দাবি ঝরে পড়া নেই, তাই এ কর্মসুচি তাদের অনেকেরই গাত্রদাহ। সত্যিকার অর্থে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরকে দিয়ে ভেলিডেশান শুটকির হাটে বেড়ালকে চোকিদারের দায়িত্ব।

মাগুরা সদর উপজেলার কচুন্দি শিখন কেন্দ্রের শিক্ষিকা লাবণী খাতুন বলেন, ভেবেছিলাম এই বেতন দিয়ে আমার সন্তানের চিকিৎসা করবো । কিন্তু বেতনতো পেলামনা , চিকিৎসার কি হবে ? ছান্দরা পুর্বপাড়া শিখন কেন্দ্র শিক্ষিকা কাকলি খাতুন বলেন, ছান্দরা পুর্বপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোশাররফ হোসেন কিছুদিন আগে এখানে এসে বলেন আমি তোমাদের কেন্দ্র পরিদর্শনে এসেছি । আমার রিপোর্ট দেওয়ার পর তোমাদের কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাবে । আমি চাকরি করলে, বেতন পেলে আপনার অসুবিধা কিসের প্রশ্ন করলে তিনি জানান, তুমি বেতন পেলে আমার বেতন বন্ধ হবে । তোমাদের কর্মসুচি সফল হলে আমাদের চাকরি থাকবেনা । আমি কেন তা হতে দেবো ?

ভেলিডেশান কমিটির সদস্য শালিখা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শারমীন আক্তার জানান, আমি ভেলিডেশানের বিষয়ে কিছু জানিনা ।

কমিটির অন্য সদস্য শালিখা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা প্রভাষ চন্দ্র গোস্বামীও একই কথা বলেন ।

উপান্ষ্ঠুানিক শিক্ষা ব্যুরো, মাগুরা সহকারী পরিচালক সরোজ কুমার দাস জানান ভেলিডেশান না হওয়ার কারণে শিক্ষকদের বেতন দেয়া যায়নি । বেতনের বরাদ্দকৃত ৮৪ লক্ষ, ৮০ হাজার টাকা আমরা রিফান্ড করতে বাধ্য হয়েছি
শালিখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ তারিফ উল হাসান বলেন, আমি কোন শিক্ষককে ভেলিডেশানের কথা বলিনি, তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে ।

(এম/এসপি/আগস্ট ০৪, ২০২২)

পাঠকের মতামত:

০৪ মার্চ ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test