E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

রাঙ্গুনিয়ায় অবৈধ ইটভাটা, নিরব প্রশাসন

ছাড়পত্র ছাড়াই দেদারসে পোড়ানো হচ্ছে ইট 

২০২৬ জানুয়ারি ১৬ ১৭:৫২:৩৭
ছাড়পত্র ছাড়াই দেদারসে পোড়ানো হচ্ছে ইট 

জে.জাহেদ, চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ও সরকারি ছাড়পত্র ছাড়াই প্রকাশ্যে চলছে ইটভাটার কারবার। অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ইট উৎপাদন চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন।

উপজেলার খতিবনগর এলাকায় অবস্থিত ডিআরবি (দিদার রাঙ্গুনিয়া ব্রিকস) নামের একটি ইটভাটার বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিবেশগত ছাড়পত্র (ইসিসি) ছাড়া কার্যক্রম পরিচালনা এবং সরকারের বিপুল অঙ্কের ভ্যাট ও ট্যাক্স ফাঁকির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, চট্টগ্রাম এবং পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপপরিচালকের কার্যালয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিআরবি ইটভাটার ম্যানেজার মো. তানভীর রানা মাসুদ বলেন, “এখানে কোনো ইটভাটারই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই।” ভ্যাট ও ট্যাক্স সংক্রান্ত প্রশ্নে তিনি স্বীকার করে বলেন, “এখনো কোনো ট্যাক্স জমা দেওয়া হয়নি। কয়েক দিনের মধ্যে কিছু জমা দেওয়ার চিন্তা আছে।”

তবে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) অনুযায়ী পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা সম্পূর্ণ অবৈধ। একই সঙ্গে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ অনুযায়ী লাইসেন্স ও পরিবেশগত অনুমোদন ছাড়া ইটভাটা পরিচালনা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আইন অনুযায়ী এ ধরনের অপরাধে জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান-এর বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়েও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীতে বিষয়টি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাহিদুল ইসলাম মিঞাকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে অবহিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে স্থানীয় সূত্র জানায়, ইটভাটাটি লাইসেন্স পাওয়ার জন্য আবেদন করলেও অনুমোদনের আগেই ইট পোড়ানো শুরু করেছে, যা আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর শামিল।

এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মোঃ মোজাহিদুর রহমান বলেন, “পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া কোনো ইটভাটা পরিচালনার সুযোগ নেই। পুরাতন সব বন্ধ হচ্ছে ধীরে ধীরে। সামনে সব পরিবেশ বান্ধব ইটভাটা হবে। কেউ আইন লঙ্ঘন করে ইটভাটা পরিচালিত করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

পরিবেশবিদরা বলছেন, অবৈধ ইটভাটার কারণে একদিকে যেমন পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে, অন্যদিকে সরকারের রাজস্বও বঞ্চিত হচ্ছে। দ্রুত অভিযান না চালালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

(জেজে/এসপি/জানুয়ারি ১৬, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

১৬ জানুয়ারি ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test