E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

জনবল সংকট ও আবাসন যেন ‘ভূতের বাড়ি’

সেবার মান বাড়লেও জরাজীর্ণ কাপ্তাইয়ের লকগেইট হাসপাতাল

২০২৬ জানুয়ারি ১৮ ১৭:৫৪:৩০
সেবার মান বাড়লেও জরাজীর্ণ কাপ্তাইয়ের লকগেইট হাসপাতাল

রিপন মারমা, রাঙ্গামাটি : রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি জনপদের মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘কাপ্তাই নতুন বাজার লকগেইট ১০ শয্যা হাসপাতাল’। বিশেষ করে চিকিৎসক ডা. এ.কে.এম. কামরুল হাসান যোগদানের পর থেকে হাসপাতালটির চিকিৎসা সেবার মান আগের তুলনায় বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সেবার মান বাড়লেও তীব্র জনবল সংকট এবং চিকিৎসক-স্টাফদের আবাসন ব্যবস্থার নাজুক দশা এখন মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কাপ্তাইয়ের দুর্গম এলাকা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলো থেকে অসংখ্য রোগী প্রতিদিন এখানে চিকিৎসা নিতে আসছেন। স্থানীয়দের মতে, আগে এখানে নিয়মিত চিকিৎসক পাওয়া দুষ্কর ছিল। বর্তমানে আউটডোর ও ইনডোরে রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগী বলেন, "আগে ডাক্তার পাওয়া যেত না, এখন বড় ডাক্তার নিয়মিত বসেন এবং খুব যত্ন নিয়ে আমাদের কথা শোনেন।"

তবে সেবার পরিধি বাড়লেও সংকট রয়ে গেছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামে। ১০ শয্যার হাসপাতালে যে ধরনের ন্যূনতম আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকা প্রয়োজন, তার বড় একটি অংশ এখানে নেই। ফলে উন্নত সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা।

ডা. কামরুল হাসান জানান, গত দুই বছরে তিনি ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয় করে রোগীদের বসার ব্যবস্থা ও সুপেয় পানির সংকট সমাধান করেছেন, তবে সরকারিভাবে আধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহ করা জরুরি।

হাসপাতালটির সবচেয়ে করুণ দশা এর আবাসিক ভবন বা ডরমেটরির। চিকিৎসকদের থাকার জন্য নির্ধারিত ভবনটি দীর্ঘদিনের পুরনো ও জরাজীর্ণ। দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে, জানালার কাঁচ ভাঙা এবং চারপাশ ঝোপঝাড়ে আবৃত থাকায় স্থানীয়রা একে ‘ভূতের বাড়ি’ বলে ডাকেন। এমন অনিরাপদ পরিবেশে বসবাস করা অসম্ভব হওয়ায় চিকিৎসকরা বাধ্য হয়ে দূরে থাকছেন, যা জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কাপ্তাই উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মো. দিলদার হোসেন বলেন, "চিকিৎসায় গতি ফিরলেও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও জনবল সংকট বড় সমস্যা। মাত্র ২-৩ জন স্টাফ দিয়ে এই বিশাল চাপ সামলানো অসম্ভব। আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার জানিয়েছি।"

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: রুইহ্লা অং মারমা জানান, আবাসন সমস্যার বিষয়টি নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত সংস্কারের জন্য চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।

কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন বলেন, "হাসপাতালটি এই অঞ্চলের মানুষের একমাত্র ভরসা। অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আবাসন সমস্যা সমাধানে আমরা সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাথে সমন্বয় করছি। আশা করছি দ্রুত সমস্যা গুলো সমাধান হবে।"

জরুরি ভিত্তিতে শূন্য পদে জনবল নিয়োগ, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ এবং চিকিৎসকদের জন্য নিরাপদ আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ ও স্বাস্থ্য বিভাগ দ্রুত নজর দিলে এই হাসপাতালটি এই অঞ্চলের দরিদ্র মানুষের জন্য একটি আদর্শ স্বাস্থ্যকেন্দ্র হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

(আরএম/এসপি/জানুয়ারি ১৮, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

১৮ জানুয়ারি ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test