E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

১০০শ’ মিটার সড়কের বেহাল দশা, শিক্ষার্থীসহ ২০ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ

২০২৫ সেপ্টেম্বর ০৬ ১৪:৪০:৩৮
১০০শ’ মিটার সড়কের বেহাল দশা, শিক্ষার্থীসহ ২০ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : একপাশে  প্রাথমিক বিদ্যালয় ও অন্য পাশে  মাধ্যমিক বিদ্যালয়। দুই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে প্রায় ৪শ’ শিক্ষার্থী। আর দুই বিদ্যালয়ের মাঝ দিয়ে গেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এ সড়ক দিয়ে ২ বিদ্যালয়ের  শিক্ষার্থী ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বালাডাঙ্গা, ডুমরিয়া, তারাইল, ভৈরবনগর, গোপালপুর, চর গোপালপুর, বরইভিটা, কোটালীপাড়া উপজেলার ধারবাসাইল, কুরপালা, ঘাঘরকান্দা সহ ২০ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। উৎপাদিত কৃষি, মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ পণ্য পরিবহন করা হয়।  কিন্তু গত ৬ মাস আগে সড়কটির কাপের্টিং উঠে খানা খন্দ সৃষ্টি হয়েছে। তাই যান চলাচল, মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে ভোগান্তির শেষ নেই । বৃষ্টি  হলে সড়ক চলাচলের অনুযযোগি হয়ে পড়ে । তখন দুর্ভোগের শেষ থাকে না। প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।

এমন অবস্থা গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বালাডাঙ্গা এসএম মুসা মাধ্যমিক ও বালাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন সড়কটির ১০০ মিটার জুড়ে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এলজিইডির টুঙ্গিপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী বরাবর রাস্তাটি সংস্কারের জন্য ১ মাস আগে আবেদনপত্র দিয়েছে ।

আবেদনপত্রে বলা হয়েছে , টুঙ্গিপাড়া উপজেলা সদর থেকে সড়কটি কোটালীপাড়া উপজেলা সদর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার বিস্তৃত । বর্ষা মৌসুম শুরু আগেই সড়কটির বালাডাঙ্গা স্কুল অংশ ভাঙতে শুরু করে। পরে কাপেটিং উঠে খানা-খন্দ সৃষ্টি হয় । আর বৃষ্টির পানি জমে দিনদিন খানা-খন্দ বড় আকার ধারণ করছে । ফলে ১শ’ মিটার সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কাদা-পানিতে শিক্ষার্থীদের জামাকাপড়, বইখাতা ভিজে নষ্ট হচ্ছে। এ সড়কে চলতে গিয়ে শিক্ষার্থী হোচট খেয়ে পড়ে গিয়ে আহত হচ্ছে । আর যাত্রী নিয়ে চলাচলের সময় অনেক গাড়ি উল্টে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। বিকল্প সড়ক নেই। তাই বাধ্য হয়েই এ সড়ক দিয়েই চলাচল করছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পথচারী সহ ২০টি গ্রামের মানুষ।

বালাডাঙ্গা এসএম মুসা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শিক্ষার্থী ঝুমুর ইসলাম, রিয়াদ বলে, আমাদের বিদ্যালয়ে আসার একমাত্র রাস্তা এটি। দীর্ঘদিন ধরে ভাঙতে ভাঙতে বেশিরভাগ জায়গা খানায় ভরে গেছে। বৃষ্টির সময় আমাদের স্কুলের অনেক শিক্ষার্থী খানায় পড়ে গিয়ে আহত হয়েছে। অনেকের বইখাতা পানিতে পড়ে নষ্ট হয়ে হয়েছে। তাই আমরা এইটুকু রাস্তার দূর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে চাই।
বালাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী প্রকৃতি জয়ধর, রিয়া, আবদুল্লাহ বলে, বৃষ্টি হলে আমাদের স্কুলের আসার পথটিতে হাঁটুজল থাকে। অনেক সময় পোশাক, বই খাতা নষ্ট হয়ে যায়। তাই অনেকে ক্লাস না করেই বাড়িতে চলে যায়। আবার কয়েকদিন আগে আমাদের এক সহপাঠী সাইকেল নিয়ে পরে গিয়ে গুরুতর আহত হয়। তাই আমাদের এই রাস্তাটি যাতে দ্রুত মেরামত করতে হবে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক গৌরী মজুমদার বলেন, ‘প্রতিদিন এ রাস্তা দিয়ে প্রায় ৪ শ শিক্ষার্থী দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে। তাদের চলতে খুবই সমস্যা হয়। প্রায় সময়ই গাড়ি দুর্ঘটনা হয় এ রাস্তাতে। কিন্তু বিকল্প কোন পথ না থাকায় ভোগাস্তি নিয়েই যাতায়াত করতে হয়। দুর্ভোগের কথা জানিয়ে রাস্তাটি সংস্কারের জন্য উপজেলা এলজিইডি অফিসে চিঠি দিলেও কোন কাজ হয়নি।

দাড়িয়ারকুল গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী প্রকাশ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, কোটালীপাড়ায় মাছ বিক্রি করতে প্রতিদিনই আমাদের এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হয়। তবে রাস্তার সমস্যার কারণে অনেক সময় মাছ সহ গাড়ি পড়ে যায়। বৃষ্টিতে রাস্তাটিতে চলাচল একদম অনুপযোগী হয়ে পড়ে। তারপরও শত ভোগান্তি নিয়ে আমাদের যাতায়াত করতে হয়। তাই সরকারের কাছে দ্রুত এ রাস্তা মেরামত করার দাবি জানাই।

টুঙ্গিপাড়া এলজিইডির প্রকৌশলী আনিছুর রহমান বলেন, আবেদনপত্র পাওয়ার পর আমরা রাস্তাটি আমরা পরিদর্শন করেছি। ১০০ মিটার অংশের অবস্থা খুবই খারাপ। ইতিমধ্যে সেটি আমরা পরিমাপ ও স্টিমেট করেছি। বর্ষা মৌসুম গেলেই রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু করব । তথন শিক্ষার্থী ও ২০ গ্রামের মানুষের ভোগান্তি লাঘব হবে।

(টিবি/এএস/সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৫)

পাঠকের মতামত:

২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test