E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

১৫০ বছরের প্রাচীন তেঁতুলতলায় ২৪টি সন্ন্যাস ঠাকুরের পূজা

২০২৬ জানুয়ারি ১৪ ১৭:৫৬:২০
১৫০ বছরের প্রাচীন তেঁতুলতলায় ২৪টি সন্ন্যাস ঠাকুরের পূজা

বিকাশ স্বর্ণকার, বগুড়া : ১৫০ বছরের প্রাচীন বিশাল আকৃতির এক তেঁতুল গাছের চারিদিকে গোলাকৃতি ভাবে সাজিয়ে রাখা হয়েছে ২৪টি মাটির তৈরি প্রতিমা। একটু এগিয়ে গিয়ে চোখে পড়লো ওই তেঁতুল গাছকে একটি বটগাছ জড়িয়ে ধরে শাখা প্রশাখা গজিয়ে সেটিও পরিপূর্ণ গাছে পরিনত হয়েছে। দুর থেকে যেকারো মনে হবে এক গাছের দুটি শাখা। প্রতিমার একটু সামনেই সাড়ি সাড়িভাবে সাজানো কলার ছড়াগুলো পাশেই রাখা হয়েছে নানা ধরনের ফল সহ পুজার অন্যান্য সামগ্রী। 

সনাতন ধর্মালম্বী নারীরা প্রতিমার সামনে নানা ধরনের উপকরণ প্রস্তুত করতে একেবারেই ব্যস্ত। পুরোহিত এর মন্ত্র উচ্চারণের মধ্যে দিয়ে পূজা চলাকালীন সময়ে মেয়েদের উলু ধ্বনি ও ঢাকের তালে মুখরিত ছিল অনুষ্ঠান স্থল। তবে এই পুজা দেখা সহ মানত পুরনে পূজা দিতে এসেছেন বিভিন্ন এলাকার সনাতন ধর্মালম্বী নারী পুরুষ। এই আয়োজন হলো বগুড়ার তালোড়া ইউনিয়নের কইল গ্ৰামের শেষপ্রান্তে তালোড়া আলতাফনগর রাস্তার ধারে সন্ন্যাসতলা নামক স্থানে।

পুনট থেকে পরিবার সহ এসেছেন কমল কর্মকার। তিনি জানান, একটি সমস্যা থেকে রক্ষায় সন্ন্যাস বাবার কাছে মানত করেছিলাম। সেটির ভালো ফলাফল মেলাই পূজা দিতে এসেছি।

প্রতিমা তৈরির কারিগর গোবিন্দ মালাকার বলেন, মাসাধীক সময় ধরে অনেকেরই অর্ডার দেয়া প্রতিমা তৈরি করেছি। প্রতিটি প্রতিমার মজুরি ১হাজার টাকা করে নিয়েছি।

পুরোহিত মন্টু সরকার জানান, সন্ন্যাস বাবার এখানে প্রচুর লোক মনোবাসনা পুরনে মানত করে থাকেন। তবে অনেকের মনোবাসনা পুরন হওয়ায় কেউবা প্রতিমা কেউব অন্যান্য সামগ্রী পূজায় দিয়ে থাকেন।

আয়োজক কমিটি জানিয়েছেন, ১টি প্রতিমা ছাড়া বাকি ২৩টি মানতকারীদের। তারা আক্ষেপ করে বলেন, সরকারের খাস খতিয়ানের জায়গায় দু'শ বছর ধরে এই স্থানে এলাকাবাসী পৌষ সংক্রান্তিতে সন্ন্যাস পূজা করে থাকেন। এই স্থানের জায়গার আকৃতি আগে অনেক বড় ছিল। আশপাশের জমির মালিকরা দিন দিন পূজার স্থানের ধার কাটতে কাটতে এখন জায়গা একেবারেই সংকুচিত হয়ে গেছে।এত ছোট পরিসরে জায়গায় পুজার সামগ্রী প্রতিমা রাখার পর পুরোহিতের পুজায় সমস্যা দেখা দেয়। তবে সরকারিভাবে পরিমাপ করে জায়গা উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এদিকে পূজা শেষে অঞ্জলী দিয়েই ভক্তরা ধুপকাটি হাতে নিয়ে গাছের চতুর্দিকে প্রদক্ষিণ করেন।

জায়গা বেদখলেল বিষয়টি দুপচাঁচিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরুখ খাঁনকে অবহিত করলে তিনি বলেন, আয়োজক কমিটি লিখিত অভিযোগ আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।

(বিএস/এসপি/জানুয়ারি ১৪, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

১৬ জানুয়ারি ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test