E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

বিকেলে প্রত্যাহার, সন্ধ্যায় প্রত্যাখান

ফের আন্দোলনে মৌলভীবাজারের চা শ্রমিকরা!

২০২২ আগস্ট ২১ ১৮:৫৮:১৫
ফের আন্দোলনে মৌলভীবাজারের চা শ্রমিকরা!

মোঃ আব্দুল কাইয়ুম, মৌলভীবাজার : দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধবগতিতে ১২০ টাকায় সংসার চলেনা,তাই দৈনিক মজুরি বৃদ্ধি ৩০০ টাকা বাড়ানোর দাবিতে চা শ্রমিকদের চলমান শ্রমিক ধর্মঘটের প্রেক্ষাপটে শনিবার (২০ আগষ্ঠ) বিকালে শ্রীমঙ্গলের শ্রম অধিদপ্তরের মহা পরিচালক খালেদ মামুন চৌধুরী, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ ড. মো. আবদুস শহীদ এমপি, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেট ও চট্টগ্রামসহ ৪টি জেলার জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠকে বসেন চা-শ্রমিক ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা। ওই বৈঠকে চা-শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা থেকে ২৫ টাকা বাড়িয়ে ১৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্বাসে সরকারের এই প্রস্তাব শ্রমিকেরা মেনে নিয়েছেন বলে বৈঠক শেষে জানান চা শ্রমিক ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল। 

এরপর থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হতে থাকে দৈনিক ১৪৫ টাকা মজুরি শ্রমিকরা মেনে নিয়ে চলমান আন্দোলন কর্মসূচি প্রত্যাহারের। কিন্তু সন্ধ্যার পর পরই পাল্টাতে থাকে দৃশ্যপট। একদিকে প্রত্যাহার,আরেকদিকে মজুরি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাখান করে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল,কমলগঞ্জ ও বড়লেখার বিভিন্ন চা বাগানের শ্রমিকরা আন্দোলনে নেমে ফের কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষনা দেন। গতরাত শনিবার ৮ টার দিকে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের চৌমোহনায় রাস্তা বন্ধ করে ফের ৩০০ টাকা মজুরির দাবিতে সড়কে অবস্থান নেয় চা– শ্রমিকরা। এসময় শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন চা বাগানের শ্রমিকদের মুর্হুমুহু শ্লোগানে সড়কজুড়ে উত্তাপ শুরু হলে যান চলাচলেও কিছুটা বিঘœ ঘটে।

রোববার (২১) চলমান মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে দেশের ১৬৭টি চা বাগানের মধ্যে মৌলভীবাজার জেলায় অবস্থিত ৯৩টি চা বাগানের মধ্যে বেশ কিছু চা বাগানে শ্রমিকরা ধর্মঘট পালন করেছে বলে জানা গেছে। এতে কার্যত অচল হয়ে পড়ে জেলার চা শিল্প। শ্রমিক আন্দোলনের কারনে চরম লোকশানের মুখে জেলার চাবাগান গুলো। এতে উৎপাদন ব্যাহত হবার পাশাপাশি সংগ্রহকৃত কাঁচা পাতাও নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি শ্রমিকরাও কাজে না ফেরায় দৈনিক মজুরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

রোববার বিকালের দিকে শ্রীমঙ্গলের বেশ কয়েকটি চাবাগানের সার্বিক চিত্র জানতে সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ করেও কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। চা শ্রমিক ইউনিয়ন নেতা রামভজন কৈরি ও মনু ধলাই ভ্যালির সভাপতি ধনা বাউরির মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোন সারা মেলেনি।

এদিকে গতকাল বিকেল চারটায় যখন ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা আসে, তখনই ওই ঘোষণা বিভিন্ন চা বাগানে ছড়িয়ে পড়লে শ্রমিকরা বিক্ষোব্ধ হয়ে রাজপথে বেড়িয়ে আসেন। বিকালে ১৪৫ টাকা দৈনিক মজুরি প্রস্তাব মেনে নিলেও পরবর্তীতে শ্রমিক রোষানলে পড়ে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের মনু ধলাইসহ বিভিন্ন ভ্যালির নেতারাও ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

(একে/এসপি/আগস্ট ২১, ২০২২)

পাঠকের মতামত:

৩০ এপ্রিল ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test