E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

হারীর পাওনা টাকার দাবিতে ইউএনও’র কাছে অভিযোগ

ব্যবসায়ীকে লোহার রড দিয়ে উপর্যুপরি পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা

২০২৬ জানুয়ারি ০৬ ২০:০১:৪৮
ব্যবসায়ীকে লোহার রড দিয়ে উপর্যুপরি পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা

রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : জমির লীজের টাকা না পাওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করায় এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়িকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে চাইলে তাদেরকে বাধা দেওয়া হয়। সোমবার রাত ১১টার দিকে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া বাসস্টা-ের সততা হাটেলের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে সখীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

আহত ব্যবসায়ীর নাম নাসিরউদ্দিন মোল্ল্যা (৪৯)। তিনি দেবহাটা উপজেলার দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামের দিদার বক্স মোল্ল্যা ছেলে।

সখীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন নাসিরউদ্দিন জানান, তাদের গ্রামের কোরবান গাজীর ছেলে পারুলিয়া বাজারের “আমিন ফিস” এর স্বত্বাধিকারী নূর আমিন তার বাবার কাছ থেকে ২০১৬ সালে বিঘা প্রতি ১৩ হাজার টাকা হারিতে ৫৪ বিঘা জমি ৫ বছর মেয়াদী লীজ নেন। ২০১৭ সালের মার্চ মাসে তার বেমাতার সহায়তায় নূর আমিন ২০২২ সাল থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত আবারো একটি চুক্তিপত্র করে নেয়। প্রথম দফায় লীজ বাবদ নূর আমিন দুই দফায় পাঁচ লাখ টাকা দেন। ২০১৭ সালের ২২ এপ্রিল তার বাবা ও ২০১৮ সালের ২০ জানুয়ারি তার মা মারা যান। এরপর থেকে নূর আমিনের কাছে টাকা চাইতে গেলে তাকে নানাভাবে হয়রানি করা হতো। বিষয়টি স্থানীয় পারুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম ও গোলাম ফারুক বাবু, জিন্নাত সরদারসহ বিভিন্ন সুশীল সমাজের মানুষকে অবহিত করা হয়।

এতেও কোন সমস্যার সমাধান না হওয়ায় তিনি পাওনা ৩৫ লাখ ১০ হাজার টাকা পাওয়ার জন্য ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ করেও কোন ফল পাননি। একপর্যায়ে একই এলাকার বাসারতকে নিয়ে তিনি নূর আমিনের হ্যাচারীতে গেলে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। এ সময় তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন নূর আমিন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৭ নভেম্বর রাত সাড়ে আটটার দিকে তাকে তার পারুলিয়া বাসস্টা- এলাকার সিঙ্গার মেশিন কোম্পানীর দোকানের সামনে থেকে বিনা অপরাধে পুলিশ দিয়ে থানায় তুলে নিয়ে যেয়ে পরদিন একটি বিচারাধীন মামলায় চালান দেওয়া হয়। এটা নূর আমিনের পরিকল্পনা বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নাসিরউদ্দিন আরো জানান, জামিন মুক্তি পাওয়ার পর তিনি আবারো জমির লীজ পাওয়ার দাবিতে বিভিন্ন স্থানে দেনদরবার শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে নূর আমিনের বিরুদ্ধে হারির টাকার দাবিতে অভিযোগ করেন। মেয়াদ শেষে ৩১ ডিসেম্বর তার ঘেরের জমি মুৃক্ত করে না দেওয়ায় গত ২ জানুয়ারি তিনি দেবহাটা থানায় অভিযোগ করেন নূর আমিনের বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানতে পেরে নূর আমিন বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জজ কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাড. গোলাম মোস্তফার কাছ থেকে জমি সংক্রান্ত পরিসংখ্যন নিয়ে বাড়িতে ফেরেন। এ সময় বাসস্টা-ের নিজ অফিসে বসে ছিলেন নূর আমিন ও তার সহযোগি সিরাজুল ইসলাম।

এক পর্যায়ে সোমবার রাত ১১ টার দিকে ছেলে আবু রায়হানকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে সততা হোটেলে সবজি কিনে বের হওয়া মাত্রই নূর আমিনের নির্দেশে তার আত্মীয় দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামের সবেদ আলী সানার ছেলে রফিকুল সানা, মোস্তফার ছেলে (রফিকুলের জামাতা) রাজীব, জামাতার ভাই সাকিল, নূর আমিনের ভাগ্নেসহ ১৫/২০ জন তাকে টেনে হিঁচড়ে খালের পাশে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে তাকে রফিকুল, সজীব, সাকিলসহ কয়েকজন লোহার রড দিয়ে এলোপাতড়ি পিটিয়ে জখম করে। ছেলে আবু রায়হান হামলাকারিদের হাতে পায়ে জড়িয়ে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করে। এ সময় পাশর্^বর্তী দোকানদাররা তড়িঘড়ি করে দোকান বন্ধ করে চলে যান। একপর্যায়ে রফিকুল সানার পায়ে ধরে ক্ষমা চাওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ সময় তাকে থানায় বা হাসপাতালে না যাওয়ার জন্য হুশিয়ারি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে ছেলের সহায়তার বাড়ি যেয়ে ৯৯৯ এ ফোন করলে দেবহাটা থানার উপপরিদর্শক আব্দুল কাইয়ুমের নেতৃত্বে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে সখীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

সখীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডাঃ হাসান জানান, নাসিরউদ্দিনের দুই হাত, দুই পা, পিঠ, মাথা ও দুই চোখসহ সারা শরীরে ভারী জিনিস দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হগাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে রফিকুল সানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নাসিরকে মারপিটের কথা অস্বীকার করেন।

নূর আমিনের সঙ্গে তার ০১৭১১-১২৯৯৬৬ নং মুঠোফোনে কথা বলার চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ জাকির হোসেন বলেন, খবর পেয়ে উপপরিদর্শক আব্দুল কাইয়ুমকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পুলিশের সহায়তায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোন লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

(আরকে/এসপি/জানুয়ারি ০৬, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

১১ জানুয়ারি ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test