E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

মহম্মদপুরে বেড়া সরিয়ে সেই অবরুদ্ধ পরিবারকে মুক্ত করল প্রশাসন 

২০২৩ জুন ২৭ ১৫:৫৮:৫০
মহম্মদপুরে বেড়া সরিয়ে সেই অবরুদ্ধ পরিবারকে মুক্ত করল প্রশাসন 

মহম্মদপুর প্রতিনিধি : মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার  পলাশবাড়ী ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামে পাটকাঠির বেড়া দিয়ে অবরুদ্ধ রাখা সেই পরিবারের বেড়া সরিয়ে মুক্ত করলেন মহম্মদপুর থানা পুলিশ।

সূত্র জনায়, শামসেল বিশ্বাস নিকট থেকে ২০১৭ সনে তার বড় পুত্র হবিবর বিশ্বাস ৮ শতক জমি ক্রয় করে রাখেন। তখন সেই জমি রেজিস্ট্রেশন করে দেন তার বাবা। পরে ২০১৮ সালে হবিবর বিশ্বাস বিদেশ যান। কয়েকমাস পরে আবারো ১০শতক জমি বিক্রি করার কথা বললে তা কিনে রাখেন হবিবর। প্রথম আট শতক জমি আড়াই লক্ষাধিক টাকা আর দশ শতক জমি সাড়ে তিন লক্ষাধিক টাকায় কেনা সহ তার বাবাকে সাক্ষী রেখে দুই লক্ষাধিক টাকার প্রতিবেশির কাছ থেকে একটি জমি বন্ধক নেন এবং সেখানেও শামসেল বিশ্বাসকে সাক্ষী রাখা হয়। বাড়ির জমি অন্য লোকে যেনো কিনতে না পারে এজন্য এসব জমি তার বাবার কাছ থেকে কিনে রাখেন হবিবর বিশ্বাস। কয়েকমাস পরে তার পিতা শামসেল বিশ্বাস দ্বিতীয় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। শামমসেল ও তার পরিবারের অন্য সদস্যরা হবিবরের স্ত্রী নারগিসের সঙ্গে প্রায়ই ঝগড়া বিবাদে জড়িয়ে পড়ে। এসময় জমি বিক্রি করা ও জমি বন্ধকের কথা অস্বীকার করেন শামসেল। পরে নারগিস জমি রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে দলিলে দেখতে পায় তার স্বামীর নামে মাত্র চার শতক জমি লিখে দিয়েছে আর চার শতক ছোট ছেলের নামে। পরে কেনা দশ শতকের জমি বিক্রি করেননি বলে সাফ জানিয়ে দেন শামসেল। দশ শতক জমির দলিল এখনো করে দেননি শামসেল। বাবার হাতে ছেলে প্রতারণার শিকারের ঘটনায় আদালতে মামলা করেন হবিবরের স্ত্রী নারগিস।

এদিকে মামলা করায় ক্ষিপ্ত হয়ে নারগিসকে তার বাড়িতে জিম্মি করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী নারগিস।

জানা গেছে, অসহায় নারগিসের বাড়ির চারপাশ পাটকাঠির বেড়া দিয়ে ঘিরে রেখেছে তার শশুর ও শশুর বাড়ির লোকজন । এতে বাড়ি থেকে বের হতে পারছে না নারগিস সহ তার কলেজ পড়ুয়া কন্যা ও শিশু পুত্র। এমনকি তারা ঠিকমতো স্কুল কলেজেও যাওয়া প্রাইভেট পড়তে যেতে পারছে না। এক ধরনের মানবেতর জীবন পার করছে নারগিস ও তার পরিবার। স্বামী বিদেশ থাকায় প্রতিবাদও করতে পারছেন না তিনি।

নারগিস জানায়, শশুর বাড়ির লোকেরা তাকে বিভিন্ন সময়ে হুমকি দিয়ে আসছে, নির্যাতন ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছে তার শশুর শাশুড়ি দেবর ননদরা। এছাড়া রাতে বসতবাড়ি থেকে টিউবওয়েল খুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ অবস্থায় অসহায় পরিবারটি জমিজমা পেতে চান নারগিস। জমিজমা ও টাকা পয়সার বিষয় শামসেল অস্বীকার করেন যদিও জমি বিক্রি ও টাকা নেওয়ার সকল তথ্য স্ট্যাম্পে লিখিত অবস্থায় দেখা গেছে। এ বিষয় নিয়ে মহম্মদপুর থানায় নার্গিস লিখিত অভিযোগ করেন এবং এ ঘটনায় সংবাদ প্রকাশিত হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গত সোমবার পাটকাঠির বেড়া সরিয়ে অসহায় পরিবারটিকে মুক্ত করেন। এসয়ম উপস্থিত ছিলেন মহম্মদপুর থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত (ওসি) মুন্সি রাসেল হোসেন এসআই রাকিবসহ পুলিশ সদস্যরা।

(বিএস/এসপি/জুন ২৭, ২০২৩)

পাঠকের মতামত:

২৫ অক্টোবর ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test