E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

ফরিদপুর পৌর মেয়রের হালচাল: পর্ব- ১

মেয়র অমিতাভ বোসের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ

২০২৪ জানুয়ারি ২৭ ১৮:০২:৩৯
মেয়র অমিতাভ বোসের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ

রিয়াজুল রিয়াজ, বিশেষ প্রতিনিধি : ফরিদপুর পৌরসভার মেয়র অমিতাভ বোসের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় পৌরসভার এক কাউন্সিলর।  

ফরিদপুর কানাইপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক, ফরিদপুর পৌরসভা ৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং ফরিদপুর পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আব্দুস সত্তার মিয়া অভিযোগ করেছেন, পৌরসভার মেয়র অমিতাভ বোস তাঁকে দীর্ঘ ৮ মাস যাবত পৌরসভার কোন প্রকার বরাদ্দ দেননা। সত্তার সেজন্য তাঁর ওয়ার্ডের জনগণকেও জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে কোন প্রকার সাহায্য সহযোগিতা করতে পারছেননা বলেও জানান তিনি।

কাউন্সিলর আব্দুস সত্তার মিয়া আরও জানান, শুধু তিনি নন তিনি ছাড়াও সম্প্রতি ফরিদপুর পৌরসভা ১৭ নং ওয়ার্ড ও ২৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরদেরও পৌরসভার সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেছেন মেয়র অমিতাভ বোস। তাঁদের অপরাধ একটাই তাঁরা সবাই আওয়ামী লীগ নেতা এ কে আজাদের নির্বাচনে তাঁর পক্ষে কাজ করেছেন।

এদিকে, মেয়র অমিতাভ বোস নির্বাচিত হওয়ার পর ফরিদপুর পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে নাগরিক কমিটি গঠন করেন। অভিযোগ আছে নিজস্ব পছন্দের এসব নাগরিক কমিটিই ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের থেকে বেশি প্রাধান্য পান পৌর মেয়র অমিতাভের কাছে।

সম্প্রতি শেষ হওয়া দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা এ কে আজাদের পক্ষে যেসব ওয়ার্ডে ভোট বেশি পড়েছে এবং যেসব কাউন্সিলর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এ কে আজাদের পক্ষে নির্বাচনে কাজ করেছেন, মুলতঃ তাঁরাই নানাভাবে পৌর মেয়রের হয়রানির স্বীকার হচ্ছেন।

উক্ত বিষয়ে মেয়র অমিতাভ বোসের সাথে কথা বলতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তাঁর মুঠোফোনে এসএমএস দেয়া হলেও তিনি কোন রেসপন্স করেননি।

তবে তাঁর একান্ত সহচর হিসেবে পরিচিত ও ফরিদপুর পৌরসভা নাগরিক কমিটির শীর্ষ নেতা মো. খাইরুদ্দীন মিরাজের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘আমি পৌরসভার কেউ নই ভাই, এটা দাদার নিজস্ব ব্যাপার।’

যদিও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মেয়র অমিভাব বোসের নিজস্ব ওয়ার্ডেও এ কে আজাদ জয় পেয়েছেন।

লোকমুখে প্রচলিত আছে যে, উপরে উপরে অমিতাভ বোস আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শামীম হকের জন্য কাজ করলেও তলে তলে তিনি মুলতঃ ঈগলের জন্য কাজ করেছেন! তাছাড়া তাঁর নিজস্ব ওয়ার্ডে শামীম হক হারবেন কেনো, এমন প্রশ্ন প্রায়শই লোকমুখে শুনা যাচ্ছে। সাথে লোকমুখে এটাও শুনা যাচ্ছে যে, নির্বাচনের আগে এ কে আজাদের সাথে একাধিক বৈঠক করেছেন ফরিদপুর পৌরসভার মেয়র অমিতাভ বোস। মুলতঃ এই বৈঠকগুলো এ কে আজাদকে নির্বাচনে নিরুৎসাহিত করতে বা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য অনুরোধের ব্যাপারের বৈঠক ধরা হলেও তা তলে তলে সমঝোতা কিনা, সেটি নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শামীম হক ভক্ত বেশ কয়েকজন নেতা।

যদিও এই বিষয়ে কোন পক্ষ থেকেই স্পষ্ট কোন বক্তব্য এখনও আসেনি। তবে, এ কে আজাদের বাসায় তাঁদের প্রথম বৈঠকের পর ফরিদপুরের আলোচিত সাংবাদিক প্রবীর সিকদার অমিতাভ-আজাদ বৈঠককে ইঙ্গিত করে তাঁর ফেসবুক স্টাটাসে লিখেছিলেন, ‘মেয়র সাহেব ঢুকলেন ফেরানোর জন্য, বের হলেন সমঝোতা করে।’

ফরিদপুর পৌরসভার মেয়র হওয়ার আগে ফরিদপুর শহরে অমিতাভের কোন জমিজমা ছিলোনা। কিন্তু মেয়র নির্বাচিত হওয়ার মাত্র ৬ মাসের মধ্যে অমিতাভ বোস ফরিদপুরের শহরের সিংপাড়ায় একটি আলিশান বাড়ীসহ এখন পর্যন্ত গড়েছেন বিপুল পরিমান জমি ও সম্পদ।

আর 'এসব অর্থ সম্পদ তিনি গড়েছেন তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বজনপ্রীতি পক্ষপাতিত্বের মাধ্যমে টেন্ডার বানিজ্য, নিয়োগ বানিজ্যসহ সীমাহীন দুর্নীতি'র মাধ্যমে' বলে অভিযোগ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফরিদপুর জেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা। উক্ত বিষয়ের উপর করা পরবর্তী প্রতিবেদনে এসব বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।

এদিকে, স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন ২০০৯ ইং এর ধারা: ৩২৷ (১) (ঘ) মেয়র অথবা কাউন্সিলর তাহার নিজ পদ হইতে অপসারণযোগ্য হইবেন, যদি তিনি- "অসদাচরণ বা ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন"। উক্ত আইনের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, বিধি-নিষেধ পরিপন্থী কার্যকলাপ, দুর্নীতি, অসদুপায়ে ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণ, পক্ষপাতিত্ব, স্বজনপ্রীতি, ইচ্ছাকৃত অপশাসন, ইত্যাদি বুঝাইবে।

(চলবে..)

(আরআই/এসপি/জানুয়ারি ২৭, ২০২৪)

পাঠকের মতামত:

২২ এপ্রিল ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test