E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

মাথাপিছু ৪০ হাজার টাকা মুক্তিপণের দাবি

বনদস্যু ‘ডন বাহিনীর’ সদস্য পরিচয়ে সুন্দরবনে কর্মরত ২০ জেলেকে অপহরণ

২০২৬ জানুয়ারি ২৪ ২০:০০:১৩
বনদস্যু ‘ডন বাহিনীর’ সদস্য পরিচয়ে সুন্দরবনে কর্মরত ২০ জেলেকে অপহরণ

রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : বনদস্যু ‘ডন বাহিনীর’ সদস্য পরিচয়ে মাথাপিছু ৪০ হাজার টাকা মুক্তিপণের দাবিতে সুন্দরবনে কর্মরত ২০ জেলেকে অপহরণ করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পশ্চিম সুন্দরবনের মামুন্দ ও মালঞ্চ নদীসহ কয়েকটি সংযোগ খাল থেকে তাদেরকে অপহরণ করা হয়। এতে মুন্দরবন নির্ভরশীল জেলেদের পরিবারের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

অপহৃত জেলেরা হলেন, শ্যামনগর উপজেলার সিংহড়তলী গ্রামের রশিদ পাড়ের ছেলে উজ্জ্বল পাড় (৪৫), একই উপজেলার চুনকুড়ি গ্রামের গফফর ফকিরের ছেলে সাদেক আব্বাস (৪৫), একই গ্রামের ইউসুফ আলী (৪৮), ছোট ভেটখালি গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে আসাদুর রহমান (৫০), হাতেম আলীর ছেলে আমজাদ হোসেন (৪৫), হরিনগর গ্রামের সুরত আলী শেখের ছেলে হাফিজুর রহমান (৫২), আরশাদ আলীর ছেলে আশিকুল ইসলাম (৩৫), লুৎফর রহমানের ছেলে আক্কাজ আলী(৩২), হবি মোল্লার ছেলে আবু তাহের মোল্লা (৩৭), লুৎফর রহমানের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৪০), জিয়াদ আলীর ছেলে আবুল কালাম (৫০), সোবহান গাইনের ছেলে নজরুল গাইন (৫০), সবেদ আলীর ছেলে রাজেত আলী (৪৫), আব্দুল শেখের ছেলে শুকুর আলী শেখ (৫৫), গাবুরার ইছাক আলী মোড়লের ছেলে আইয়ুব আলী মোড়ল (৫০), কদমতলা গ্রামের সুমন ও দীলিপ এবং মৌখালি গ্রামের মিলন। তবে অন্য দুইজনের পরিচয় জানা যায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সুন্দরবন থেকে ফিরে আসা অপহৃত জেলেদের সহযোগীরা জানান, নয়দিন আগে তারা সুন্দরবনের কদমতলা ও বুড়িগোয়ালিনি স্টেশন থেকে পাস নিয়ে প্রায় ৮০ জন জেলে সুন্দরবনে মাছ ধরতে যায়। বৃহষ্পতিবার তারা মামুন্দ ও মালঞ্চ নদী ছাড়াও ওইসব নদীর সংযোগ খাল মাইটভাঙা, মাইশারকোল, উলুবাড়ি, কলাগাছি, রাজাথালি খালে মাছ ধরছিলেন। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ওইসব নদী ও খালে থাকা ১৫ থেকে ২০ টি নৌকা থেকে সুন্দরবনের ডন বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে এক একটি নৌকা থেকে একজন করে তুলে নিয়ে যায়। তাদের কাছে মাথাপিছু ৪০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। দাবিকৃত মুক্তিপণের টাকা তিন দিনের মধ্যে নিদ্দিষ্ট বিকাশ নাম্বারে না দিলে অপহৃতদের হত্যা করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এ সময় তারা ২০১৮ সালে র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পণকৃত মৌখালি গ্রামের ভেটে শফিকুল ও শাহাজানকে চিনতে পারে। এ ঘটনার পর থেকে সুন্দরবনে কর্মরত জেলেরা লোকালয়ে ফিরতে শুরু করেছে।

উপকুলীয় অঞ্চলের বাসিন্দারা জানান, জীবন ও জীবিকার জন্য সুন্দরবনই তাদের একমাত্র ভরসা। বনবিভাগের পাস নিয়ে গেলেও তারা বনদস্যুদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। আবার বিষয়টি নিয়ে থানা পুলিশ করলে অপহৃতদের জীবন নিয়ে ফিরে আসা মুশকিল হবে। তবে অপহৃত ওইসব জেলেদের উদ্ধারে বনবিভাগ, কোস্ট গার্ড ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর সদস্যদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারি বণসংরক্ষক মোঃ ফজলুল হক জানান, বিষয়টি জানতে পেরে কোষ্টগার্ডসহ আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যদের অবহিত করে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছেন।
কোষ্টগার্ড মংলা মিডিয়া সেন্টারের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে তারা কাজ শুরু করেছেন। অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোন মন্তব্য করা যাবে না।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ খালেদুর রহমান জানান, এ নিয়ে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি।

(আরকে/এসপি/জানুয়ারি ২৪, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

২৪ জানুয়ারি ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test