E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

পাংশায় কুকুরের কামড়ে আহত ৭, ভ্যাক্সিন সংকটে রোগীরা

২০২৬ জানুয়ারি ০৭ ১৮:১৫:৫৪
পাংশায় কুকুরের কামড়ে আহত ৭, ভ্যাক্সিন সংকটে রোগীরা

একে আজাদ, রাজবাড়ী : রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর কলেজ পড়ায় পাগল কুকুরের কামড়ে শিশুসহ অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারী) সকাল ১১ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত এই ঘটনা ঘটে। এত অল্প সময়ের মধ্যে এত মানুষ আক্রান্ত হওয়ায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আহতরা হলেন- হানেফ শেখের মেয়ে হামিদা খাতুন (৭), শাহ প্রামাণিকের ছেলে তাওহিদ (৪), মালেকের মেয়ে আসমানী (৪), তৈয়বের ছেলে হ্রদয় (২৭), সাইফুল ইসলামের ছেলে আতিয়ার (১২), আব্দুল আজিজের ছেলে মাহাবুব হাসান (৪৫), তোফাজ্জেল এর মেয়ে তানহা তাবাসুম (৫) এর সবাই হাবাসপুর কলেজ ও বাজার এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাবাসপুর কলেজ পাড়া ও বাজার এলাকায় একাধিক কুকুর একের পর এক মানুষকে কামড়াতে থাকে। আহত ব্যক্তিদের পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন না থাকায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যক্তিগত অর্থায়নে স্থানীয় ফার্মেসি থেকে বিকল্প রেবিস ইমিউনোগ্লোবিউলিন (RIG) ইনজেকশন সংগ্রহ করে আহতদের দেন।

কুকুরের কামড়ে আহত তানহা তাবাসুমের মা বলেন, বিকেলে গেটের বাইরে আমি আমার মেয়ের সাথে দাড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ একটা কুকুর দৌড়ে এসে আমার মেয়ের পেছনে কামড় দেয়। পরে জানতে পেরেছি এই কুকুর বাজারে গিয়ে আর এক জনকে কামড় দিয়েছে। আমি আমার মেয়েকে নিয়ে পাংশা হসপিটালে গিয়ে ছিলাম। তবে সেখানে কোন জলাতঙ্ক ভ্যাক্সিন নাই। বাইরেও কিনতে পাওয়া যাচ্ছে না।ইউএনও বিকল্প হিসেবে রেবিস ইমিউনোগ্লোবিউলিন (RIG) ইনজেকশন সংগ্রহ দিয়েছিলো। আজ ঢাকা থেকে আমার ভাইয়ের মাধ্যমে ভ্যাক্সিন সংগ্রহ করছি, এখনো হাতে পাইনি।

কুকুরের কামড়ে আহত আসমানীর মামা বলেন, ভাগ্নীকে কোল থেকে নামিয়ে আমি ফার্ময়ের দিকে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ লাল রঙের একটি কুকুর আমার ভাগ্নীর উপর ঝাপিয়ে পড়ে। আমি দৌড়ে আসতে আসতে কামড় দিয়ে পালিয়ে যায়। একাধিক এমন পাগলা কুকুর এলাকায় দেখা যাচ্ছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অনেকেই কামড় দিছে। এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রিফাতুল হক বলেন, গতকাল আমি সন্ধ্যায় জানতে পারি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৭ জন কুকুরের কামড়ে আহত রোগী এসেছে। তবে জলাতঙ্ক ভ্যাক্সিন না থাকায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। আমি পাংশা শহরে লাজসহ ফার্মেসি থেকে বিকল্প রেবিস ইমিউনোগ্লোবিউলিন (RIG) ইনজেকশন সংগ্রহ করে দিয়েছি। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোন জলাতঙ্ক ভ্যাক্সিন থাকবে না এটা দুঃখজনক।

রাজবাড়ী সিভিল সার্জন ডা. এস. এম. মাসুদ বলেন, প্রায় দুই মাস ধরে হাসপাতালে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন নেই। একাধিকবার বরাদ্দ চেয়ে কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিলেও কোনো বরাদ্দ আসেনি। আবারও আবেদন করা হয়েছে।

তবে যারা কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়েছে তারা কিভাবে ভ্যাক্সিন সংগ্রহ করবে? তিনি বলেন, ফার্মেসিতেও জলাতঙ্ক ভ্যাক্সিন নাই। আমি কয়েকটি ওষুধ কোম্পানির সঙ্গে কথা বলেছি যাতে বেসরকারি ভাবেও জলাতঙ্ক ভ্যাক্সিন সরবরাহ থাকে।

(একে/এসপি/জানুয়ারি ০৭, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

১২ জানুয়ারি ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test