দিনাজপুরে সরব নির্বাচনী মাঠ: বিএনপি কোন্দলে জামায়াত এগিয়ে
শাহ্ আলম শাহী, দিনাজপুর : প্রতীক বরাদ্দের পর পরই সরব হয়ে উঠেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুরের ছয়টি আসনের নির্বাচনী মাঠ। উৎসবমুখর পরিবেশে বিএনপি-জামায়াত, জাতীয় পার্টি (এরশাদ) সহ প্রায় সব রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা জোরেশোরে গণসংযোগ শুরু করেছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে নেমে পড়েছেন ভোটের মাঠে। যাচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে, দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও তাঁদের কর্মী-সমর্থকেরা চষে বেড়াচ্ছেন গ্রাম থেকে শহর। সভা, সমাবেশ, দোয়া৷ মাহফিল, মিছিলের পাশাপাশি ভোটারদের ঘরে ঘরে গিয়ে দোয়া ও ভোট চাইছেন প্রার্থীরা।
অস্তিত্বের লড়াইয়ে মাঠে নেমেছে বিএনপি ও জামায়াত। প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে এই দু'টি অধিকাংশ নেতা-কর্মী। বিএনপি'র বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীও দাপিয়ে বেড়াচ্ছে মাঠ।
দিনাজপুর জেলা নির্বাচন রিটার্নিং অফিসার তথা জেলা প্রশাসক,মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের পর চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণার পর থেকেই সরব হয়ে উঠেছে।
দিনাজপুরের ছয়টি আসনে প্রার্থী নির্বাচনে জামায়াত সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও বিএনপির প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে ঝামেলায় পড়েছে। এনিয়ে নিজেদের মধ্যে লবিং-গ্রুপিং ছাড়াও যেন সাপে নেইলে বসবাস করছে নেতা-কর্মীরা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুরের ৬টি আসনে ভোটার বৃদ্ধি পেয়েছে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৬৫২ জন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুরে ভোটার ছিল ২৫ লাখ ৯ হাজার ৩৩১ জন। বর্তমান ভোটার বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ লাখ ৪৬ হাজার ৯৮৩ জন। এবার ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৪১টি। তবে, বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্র এখনো চিহ্নিত করা হয়নি।
দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলা নিয়ে গঠিত ছয়টি আসনের মধ্যে দুইটি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী দাঁড়িয়েছে।
দিনাজপুর- (সদর) আসনে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নাম প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করার পর সব ক'জন মনোনয়ন প্রত্যাশি ও তাদের নেতা-কর্মীরা এককাট্টা হন। কিন্তু,নেত্রীর মৃত্যুর পর এ আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে দিনাজপুর পৌর সভার সাবেক মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমকে দেওয়া হয়েছে। এতে অন্যান্য মনোনয়ন প্রত্যাশিরা সংক্ষুব্ধ। তারা, মন থেকে কোন ক্রমেই তা মেনে নিতে না পারলেও হাইকমান্ডের নির্দেশে সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম পক্ষে মাঠে নেমেছেন। তবে ভেতরে অসন্তোষ রয়েছেন।
অন্যদিকে কোন বিরোধ ছাড়াই অনেক আগে থেকে মাঠ চষে বেড়াচ্ছে জামায়াত। একত্রিত হয়ে দলীয় প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে তারা নিরবে মরিয়া।
জাতীয় পার্টি (জাপা) ছয়টি আসনেই প্রার্থী দিয়েছে। এনসিপি, গণ অধিকার পরিষদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাম দল, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) প্রার্থী দিয়েছেন।
দিনাজপুরের ছয়টি আসনে ৪৮ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।এর মধ্যে যাচাই-বাছাইয়ে ৫ টি বাতিল ও একটি স্থগিত করা হয়। ৪২ টি বৈধ প্রার্থী ঘোষিত হয়। বৈধ প্রার্থী ৪২ জনের মধ্যে ২০ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের দিনে পাঁচজন প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। জোট বদ্ধতায় জামায়াত দিনাজপুর- ৫ (পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী আসনে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে এই আসনটি এনসিপিকে ছেড়ে দিয়েছেন।
নির্বাচন ঘিরে দিন দিন উত্তাপ-উত্তেজনা বেড়েই চলছে
ভোটযুদ্ধে অংশ নিতে ইতোমধ্যে প্রার্থীরা আটঘাঁট বেধে মাঠে নেমেছেন। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে হাটবাজার, পাড়া-মহল্লা, গ্রামগঞ্জে সর্বত্র এখন নির্বাচনী আমেজ চলছে। এ আসন নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন। চলছে রাজনৈতিক সচেতন মহলে চুলচেরা বিশ্লেষণ। প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত ঘোষণা করায় তাদের নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে। তবে মনোনয়ন না পাওয়ায় বিএনপির কিছু অংশের নেতা-কর্মীরা হতাশ।
দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল)
দিনাজপুর- ১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেন ৭ জন প্রার্থী। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মনজুরুল হক চৌধুরী মনোনয়ন পত্র বাতিল করা হয়েছে। অপর ৬ জনের মনোনয়ন পত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। বৈধ প্রার্থীরা হলেন, বিএনপির আলহাজ মনজুরুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর মো. মতিউর রহমান, জাতীয় পার্টির শাহীনুর ইসলাম, বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের অ্যাডভোকেট মো. চাঁন মিয়া, জাকের পার্টির রঘুনাথ চন্দ্র রায় এবং গণ অধিকার পরিষদের মো. রিজুওয়ানুল ইসলাম।
১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ছাড়া আসনটিতে কখনো জেতেনি বিএনপি। ২০০১ সালে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে জয় পেয়েছিল জামায়াত। এবার কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মনজুরুল ইসলামকে মনোনয়ন দিয়েছে। এনিয়ে দলের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি হয়। একটি গ্রুপ তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মাঠে নামে। হাইকমান্ডের নির্দেশে এখন প্রকাশ্য গ্রুপিং না করলেও অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশি ও তাদের নেতা-কর্মীরা হতাশ।
সরজমিনে দেখা যায়, দিনাজপুর-১ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী মনজুরুল ইসলামতার নির্বাচনী এলাকায় ধানে শীষে ভোট দেয়ার প্রচারে গণসংযোগ করেছেন।এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসাবে মনজুরুল ইসলামকে দলীয় মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকে তিনি তার নির্বাচনী এলাকায় বিএনপি'র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি লিফলেট বিতরণসহ ধানের শীষে ভোট দেয়ার জন্য ব্যাপক ভাবে প্রচারণা শুরু করেন। তার নির্বাচনী এলাকায় দু'টি উপজেলায় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দিনরাত সভা-সমাবেশ, লিফলেট বিতরণ, উঠান বৈঠক, বিএনপি অঙ্গ সংগঠনের দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে পৃথক ভাবে মত বিনিমিয় সহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করছেন। তিনি তার নির্বাচনী এলাকার সাধারণ ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে গণসংযোগের মাধ্যমে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনার মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কৃষক দলের অন্যতম সদস্য ও বীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ধানের শীষ প্রার্থী মো. মনজুরুল ইসলাম বলেন, 'আমার প্রধান কাজ হবে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজ মুক্ত বীরগঞ্জ ও কাহারোল উপজেলা একটি আধুনিক মডেল নিরক্ষর মুক্ত এলাকা হিসাবে গড়ে তোলা। শিক্ষা ক্ষেত্রে উন্নয়ন, কারিগরি শিক্ষার দিকে মনোনিবেশ। এলাকার সব ধরনের জনগনের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নিবেন বলে অঙ্গীকার করেন। বিশেষ করে শিশু ও নারীদের উন্নয়নে বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণে তাদের মূল্যায়ন করা হবে। মাদক ও জুয়ামুক্ত বীরগঞ্জ ও কাহারোল উপজেলা গড়ে তুলতে গুরুত্ব সহকারে কাজ করার ঘোষণা দেন তিনি।
তার বিপরীতে জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের মজলিশে শুরা সদস্য ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের দিনাজপুর শহর শাখার সাবেক সভাপতি মতিউর রহমানকে প্রার্থী হয়েছেন। জামায়াত অন্যান্য আসনের মতোই আটঘাট বেঁধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে দিনাজপুর -১ (বীরগঞ্জ -কাহারোল) আসনে নেমেছে।বিএনপির কোন্দল থাকায় জামায়তের প্রার্থী শক্ত অবস্থানে রয়েছে। ২০০১ সালের মতো পুনরায় নিজেদের করে নিতে। জামায়াত চাইছে, নির্বাচনের ভোটযুদ্ধ শেষে জয়ের মালা যেন তাদের ঘরে যায়।
বীরগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির ক্বারি আজিজুর রহমান ও নায়েবে আমির সাবেক উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান এ কে এম কাওসারসহ নেতৃবৃন্দ বলেন আবাধ, সুষ্ঠু, সুন্দর, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে এবার তাদের বিজয় সুনিশ্চিত।
দিনাজপুর-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১১ হাজার ৭৪৩ জন, এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ৮৩১ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ৯১০ জন ও হিজরা ভোটার ২ জন।
এরমধ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বী ভোটার আছেন প্রায় দেড় লাখ।
বিএনপি প্রার্থী মনজুরুল ইসলাম জানিয়েছেন ‘এখানে আগে জামায়াত ও আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন ভোটাররা। এবার তাঁরা বিএনপিকে ভোট দিতে চান।
অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী মতিউর রহমান বলেন, এবার ভোটাররা তাদের ওপর আস্থা রাখবেন। নির্বাচনে এবারো জামায়াত আসনটি ফিরে পাবেন।
দিনাজপুর-১ আসনে দশম সংসদ: ৫ জানুয়ারি ২০১৪ সালের নির্বাচনে মনোরঞ্জন শীল গোপাল-আওয়ামী লীগ, প্রাপ্ত ভোট-১২৩৯৬৩ ও আবদুল হক ওয়ার্কাস পার্টি-প্রাপ্ত ভোট ২৫০৪৩।
নবম সংসদ: ২৯ ডিসেম্বর ২০০৮ সালের নির্বাচনে মনোরনঞ্জ শীল গোপাল-আওয়ামী লীগ, প্রাপ্ত ভোট- ১৪৩০৯৭ ও মো. হানিফ আল কাফী-জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ, প্রাপ্ত ভোট-১০৭১৬৮।
অষ্টম সংসদ: ১ অক্টোবর ২০০১ সালের নির্বাচনে মাওলানা আবদুল্লাহ আল কাফী- জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ, প্রাপ্ত ভোট- ৮৮৬৬৯ ও আ: রউফ চৌধুরী আওয়ামী লীগ, প্রাপ্ত ভোট- ৬০১৯৭।
সপ্তম সংসদ: ১২ জুন ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আ: রউফ চৌধুরী- আওয়ামী লীগ, প্রাপ্ত ভোট- ৬০৬৮১ ও সৈয়দ আ: রেজা হোসেন- বিএনপি, প্রাপ্ত ভোট- ৩২৪৩৭।
পঞ্চম সংসদ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৯১ সালের নির্বাচনে আমিনুল ইসলাম- আওয়ামী লীগ, প্রাপ্ত ভোট- ৫৬১৯১ ও আবদুল্লাহ আর কাফী জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ, প্রাপ্ত ভোট- ৩৫৫৯৮।
দিনাজপুর-২ (বিরল-বোচাগঞ্জ): দিনাজপুর-২ (বিরল-বোচাগঞ্জ) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেন ৯ জন প্রার্থী। এই আসনে ৯ প্রার্থীর সকলকেই বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এরা হলেন বিএনপির প্রার্থী মো. সাদিক রিয়াজ পিনাক চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর এ কে এম আফজালুল আনাম, জাতীয় পার্টির মো. জুলফিকার হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মুহাম্মাদ রেদওয়ানুল কারীম রাবিদ, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. মোকারম হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জোবায়ের সাঈদ,জাতীয় পার্টি-,জেবি'র সুবীর চন্দ্র শীল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আনোয়ার চৌধুরী জীবন ও দিনাজপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ন ম বজলুর রশিদ। এ আসবে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন,জাতীয় পার্টি জেবি'র প্রার্থী সুবীর চন্দ্র শীল।
জেলা বিএনপির সদস্য সাদিক রিয়াজ চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়ার পর দলের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। এ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মোজাহারুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আ ন ম বজলুর রশিদ ও শিক্ষা সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম। প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে তাঁদের অনুসারীরা কাফনের কাপড় পরে,ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে এবং বিক্ষোভ মশাল মিছিল করেছেন বেশ ক'দিন।
বিএনপির একাংশের দাবি আওয়ামীলীগের পূণর্বাসনকারী সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক। তাই বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী দিনাজপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ন ম বজলুর রশিদ, প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মাঠে নেমেছেন।
এ নিয়ে চরম দ্বিধা-দ্বন্দ্বে, ত্রিমুখী-বিড়ম্বনায় পড়েছে দলটির মাঠ পর্যায়ের তৃনমুল নেতা কর্মীরা। তারা যেন অথৈজলে হা-বু-ডু-বু খাওয়ার মত অবস্থা।
লম্বা সময় দুইভাগে বিভক্ত হয়ে মাঠে উঠান বৈঠক, সেমিনার, পথসভা, জনসভায় প্রচার প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।দলীয় হাই কমান্ডের নির্দেশনা থাকলেও নেতারা এখনো এক মঞ্চে উঠতে পারে নাই। হতে পারেনি ঐক্যমত।
এ বিষয়ে বিএনপির প্রার্থী সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক বলেন, ‘এই আসনে আমার কয়েকজন সহযোদ্ধাও মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। দল আমাকে মনোনয়ন দেওয়ায় অন্যরা অসন্তুষ্ট হয়েছেন। তবে আমাদের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই। বিএনপির ভোট বিএনপিতেই পড়বে।
সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক আরো জানান, 'আমি গত ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়েছিলাম। এবারও বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম আমাকে পুনরায় দিনাজপুর- ২ আসনের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন। এ জন্য আমি দলের প্রয়াত চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সুযোগ্য পুত্র তারুণ্যের অহংকার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা।'
তিনি বলেন, বিএনপি একটি সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল। এখানে মতের ভিন্নতা থাকতে পারে, তবে আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য এক—গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও দেশের মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনা। যারা মনোনয়ন না পেয়ে হতাশ, তাদের আমি আহ্বান জানাই—চলুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ ভাবে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করি। আগামী দিনে বিএনপি সরকার গঠন করলে, দিনাজপুর- ২ আসনে দুর্নীতি বা স্বজনপ্রীতির কোনো স্থান থাকবে না। আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে এলাকার উন্নয়নে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সকলে একসঙ্গে কাজ করব। পলাতক ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসররা এখনও ষড়যন্ত্র করছে, নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু এই এলাকার জনগণ আর বিভ্রান্ত হবে না। তারা ধানের শীষের পক্ষে রায় দেবে।'
এ আসনে বিএনপি নেতা সাবেক বিরল উপজেলা চেয়ারম্যান আ ন ম বজলুর রশিদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় বিএনপি প্রার্থী সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক কিছুটা বেকায়দায় পড়েছেন। এতে জামায়াতের প্রার্থী রয়েছেন সুবিধাজনক অবস্থানে।
বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আ ন ম বজলুর রশিদও টেনে নিয়েছেন, তৃণমূল বিএনপির অনেক নেতা-কর্মী। আওয়ামী লীগ শাসনামলে তিনি অনেক জেল-জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।তিনি বিরলের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবেও জনপ্রিয়তায় রয়েছেন।
অন্যদিকে এ আসনে দু'টি উপজেলার মোট ভোটারের মধ্যে এক তৃতীয়াংশ ভোট বোচাগঞ্জ উপজেলায়। আর বাকি ভোট বিরল উপজেলায়। বোচাগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা বিএনপি প্রার্থী সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাকে বিরল উপজেলার দলীয় অনেক নেতা-কর্মী ও ভোটার এখনো গ্রহণ করতে পারছেন না। তাই, বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় নির্বাচনে বিএনপি হেরে যাওয়া সংকা দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এক কথায় বিএনপির প্রার্থী রিয়াজ চৌধুরী পিনাকের বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আ ন ম বজলুর রশিদ।
আসনটিতে প্রথমবারের মতো প্রার্থী হচ্ছেন জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য এ কে এম আফজালুল আনাম। আফজালুল আনাম বলেন, 'সব দিক বিবেচনা করে ভোটাররা আমাকে কথা দিয়েছেন ভোট দিবেন। আমি নির্বাচিত হলে এই আসনটি দেশের মডেল আসনে রূপান্তর হবে। মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বেকারত্ব দূর হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। চাঁদাবাজি, খুন, জখম, রাহাজানিসহ সকল অবিচার-দুঃশাসন বন্ধ হবে। মানুষ ঠিকমত শান্তিতে ঘুমাতে পারবেন।'
অন্যদিকে জাতীয় পার্টি (এরশাদ) এর সাবেক বোচাগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যান জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট মোঃ জুলফিকার হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ড.আনোয়ার চৌধুরী জীবন নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। জীবন চৌধুরীর দাবি মানব সেবক হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন কাজ করছেন।এবার নির্বাচনে জনগণ তাকে চাইছেন।
জাতীয় পার্টি-জেপি’র সুধীর চন্দ্র শীল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মুহাম্মাদ রেদওয়ানুল কারীম রাবিদ, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. মোকারম হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জোবায়ের সাঈদও মাঠে নেমেছেন।
দিনাজপুর-২ আসনে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬৬ হাজার ২০৬ জন, পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৪ হাজার ১২২ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৮২ হাজার ৮৪ জন।
দশম সংসদ: ৫ জানুয়ারি ২০১৪ সালের নির্বাচনে খালিদ মাহমুদ চৌধুর- আওয়ামী লীগ
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত।
নবম সংসদ: ২৯ ডিসেম্বর ২০০৮ সালের নির্বাচিনে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী-আওয়ামী লীগ, প্রাপ্ত ভোট-১৩৮১৫২ ও লে: জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান-বিএনপি, প্রাপ্ত ভোট- ৮৯৪১৫।
অষ্টম সংসদ: ১ অক্টোবর ২০০১ সালের নির্বাচনে লে: জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান- বিএনপি, প্রাপ্ত ভোট- ৭৯৪৯০ ও শ্রী সতীশ চন্দ্র রায়, আওয়ামী লীগ, প্রাপ্ত ভোট- ৭১২২৯।
সপ্তম সংসদ: ১২ জুন ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে শ্রী সতীশ চন্দ্র রায় আওয়ামী লীগ, প্রাপ্ত ভোট- ৫৫৫৫১ ও এ.এফ.এম. সিরাজুল হক চৌধুরী, জাতীয় পার্টি, প্রাপ্ত ভোট-৪৭৬১১।
পঞ্চম সংসদ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৯১ নির্বাচনে শ্রী সতীশ চন্দ্র রায় আওয়ামী লীগ, প্রাপ্ত ভোট- ৪৯৪৪০ ও এ.এফ.এম. সিরাজুল হক চৌধুরী জাতীয় পার্টি, প্রাপ্ত ভোট-৩২৫০৮।
দিনাজপুর-৩ (সদর): দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন ১০ প্রার্থী। এদের মধ্যে কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী অমৃত রায়ের মনোনয়ন পত্র বাতিল ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করায় তাঁর মনোনয়ন পত্র স্থগিত করা হয়েছে। অপর ৮ জন প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। বৈধ প্রার্থীরা হলেন, বিএনপির সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, জামায়াতে ইসলামীর মো. মাঈনুল আলম, জাতীয় পার্টির আহমেদ শফি রুবেল, জনতার দলের মো. রবিউল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের মো. খাইরুজ্জামান, বাসদের মো. কিবরিয়া হোসেন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের লায়লাতুল রিমা ও খেলাফত মজলিসের মো. রেজাউল করিম।
এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন খেলাফত মজলিসের মো. রেজাউল করিম। পরে কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী অমৃত রায়ের,আইনী লড়াইয়ে মনোনয়ন পত্র বৈধ ঘোষণা হয়েছে।
এ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন প্রায় অর্ধডজন নেতা। বিভিন্ন সময় পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়ে তাঁরা ছিলেন আলোচনায় তুঙ্গে। কিন্তু ৩ নভেম্বর দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে প্রার্থী ঘোষণা করায় সবাই এককাট্টা হয়ে যান। নিজ নিজ দায়িত্বে খালেদা জিয়ার পক্ষে নির্বাচনী মাঠে কাজ করতে শুরু করেন তারা।খালেদা জিয়ার পৈতৃক নিবাস হওয়ায় আসনটি ‘বিএনপির ঘাঁটি’ হিসেবে পরিচিত। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনসহ টানা তিনবার জয় পেয়েছিলেন খালেদা জিয়ার বোন খুরশীদ জাহান হক।
এবার এ আসনে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচন করলে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা ছিলো বেশি। জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র উত্তোলন এবং দাখিলও করা হয় সময় মতোই। হঠাৎ মনোনয়ন পত্র দাখিলের শেষ দিনে বিএনপি'র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র উত্তোলন ও দাখিল করেন দিনাজপুর পৌর সভার সাবেক মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। এনিয়ে তুলকালাম পড়ে যায় দলের ভেতরেই। জেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলাল এবং সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচি প্রেস ব্রিফিং এর মাধ্যমে গাণমাধ্যমকর্মীদের জানিয়ে দেয়,এটা তামাশা করছেন সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। আমাদের একমাত্র প্রার্থী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
অন্যদিকে সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, 'আমি হাইকমান্ডের নির্দেশে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে।'
৩০ ডিসেম্বর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া'র মৃত্যুর পর যাচাই-বাছাইয়ে জেলা নির্বাচন রিটার্নিং কমিশন তাঁর মনোনয়নপত্র স্থগিত করেন। সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমকে বিএনপির বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন।
হতাশ হয়ে যায় বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশি অন্যান্য প্রার্থী ও তাদের নেতা-কর্মী। পরে হাইকমান্ডের নির্দেশে সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের পক্ষে কাজ করা শুরু করেন তারা। কিন্তু, কিছু অংশ নেতা-কর্মীর ভেতরে এখনো তুষের আগুন জ্বলছে।প্রকাশ্যে কিছু বলতে না পারলেও গোপনে বিরোধিতা করছেন সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের।
এ বিষয়ে দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি মনোনয়ন প্রত্যাশি এ্যাড. মো. মোফাজ্জল হোসেন দুলাল বলেন, দিনাজপুর সদর-৩ আসনের প্রার্থী দিনাজপুরে কন্যা,আমাদের গৌরব দেশনেত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন। তার মৃত্যুর পর এ আসনে তিনবারের সফল সাবেক মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বিএনপির প্রার্থী। আমরা আশা করছি,আমরা তাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করতে পারবো। এই আসনে ধানের শীষ মার্কার গনজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। প্রয়াত প্রিয় নেত্রীর পবিত্র আমানত এই আসনে আমরা সব নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা একযোগ হয়ে সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের নির্বাচনী প্রচারণায় দায়িত্ব পালন করছি।'
দিনাজপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও মনোনয়ন প্রত্যাশিদের আরেকজন বখতিয়ার আহমেদ কচি বলেন, 'বরাবরই এই আসনটির মানুষ উন্নয়ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়। একমাত্র বিএনপি তথা প্রয়াত মন্ত্রী বেগম খুরশিদ জাহান হকের হাত ধরে দিনাজপুর বাসীর উন্নয়ন হয়েছিল। যার সুফল দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়বাসী ভোগ করছে। আমাদের ম্যাডাম প্রয়াত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন এই আসনের প্রার্থী। জন্য আমরা দিনাজপুরবাসী গর্বিত। দিনাজপুরবাসী ম্যাডামকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করে জেলার উন্নয়ন ও ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনবে বলে আমাদের দৃঢ় আশা ছিলো। কিন্তু তাঁর মৃত্যুতে আমরা অনেকটা আশাহত। তবে আগামীর বাংলাদেশকে সুরক্ষিত দেশ করার স্বার্থে দিনাজপুরের সার্বিক উন্নয়নের জন্য বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমকে সর্বোচ্চ ভোটে জিতিয়ে আনার আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমকে জিতিয়ে আনার।'
বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, 'বিগত সরকার আমলে জনগনের ভোটে নির্বাচিত হয়েছ আমি দায়িত্ব পেলেনও দিনাজপুর পৌরসভার তেমন কোন উন্নয়ন করতে পারিনি। আমাকে বাঁধা প্রদান করা হয়েছে। জেল-জুলুমের শিকার হয়েছি আমি। নির্বাচন করে আমাকে সুযোগ দেওয়া হলে এ আসনের সকল রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন করার চেষ্টা করবো। দিনাজপুর সিটি কর্পোরেশন, দিনাজপুর শহরের প্রতিটি প্রধান প্রধান সড়ক গুলোকে ৪ লেন-এ রুপান্তর, আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণ, পঞ্চগড় টু দিনাজপুর হয়ে- যশোর-খুলনা-কুষ্টিয়া-কক্সবাজার-বরিশাল রুটে ট্রেন যোগাযোগ ব্যবস্থা, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে বিশ্ব মানের হাসপাতালের রূপান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে শিল্প-কলকারখানা স্থাপন, দিনাজপুর সরকারি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর, রামসাগর ও শিশু পার্ককে আধুনিক মানের পর্যটক বিনোদন কেন্দ্রে রূপান্তর করবো ইনশাআল্লাহ্।'
এ আসনে জামায়াতে প্রার্থী হয়েছেন জামায়াত নেতা এডভোকেট মো.মাইনুল ইসলাম।
তিনি দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন।
জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী অ্যাডভোকেট ময়নুল ইসলাম বলেন, “আমি শহর থেকে গ্রামাঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে যাচ্ছি। মানুষদের কথা শোনার চেষ্টা করছি। মানুষ বলছে,আপনার আসার দরকার নেই, আমরা আপনার পাশে আছি।
বিগত ১৫ বছরে শহর কিংবা গ্রাম সব জায়গায় উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছে এ অঞ্চলের মানুষ। আমি নির্বাচিত হলে শহর ও গ্রামের উন্নয়নে কাজ করবো।পাশাপাশি যেসব বড় বড় কল কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে সেগুলো চালু করার ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। শহরের ঘাগড়া ও গীর্জা ক্যানেল খনন করে প্রমোত তরী চালানোর ব্যবস্থা করবো। দিনাজপুর জেলা কৃষি প্রধান জেলা। এই জেলায় কৃষি পণ্যের জন্য হিমাগার নির্মাণ করা হবে। এছাড়াও জনগণ যাতে স্বাস্থ্য সেবা সহজে পায় সে বিষয়ে কাজ করবো অনিয়ম, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করবো।"
এ আসনে জেলা জাতীয় পার্টি (এরশাদ) এর জেলা সভাপতি আহম্মেদশফি রুবেল প্রার্থী হয়েছেন।
তিনি বলেন, 'আমাকে বিজয়ী করলে রাস্তা-ঘাট,হাট-বাজার, ব্রীজ-কালভার্ড, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, যানজট নিরসনসহ যা যা দরকার তার সবই করবো। পৌরসভাকে একটি আদর্শ পৌরসভা, শহরকে মডেল শহর হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করবো।
তিনি বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি হোসেইন মুহম্মদ এরশাদ সারা দেশে উন্নয়নের সূচনা করেছিল। তার আদর্শ অনুসরন করে আমি এ আসনে উন্নয়নে কাজ করবো।'
দিনাজপুর-৩ সদর আসনে ৫ জানুয়ারি ২০১৪ সালের নির্বাচনে ইকবালুর রহিম-আওয়ামী লীগ, প্রাপ্ত ভোট-৯৬৩৪৯ ও মাহমুদুল হাসান মানিক ওয়ার্কাস পার্টি প্রাপ্ত ভোট ৩৩২৭।
নবম সংসদ: ২৯ ডিসেম্বর ২০০৮ সালের নির্বাচনে ইকবালুর রহিম- আওয়ামী লীগ, প্রাপ্ত ভোট- ১৪০৯৩৪ ও শফিউল আলম প্রধান- বিএনপি, প্রাপ্ত ভোট- ১০৭৩৫৩।
অষ্টম সংসদ: ১ অক্টোবর ২০০১ সালের নির্বাচনে খুরশীদ জাহান হক-বিএনপি, প্রাপ্ত ভোট- ১০২৪৬০ ও এড্ আবদুর রহীম-আওয়ামী লীগ, প্রাপ্ত ভোট- ৮০৮১৪।
সপ্তম সংসদ: ১২ জুন ১৯৯৬ নির্বাচনে খুরশীদ জাহান হক-বিএনপি, প্রাপ্ত ভোট- ৫১৮০২ ও
এড্ আবদুর রহীম আওয়ামী লীগ, প্রাপ্ত ভোট- ৪৯৮৫৭।
পঞ্চম সংসদ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৯১ সালের নির্বাচনে এড্ আবদুর রহীম-বাকশাল, প্রাপ্ত ভোট- ৪৪৭৮৪ ও মুখলেছুর রহমান জাতীয় পার্টি, প্রাপ্ত ভোট-২৭৩১৮।
দিনাজপুর- ( সদর) ৩ আসনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১১ হাজার ৪ জন, পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২ হাজার ৮৮৭ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৮ হাজার ১১৫ জন, হিজরা ভোটার ২ জন। এ আসনে এবার নতুন ভোটার ১৪ হাজার ৪৫জন। বাদ পড়েছে ৬ হাজার ৩১৭ জন ভোটার।
দিনাজপুর-৪ (খানসামা-চিরিরবন্দর): দিনাজপুর-৪ (চিরিরবন্দর-খানসামা) আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন ৪ প্রার্থী। এই ৪ প্রার্থীর সকলের মনোনয়ন পত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। বৈধ প্রার্থীরা হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী মো. আক্তারুজ্জামান মিয়া, জামায়াতে ইসলামের মো. আফতাবউদ্দীন মোল্লা, জাতীয় পার্টির মো. নুরুল আমিন শাহ ও ইসলামী আন্দোলনের মো. আনোয়ার হোসাইন।
বিগত দেড় দশক নেতা-কর্মীদের পাশে থাকা
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাবেক এমপি আক্তারুজ্জামান মিয়া এ আসনে মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনী প্রচারে নেমে ভোট চেয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে,ভোটারদের মন জয় করতে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থী। দৌঁড়ঝাপও শুরু করেছেন তারা। দিনাজপুর- ৪ (চিরিরবন্দর-খানসামা) আসনটি বেশির ভাগ সময়ই আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। ২০০১ সালের ১ অক্টোবর নির্বাচনে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে আলহাজ্ব মোঃ আখতারুজ্জামান মিয়া আওয়ামীলীগের প্রার্থী হুইপ মিজানুর রহমান মানুকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে বিএনপির পক্ষে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৬ সালের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রাথী হলেও দলীয় নেতাকর্মীরা তার সঙ্গ না ছেড়ে তাকে অকুন্ঠ সমর্থন দেয়ায় দল তাকে পুনরায় ২০০৮ সালে ও ২০১৮ সালে মনোনয়ন দেয়। এবারো মনোনয়ন দিয়েছেন। এ আসনে বিএনপিতে তার আকাশচুম্বি জনপ্রিয়তা। অত্র আসনে বর্তমানে রয়েছে বিএনপির শক্তিশালী অবস্থান। এই শক্তিশালী অবস্থান বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ আখতারুজ্জামান মিয়া কেন্দ্রীক। বর্তমানে দিনাজপুর জেলার মধ্যে এ আসনটিকে বিএনপির ভোটব্যাংক হিসেবে গণ্য করা হয়। সেই হিসেবে সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ আখতারুজ্জামান মিয়া শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।
অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে সরব রয়েছেন। এ আসনে জামায়াতের রংপুর অঞ্চল টিম সদস্য ও সাবেক চিরিরবন্দর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আফতাবউদ্দিন মোল্লা কেন্দ্রীয় ভাবে চুড়ান্ত মনোনিত হয়েছেন। কোন কোন্দল ছাড়াই একক প্রার্থী হিসেবে দলীয় নেতাকর্মীরা তার জন্য পুরোদমে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তারা ইতিমধ্যে পুলিং এজেন্ট গোপনে ঠিক করে ফেলেছেন।
আফতাবউদ্দিন মোল্লা প্রতিদিন হিন্দু ধর্মলম্বীদের হরিবাসরে, লীলায় ও মহানাম সংকীর্তন অনুষ্ঠানে গিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। এ আসনে হিন্দু ধর্মালম্বীদের নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অমুসলিম শাখা গঠন করা হয়েছে। দাওয়াতী অভিযানের মাধ্যমে প্রতিটি পাড়ার প্রতিটি বাড়িতে সদস্য ফরম দিয়ে নতুন সদস্য করে নিচ্ছেন। প্রতিটি ইউনিয়নে ৫ জন করে বেতনভ‚ক্ত মহিলা শুধুমাত্র মহিলাদেরকে জামায়াতে ভোট দেয়া ও ইসলামী আইন চালুর আশ্বাস দিয়ে তাদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন।
জামায়াত ইতিমধ্যে এ আসনে বিভিন্ন সামাজিক, পেশাজীবি সংগঠনের কমিটি করে ব্যাপকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু করে দিয়েছেন। পাশাপাশি তারা ফেসবুকসহ বিভিন্ন মিডিয়াতে ব্যাপকভাবে সরব হয়েছেন।
জাতীয়পার্টি (এরশাদ) এর নুরুল আমিন শাহ্ প্রার্থী হয়েছেন এই আসনে। অবস্থান ততোটা দৃশ্যমান নয়।
তবে এ আসনে রয়েছে আওয়ামীলীগের তীব্র কোন্দল ও দ্বন্দ্ব। পাশাপাশি তাদের নিদিষ্ট ভোটও রয়েছে। গত ১৭ বছর ফ্যাসিস আচরণসহ নানান রকম দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে সাধারণ মানুষ তাদের প্রতি বর্তমানে ত্যক্ত ও বিরক্ত। এছাড়াও গত জুলাই-আগষ্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতার বিপ্লবের পরে সকল নেতারা প্রায় এলাকাছাড়া। কেউ কেউ জামায়াত বিএনপির নেতাদের ম্যানেজ করে এলাকায় থাকলেও অতি সাবধানে চলাফেরা করছেন।
বিএনপি নেতা ও জামায়াত নেতারা জানান, তারা বিনা চ্যালেঞ্জে কাউকে ছেড়ে দিবেনা। সাধারণ, তরুণ ও নবীন ভোটাররা জানান, যিনি দূর্নীতি, অনিয়ম, মাদক ও সকল ধরণের বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে আগামীদিনে উন্নয়নের নেতৃত্ব দেবেন এবং এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন এমন প্রার্থীকেই তারা ভোট দেবেন।
দিনাজপুর-৪ আসনে ভোটার ৪ লাখ ১৬ হাজার ৪১ জন, পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৮ হাজার ৩৮০ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৭ হাজার ৬৫৯ জন, হিজরা ভোটার ২ জন।
দশম সংসদ: ৫ জানুয়ারি ২০১৪ সালের নির্বাচনে আবুল হাসান মাহমুদ আলী-আওয়ামী লীগ, প্রাপ্ত ভোট-১৪২৬৪১ ও মো. এনামুল হক সরকার ২৭৯৭।
নবম সংসদ:২৯ ডিসেম্বর ২০০৮ সালের নির্বাচনে অবুল হাসান মাহমুদ আলী-আওয়ামী লীগ, প্রাপ্ত ভোট- ১১৮১৮০ ও আকতারুজ্জামান মিয়া-বিএনপি, প্রাপ্ত ভোট- ৭৯১৩৩।
অষ্টম সংসদ: ১ অক্টোবর ২০০১ সালের নির্বাচনে আকতারুজ্জামান মিয়া-বিএনপি, প্রাপ্ত ভোট- ১০৮৩৬০ ও মিজানুর রহমান মানু- আওয়ামী লীগ, প্রাপ্ত ভোট- ৮৭৩৫১।
সপ্তম সংসদ: ১২ জুন ১৯৯৬ সালের নির্বাচনেমিজানুর রহমান মানু-আওয়ামী লীগ, প্রাপ্ত ভোট- ৫৯৭৪৬ ও মো. হালিম এড্- বিএনপি, প্রাপ্ত ভোট- ৪৪৩৯৪।
পঞ্চম সংসদ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৯১ সালের নির্বাচনে মিজানুর রহমান মানু-আওয়ামী লীগ, প্রাপ্ত ভোট- ৫৮৭৪৫ ও আফতাব উদ্দিন মোল্লা জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ, প্রাপ্ত ভোট- ৩৫৫৩৮।
দিনাজপুর-৫ (ফুলবাড়ী-পার্বতীপুর): দিনাজপুর-৫ (পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী) আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন ১০ প্রার্থী। এদের মধ্যে মধ্যে আমজনতা দলের মো. ইব্রাহিম আলী মন্ডলের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়। মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয় অপর ৯ প্রার্থীর। প্রার্থীরা হলেন, বিএনপির এ কে এম কামরুজ্জামান, জামায়াতের মো. আনোয়ার হোসেন, এনসিপির ডা. আব্দুল আহাদ, জাতীয় পার্টির মো. কাজী আব্দুল গফুর, খেলাফত মজলিসের মো. আব্দুল কাদের চৌধুরী। এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন স্থানীয় বিএনপি দুই নেতা-পার্বতীপুর উপজেলা বিএনপি সভাপতি এ জেড এম রেজওয়ানুল হক ও বিএনপি নেতা জাকারিয়া বাচ্চু। এছাড়াও মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হযরত আলী বেলাল ও মো. রুস্তম আলী।
এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন,বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির মো: আনোয়ার হোসেন ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. আব্দুল কাদের চৌধুরী।
প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদ বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি, মধ্যপাড়া পাথরখনি ও দেশের একমাত্র কয়লা ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে এই অঞ্চলে। এছাড়াও রয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় রেলওয়ে জংশন পার্বতীপুর রেল জংশন। বাংলাদেশের ১০ নম্বর ও দিনাজপুর-৫ আসন গঠিত ফুলবাড়ী ও পার্বতীপুর উপজেলা নিয়ে।
এই আসনে গত সাতটি নির্বাচনে জিতেছিল আওয়ামী লীগ। এবার ভোটে অংশ নিতে পারছেনা কার্যক্রম নিষিদ্ধ এই দলটি। একবার ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে বিএনপির এ জেড এম রেজওয়ানুল হক জিতেছিলেন এ আসনে।
বিএনপির দ্বিতীয় দফা (গত ৪ ডিসেম্বর) প্রার্থী ঘোষণায় সকল জল্পনাকল্পনার অবসান ঘটিয়ে
এ আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে যুক্তরাজ্য বিএনপির সহসভাপতি এ কে এম কামরুজ্জামানকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
এ নিয়ে ফুঁসে উঠে বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মী এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাবেক এমপি এ জেড এম রেজওয়ানুল হক ও বিএনপি নেতা জাকারিয়া বাচ্চুর সমর্থকরা। কোন ক্রমে তারা তা মেনে নিতে পেরে মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ, মিছিল,মিটিং,মানব্বন্ধন ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এ কে এম কামরুজ্জামান থেকে যায় বিএনপির প্রার্থী। তাই, বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন,পার্বতীপুর উপজেলা বিএনপি সভাপতি সাবেক এমপি এ জেড এম রেজওয়ানুল হক ও বিএনপি নেতা জাকারিয়া বাচ্চু।
দিনাজপুর-৫ (পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী) আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সরগরম রাজনৈতিক অঙ্গন। কে বিজয় ছিনিয়ে আনবে ধানের শীষের প্রার্থী,বিএনপি বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী,জামায়াত না এনসিপি ?
এ প্রশ্ন এখন গ্রাম থেকে শহর,চায়ের দোকান থেকে আড্ডার টেবিল পর্যন্ত সর্বত্র আলোচনায়।
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাবেক এমপি বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী এ জেড এম রেজওয়ানুল হক এবং বিএনপি এ কে এম কামরুজ্জামান।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাবেক এমপি এ জেড এম রেজওয়ানুল হক নির্বাচিত হলে পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ী উপজেলাকে মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতি মুক্ত করে একটি “স্মার্ট উপজেলা” হিসেবে গড়ে তুলতে চান। শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া কার্যক্রম ও যুব সমাজের দক্ষতাকে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
বিএনপির প্রার্থী এ কে এম কামরুজ্জামান এই আসনে জয়ের বিষয়ে শতভাগ আশাবাদী। তিনি মনে করেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এ আসনে ধানের শীষ বিজয়ী হবে।
দিনাজপুর-৫ আসনে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি অঙ্গীকার করেছেন ব্যারিস্টার কামরুজ্জামান।
তরুণ সমাজকে খেলাধুলায় মনোনিবেশ করাতে একটি মানসম্মত ক্রীড়া ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছেন তিনি। যেটি হবে জাদুকর সামাদের নামে।
তবে এই সুযোগে প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করছিলেন জামায়াতের প্রার্থী জেলা কর্মপরিষদের সদস্য আনোয়ার হোসেন। কিন্তু, জামায়াতের জোটবদ্ধ নির্বাচনে এই আসনটি এনসিপির প্রার্থী ডা. আব্দুল আহাদ ছেড়ে দিয়েছে জামায়াত। ৩ জানুয়ারি প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে আনিয়েছেন জামায়াত প্রার্থী মো.আনোয়ার হোসেন।
এতে বিএনপির প্রার্থী অথবা বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীর জন্য প্লাস পয়েন্ট হয়েছে। কারণ,জামায়াতের জন্য সুযোগ থাকলেও এনসিপির জন্য এ আসনে বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া ততোটা আশাবাদী নয়,রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এ আসনে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষেরা রাজনীতির বাইরের সমিকরণে বিশ্বাসী। তারা বলছেন, সব প্রার্থীরা ভোটের আগে অনেক প্রতিশ্রুতি দিলেও ভোট শেষে আর খুঁজে পাওয়া যায় না। আবার নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশা এই অঞ্চলে দুইটি খনির পাশাপাশি রয়েছে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র যদি এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে বেশি বেশি করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যায় তবে বেকার সমস্যার সমাধান হবে।
দিনাজপুর-৫ আসনে ভোটার ৪ লাখ ৭১ হাজার ২২০ জন, পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৫ হাজার ৩০ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৩৬ হাজার ১৮৭ জন, হিজরা ভোটার ৩ জন।
এ আসনে ৫ জানুয়ারি ২০১৪ নির্বাচনে মোস্তাফিজুর রহমান-আওয়ামী লীগ, প্রাপ্ত ভোট-৯৩৫৭৬ ও মো. আফছার আলী ওয়ার্কাস পার্টি -প্রাপ্ত ভোট-৩২২৪। ২৯ ডিসেম্বর ২০০৮ সালের নির্বাচনে
মোস্তাফিজুর রহমান-আওয়ামী লীগ, প্রাপ্ত ভোট- ১৬৪৪১৯ ও রেজওয়ানুল হক -বিএনপি, প্রাপ্ত ভোট-১২৬৫২৯।
অষ্টম সংসদ: ১ অক্টোবর ২০০১ সালের নির্বাচনে মোস্তাফিজুর রহমান-আওয়ামী লীগ, প্রাপ্ত ভোট- ১০৫৩৩৭ ও রেজওয়ানুল হক বিএনপি, প্রাপ্ত ভোট-৯৮৮৮৩। সপ্তম সংসদ: ১২ জুন ১৯৯৬ নির্বাচনে
মোস্তাফিজুর রহমান- আওয়ামী লীগ, প্রাপ্ত ভোট- ৭১৩৬৩ ও ওয়াব সরকার জাতীয় পার্টি, প্রাপ্ত ভোট-৪৯১৫৩।
পঞ্চম সংসদ :২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৯১ সালের নির্বাচনে মোস্তাফিজুর রহমান- আওয়ামী লীগ, প্রাপ্ত ভোট- ৬৬৫৩৩ ও ওয়াব সরকার জাতীয় পার্টি, প্রাপ্ত ভোট-৪১০৩৯।
দিনাজপুর-৬ (বিরামপুর-নবাবগঞ্জ-ঘোড়াঘাট-হাকিমপুর): দিনাজপুর-৬ (বিরামপুর-হাকিমপুর-নবাবগঞ্জ-ঘোড়াঘাট) আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন মোট ৮ প্রার্থী। এদের মধ্যে ২ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শাহনেওয়াজ ফিরোজ শুভ ও শাহ মো. আব্দুল্লাহর মনোনয়ন পত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়। অপর ৬ জন প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৈধ প্রার্থীরা হলেন বিএনপির ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, জামায়াতে ইসলামীর আনোয়ারুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির মো. রেজাউল হক, এবি পার্টির মো. আব্দুল হক, ইসলামী আন্দোলনের মো. নুর আলম সিদ্দিক, এবং বাসদের মো. আব্দুল হাকিম। এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন, আমার বাংলাদেশ পার্টি-(এবি পার্টি)র মো. আব্দুল হক।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন এখানে দলটির প্রার্থী হয়েছেন। হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে তিনি সভা-সমাবেশ, উঠান বৈঠকসহ এলাকায় নানা কাজ করছেন।
অন্যদিকে ৯ মাসের বেশি সময় ধরে আসনটিতে প্রচারণা চালাচ্ছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম। ১৯৯১ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে এখানে জয় পেয়েছিল জামায়াত। আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন,দীর্ঘদিন ধরে জনগণের সঙ্গে আছি,কাজ করছি। ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। আশা করি এবারো এ আসনে জিতবে জামায়াত।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘এখানে জামায়াত দুবার জিতেছে ঠিকই। কিন্তু একবার বিএনপি প্রার্থী দেয়নি, আরেকবার জোটের প্রার্থী ছিল। এলাকায় বিএনপির প্রতি মানুষের যে আগ্রহ ও উচ্ছ্বাস দেখেছি, তাতে আমরা চিন্তিত নই।’
জাহিদ প্রকাশ্যে ঘোষণা করলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় এলে সরকারি কার্যক্রম ও অর্থনীতির সব স্তর হবে অত্যন্ত স্বচ্ছ।’ তিনি ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতি রোধ ও সরকারি খরচে জবাবদিহিতা নিশ্চিতে গুরুত্বারোপের প্রতিশ্রুতি দিলেন। শেষভাগে তিনি জনগণের আস্থা অর্জনের ওপর জোর দিয়ে বললেন, ‘জনগনের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে বিএনপি বিপুল ভোটে বিজয় লাভ করবে, ইনশাআল্লাহ।’
এ ছাড়াও জাতীয় পার্টি ( এরশাদ) এর এ্যাডঃ মোঃ রেজাউল হক প্রার্থী হয়েছেন। তার অবস্থান দৃশ্যমান নয়।
এ আসনের সাধারণ ভোটারদের অভিযোগ, 'নির্বাচন এলে রাজনৈতিক দলগুলো নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় গিয়ে জনগণের কথা ভুলে গিয়ে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
আমরা জান-মালের নিরাপত্তা চাই, নিশ্চিতায় ঘুমাতে চাই।এলাকার উন্নয়ন চাই।'
দিনাজপুর- ৬ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৭০ হাজার ৭৬৯ জন, এর মধ্যে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৮৬ হাজার ৬০ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৮৪ হাজার ৬৯৬ জন এবং হিজরা ভোটার সংখ্যা ১৩ জন।
দশম সংসদ: ৫ জানুয়ারি ২০১৪ সালের নির্বাচনে মো. শিবলী সাদিক-আওয়ামী লীগ, প্রাপ্ত ভোট-১১৫০৩৬ ও রবীন্দ্রনাথ শরেন ওয়ার্কাস পার্ট প্রাপ্ত ভোট ৩৪৯৯।
নবম সংসদ: ২৯ ডিসেম্বর ২০০৮ সালের নির্বাচনে আজিজুল হক চৌধুরী-আওয়ামী লীগ, প্রাপ্ত ভোট- ১৩৩৬১০ ও আনোয়ারুল ইসলাম- জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ, প্রাপ্ত ভোট- ১৩২৭৫২।
অষ্টম সংসদ: ১ অক্টোবর ২০০১ সালের নির্বাচনে মো. আজিজুর চৌধুরী-জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ, প্রাপ্ত ভোট- ১১০৫৯৮ ও মোস্তাফিজুর রহমান-আওয়ামী লীগ, প্রাপ্ত ভোট- ৮৮৯৪৩।
সপ্তম সংসদ: ১২ জুন ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে মোস্তাফিজুর রহমান-আওয়ামী লীগ, প্রাপ্ত ভোট- ৭৫২৬৮ ও আতাউর রহমান-বিএনপি,প্রাপ্ত ভোট- ৬২৪৯৫।
পঞ্চম সংসদ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৯১ সালের নির্বাচনে মো. আজিজুর চৌধুরী. জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ, প্রাপ্ত ভোট- ৪৩৯৮৯ ও অ. আ: সালাম আমান-বাকশাল প্রাপ্ত ভোট- ৩৭২৬৭।
দিনাজপুর জেলা নির্বাচন রিটার্নিং অফিসার জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম জানান,
ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এবার জেলায় পুরুষ ভোটার ১৩ লাখ ২২ হাজার ৩১০ জন, নারী ভোটার ১৩ লাখ ২৪ হাজার ৬৫১ জন ও হিজরা ভোটার ২২ জন। "আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৪১টি। তবে,বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্র এখনো চিহ্নিত করা হয়নি।'
তবে ২০১৮ সালে উত্তরের সীমান্ত জেলা দিনাজপুরের ৬টি সংসদীয় আসনের ৭৯১টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৬৮০টিই ঝুঁকিপূর্ণ ও ১১১টি সাধারণ ভোট কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এবং ২০২৪ সালে দিনাজপুরের ছয়টি আসনে ৮৩০টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৫৯৯টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহিৃত করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। ইতোমধ্যে নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ভোট কেন্দ্রে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর পাশাপাশি সেনা মোতায়েন থাকবে।, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষ হবে বলে আশাবাদী দিনাজপুর জেলা নির্বাচন রিটার্নিং অফিসার জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম।
(এসএস/এসপি/জানুয়ারি ২৪, ২০২৬)
পাঠকের মতামত:
- ‘অবহেলিত নড়াইলের উন্নয়নের জন্য ধানের শীষে ভোট দিন’
- আছিয়া প্রি-ক্যাডেট স্কুলে অভিভাবক সমাবেশে নবীন বরণ, কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা
- ‘কপোতাক্ষ নদীর উপর ব্রিজ ও টিআরএম বেইলি ব্রিজ নির্মাণ করবো’
- সাতক্ষীরা- ৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ড. মনিরুজ্জামানের বিশাল জনসভা গণমিছিল
- বনদস্যু ‘ডন বাহিনীর’ সদস্য পরিচয়ে সুন্দরবনে কর্মরত ২০ জেলেকে অপহরণ
- লৌহজংয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গ্রেপ্তার ৬
- চন্দ্রঘোনায় পিঠা উৎসব ও 'পোট্রেট'র ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত
- ‘আওয়ামী লীগ সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ধ্বংস করেছে’
- গোপালগঞ্জে আইনশৃংখলা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতা
- ফরিদপুরে গ্রামগঞ্জে ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে তৃণমূল কর্মীরা
- গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকদের সাথে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
- সাংবাদিক লাঞ্ছিত ও ক্যামেরা ভাঙচুরের প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন
- দেশে শুধু দুটোই মার্কা, নৌকা আর ধানের শীষ : ফখরুল
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুথান: আসাদ-মতিউরের রক্তে আঁকা একাত্তরের মানচিত্র
- পাবনায় কলাবাগান থেকে কিশোরের মরদেহ উদ্ধার
- দিনাজপুরে সরব নির্বাচনী মাঠ: বিএনপি কোন্দলে জামায়াত এগিয়ে
- বিআরটিএ ও ডামের উদ্যোগে ১১৮০ গণপরিবহণ চালককে প্রশিক্ষণ প্রদান
- উদ্যোক্তা থেকে ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক, ইমদাদুল হক সোহাগের রূপান্তরের গল্প
- তৃতীয় বিশ্ব যুদ্ধের ভয়াবহতা কেমন হবে?
- ডিবিএইচ ফাইন্যান্সের বগুড়া শাখার উদ্বোধন
- শ্রীনগরে বিএনপির নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত
- নড়াইলে কাভার্ড ভ্যান-মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে যুবক নিহত
- ‘স্বাবলম্বী না হওয়া পর্যন্ত বেকারদের মাসে ১০ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হবে’
- বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সমন্বয় কেন জরুরি
- শিক্ষা বিনিয়োগ, মানব উন্নয়ন ও সামাজিক রূপান্তরের আন্তঃসম্পর্ক
- 'কী কঠিন হৃদয় তার! এই জন্যই বুঝি তিনি সানগ্লাসে চোখ ঢেকে রাখতেন; চোখ দেখলেও নাকি খুনী চেনা যায়!'
- ‘ভারতের সঙ্গে আর নিরবতা নয়’
- ‘অবিলম্বে সেলিম তালুকদারের হত্যকারী জালিমদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে’
- খুদে কবিদের পদভারে মুখর নীলফামারী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ
- নবীনগরে সুশান্ত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩
- ভাত নাকি রুটি, কার জন্য কোনটা ভালো
- বরগুনায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান
- দশ মাসে আ.লীগের ৩ হাজার নেতাকর্মী গ্রেপ্তার
- বঙ্গোপসাগরে নৌকাডুবি, শিশুসহ ৯ রোহিঙ্গার মৃত্যু
- ৭১৯ কোটি ৫০ লাখ টাকার কেসিসির বাজেট ঘোষণা
- সঞ্চালক হিসেবে আবারও স্বীকৃতি পেলেন সাংবাদিক গৌরাঙ্গ দেবনাথ অপু
- ঠাকুরগাঁওয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল মাদরাসা শিক্ষার্থীর
- ‘শাহজালালের আগুন ফ্যাসিস্ট হাসিনার নাশকতার অংশ’
- বন্যার পানিতে পাঁচ দিন ধরে বন্ধ কুমিল্লা ইপিজেড
- ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৫ জনের মৃত্যু
- বিএনপির প্রার্থী বাছাই নিয়ে জমে উঠেছে সমীকরণ
- পারিবারিক ষড়যন্ত্রের শিকার ব্যবসায়ী আবুল বাশার শামীম
- 'পিতা যদি রাষ্ট্রপতির প্রটোকল মেনে বঙ্গভবনে থাকতেন, তাহলে বাঙালির এতো বড় মহাসর্বনাশ কেউ করতে পারতো না'
- নরসিংদীতে ট্রাকচাপায় সিএনজির ৬ যাত্রী নিহত
- ১৩ ডিসেম্বর বাগেরহাটের রামপাল থানা হানাদার মুক্ত হয়
২৪ জানুয়ারি ২০২৬
- ‘অবহেলিত নড়াইলের উন্নয়নের জন্য ধানের শীষে ভোট দিন’
- আছিয়া প্রি-ক্যাডেট স্কুলে অভিভাবক সমাবেশে নবীন বরণ, কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা
- ‘কপোতাক্ষ নদীর উপর ব্রিজ ও টিআরএম বেইলি ব্রিজ নির্মাণ করবো’
- সাতক্ষীরা- ৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ড. মনিরুজ্জামানের বিশাল জনসভা গণমিছিল
- বনদস্যু ‘ডন বাহিনীর’ সদস্য পরিচয়ে সুন্দরবনে কর্মরত ২০ জেলেকে অপহরণ
- লৌহজংয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গ্রেপ্তার ৬
- চন্দ্রঘোনায় পিঠা উৎসব ও 'পোট্রেট'র ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত
- ‘আওয়ামী লীগ সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ধ্বংস করেছে’
- গোপালগঞ্জে আইনশৃংখলা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতা
- ফরিদপুরে গ্রামগঞ্জে ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে তৃণমূল কর্মীরা
- গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকদের সাথে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
- পাবনায় কলাবাগান থেকে কিশোরের মরদেহ উদ্ধার
- দিনাজপুরে সরব নির্বাচনী মাঠ: বিএনপি কোন্দলে জামায়াত এগিয়ে
- উদ্যোক্তা থেকে ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক, ইমদাদুল হক সোহাগের রূপান্তরের গল্প
- শ্রীনগরে বিএনপির নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত
- নড়াইলে কাভার্ড ভ্যান-মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে যুবক নিহত
- ‘স্বাবলম্বী না হওয়া পর্যন্ত বেকারদের মাসে ১০ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হবে’
- দুর্গম পাহাড়ে কাপ্তাই ৪১ বিজিবির ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প
- সালথায় ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে সেচ্ছাসেবক লীগ নেতার পদত্যাগ
- ভাঙ্গায় বাস–ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ২ জন নিহত, আহত ১৫
- ‘হিন্দু মা বোনদের সিঁদুরের মুল্য দিতে জানে বিএনপি’
- গোপালগঞ্জে রাতের আঁধারে সরস্বতী মূর্তি ভাঙচুর
- ফরিদপুর-৩ আসনে জামায়াত প্রার্থীর বিশাল গণমিছিল ও শোডাউন
- মধুখালীতে অবৈধ অস্ত্র তৈরির কারখানায় যৌথ অভিযান, অস্ত্রসহ ওয়ার্কশপ মিস্ত্রি আটক
- ‘একটি দল ধর্মকে পুঁজি করে আপনাদের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে’
-1.gif)








