E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

জার্মান সুন্দরী এখন গোপালগঞ্জের বধূ 

২০২৩ ফেব্রুয়ারি ২১ ১৫:২৫:২২
জার্মান সুন্দরী এখন গোপালগঞ্জের বধূ 

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : প্রকৃতিতে ঋতৃরাজ বসন্ত। চারিদিকে ফুলের সমরহ। স্নীগ্ধ এমন মধুময়  পরিবেশে প্রেমের টানে  জার্মান সুন্দরী জেনিফার স্ট্রায়াস গোপালগঞ্জে ছুটে এসছেন। প্রিয় মানুষটির সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।  ভিন দেশি বধূ পেয়ে খুশি পরিবারের সদস্যরা। পরিবার জুড়ে তাই বইছে খুশির বন্যা। পরিবারের সদস্যদের আনন্দঘন কাটছে ভিনদেশি বধূকে নিয়ে। 

গত রবিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) গোপালগঞ্জের একটি আদালতে এফিডেভিটের মাধ্যমে জেনিফার স্ট্রায়াস ও চয়ন ইসলামের বিবাহ সম্পন্ন হয়। এতে হৈই চৈই পড়েছে পুরো এলাকায় । অনেকই জার্মান পূত্রবধূকে দেখতে ছুটে আসছেন।

জার্মানির তরুণী জেনিফার স্ট্রায়াস গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকার হযরত শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে এসে নামেন। পরে সেখানে তার প্রেমিক চয়ন ইসলাম ও তার স্বজনরা তাকে স্বাগত জানান। রাতেই তারা জেনিফারকে নিয়ে গোপালগঞ্জ শহরে চলে আসেন। শহরের মডেল স্কুল রোডের ফুফাতো ভাই আব্দুর রহমানের বাড়িতে রাত্রি যাপন করেন তার। রবিবার সকালে পরিবারের লোকজন নিয়ে আদালতে গিয়ে তারা বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হন।

প্রেমিক চয়নের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার জোতকুরা গ্রামে। তার ইতালি প্রবাসী বাবা রবিউল ইসলামের সুবাদে সেও ইতালিতে যায়। এর কিছুদিন পর ইতালী থেকে জার্মানীতে চলে যান চয়ন। প্রায় পাঁচ বছর আগে জার্মান ভাষা শিখতে একটি শিক্ষা কোর্সে ভর্তি হন তিনি। সেখান থেকেই পরিচয় হয় জেনিফারের সঙ্গে। আর সে পরিচয় থেকেই তাদের মধ্যে প্রণয়ের পথের যাত্রা শুরু হয়।

২০২২ সালের ১০ মার্চ চয়ন বাংলাদেশে চলে আসেন। তারপরও তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক চলতে থাকে । ভালোবাসার টানে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে জেনিফার ছুঁটে আসে প্রেমিক চয়নের কাছে। গোপালগঞ্জে পৌঁছানোর পরে চয়নের স্বজনরা ফুল দিয়ে বরণ করে নেয় জেনিফারকে।

জেনিফার একজন মাধ্যমিক লেভেলের শিক্ষার্থী। জার্মানীর বাইলেফেল্ড স্টেটে বাবা-মার সঙ্গেই বসবাস করেন। তার বাবার নাম জোসেফ স্ট্রায়াস ও মাতার নাম এসাবেলা স্ট্রয়াস।

চয়নের ভাগ্নি সানজিদা আক্তার সিমি (বোনের মেয়ে) বলেন, জার্মান থেকে আমাদের মামি এসেছে। সে দেখতে অনেক সুন্দর। আমরা অনেক খুশি। সারা দিন আমাদের মামিকে নিয়েই অনন্দেই কেটে যাচ্ছে।

চয়নের ভাগ্নে (বোনের ছেলে) রাইয়ান রহমান অর্থ বলেন, নতুন মামিকে পেয়ে আমরা অনেক আনন্দিত। তার সাথে আমাদের খুব ভালো সময় কাটছে । সে অনেক ভাল। আমাদের অনেক আদর করছে। সবাই আমার মামা-মামির জন্য দোয়া করবেন।

চয়নের মা ঝর্ণা বেগম বলেন, “ভাবতেও পারিনি জেনিফার আমাদের সঙ্গে এতো সহজে মিশে যেতে পারবে। বিদেশি বৌমাকে পেয়ে আমরা সবাই খুশি। অল্প সময়েই মধ্যে সে সবাইকে খুব আপন করে নিয়েছে। গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আনন্দ-উৎসব করে আমরা নববধুকে সবাই বরণ করে নেব ।’

বাবা জোসেফ ট্রায়াস মেয়ে জেনিফারে সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে চলেছেন। এ বিয়েতে জেনিফারের বাবা-মা সহ পরিবারের সবাই খুব আনন্দিত।

জেনিফার তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, ‘বাংলাদেশকে আমি ভালোবেসে খুশি হয়েছি। এখানকার পরিবেশ, আতিথিয়েতা ও সবার ভালোবাসা আমাকে মুগ্ধ করেছে। পরিবারের সবাই আমাকে আপন করে নিয়েছে। সবাইকে নিয়ে মিলেমিশে চলতে পেরে আমি ভীষণ খুশি হয়েছি।’

চয়ন ইসলাম বলেন, আমি জার্মানিতে পড়াশোনা করার সময় জেনিফারের সাথে পরিচয় হয়। পরিচয় থেকে ভালোবাসা হয়। দীর্ঘ ৫ বছরের সম্পর্ক আমাদের মাঝে। আমি একটি চাকুরি করতাম। সেখানে মালিকের সাথে মনোমালিন্য হলে চাকুরি ছেড়ে বাংলাদেশে চলে আসি। আমার ভালোবাসার টানে জেনিফা বাংলাদেশে চলে এসেছে। আমরা বিয়ে করেছি। এতে আমার ও জেনিফার পরিবারের সবাই খুব খুশি। কিছু দিনের মধ্যে জেনিফারের বাবা-মা বাংলাদেশ আসবেন। তখন মহা-ধুমধামে বিয়ের অনুষ্ঠান করার ইচ্ছা আছে।

(টিকেবি/এসপি/ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৩)

পাঠকের মতামত:

১৭ এপ্রিল ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test