E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

সাইকো কিলার সম্রাট ওরফে সবুজ শেখের অপরাধে নিরীহ পরিবারকে উচ্ছেদের চেষ্টা 

২০২৬ জানুয়ারি ২৫ ১৯:৪০:০৪
সাইকো কিলার সম্রাট ওরফে সবুজ শেখের অপরাধে নিরীহ পরিবারকে উচ্ছেদের চেষ্টা 

মো. মাসুদ খান, মুন্সীগঞ্জ : মানসিকভাবে অসুস্থ ও একাধিক হত্যা মামলায় অভিযুক্ত সাইকো কিলার সম্রাট ওরফে সবুজ শেখের অপরাধকে কেন্দ্র করে তার নিরীহ পরিবারকে সামাজিকভাবে হয়রানি ও এলাকা ছাড়া করার অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। একটি কুচক্রী মহল সম্রাটের অধরাধকে কাজে লাগিয়ে তার পরিবাটিকে এলাকা ছাড়ার পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ পরিবারের। তাছাড়া সোশাল মিডিয়ার কিছু কন্টেনক্রিয়েটরের কারণে পরিবারটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। এ অবস্থায় পরিবারটি সরকারের সযোগিতা কামনা করছেন। 

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের মৌছামান্দ্রা গ্রামের একটি কুচক্রী মহল সাইকো কিরার সম্রাটের পৈত্রিক নিবাস উচ্ছেদের চেষ্টা ও মব সৃষ্টি করছে। স্থানীয়ভাবে এমন অভিযোগ উঠেছে যে, ওই কুচক্রী মহল ও কিছু সোশ্যাল মিডিয়া ইউটিউবার এ ঘটনার সুযোগ নিয়ে পরিবারটির ওপর অমানবিক চাপ সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে অভিযুক্তের মা যিনি একজন বৃদ্ধ ও ব্রেন টিউমারের রোগী তাকে জোরপূর্বক ক্যামেরার সামনে এনে বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা গেছে, বক্তব্য দেওয়ার মধ্যেই ওই নারী হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়েন। স্থানীয়দের দাবি, গুরুতর অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও তাকে এভাবে মানসিক চাপ দেওয়া চরম অমানবিকতার শামিল।

সম্রাটের বড় বোন জুলাই যুদ্ধে আহত শারমীন আক্তার প্রিয়ার অভিযোগ, একজন মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন ছেলের অপরাধের দায় চাপিয়ে দিয়ে আমাদের পরিবারটির অন্য সদস্যদেরর এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার অপচেষ্টা চলছে। গ্রামের কিছু লোকজন তাদের স্বার্থের জন্য আমাদেরকে এরাকা ছাড়তে মব সৃষ্টি করছে। এতে আমাদের পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। আমার ভাই একজন মানসিকভারসাম্যহীন লোক। সে আমার বাবার বিরুদ্ধেও মামলা করেছিল। তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালেও ভর্তি করা হয়েছিল। আমারও তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে চাইলে সে বাড়ি থেকে পারিয়ে যায়। তাকে শিকল দিয়েও বেধে রাখা হয়েছিল।

আমরা আমাদের মত করে তাকে সুস্থ্য করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তার তা আর সম্ভব হয়ে উঠেনি। এতে আমাদের পরিবারের দোষ কোথায়। ভাইয়ের এ রকম কাজের জন্য আমরা মর্মাহত। কিন্তু ভাইয়ের অপরাধের জন্য আমাদের পরিবারের উপর কেন মব সৃষ্টি করা হচ্ছে। ওই কুচক্রী মহলটি আমার বাবার কোন ইনকাম নেই, বাবা চুরি রে সংসার চালায় এমন অভিযোগ এনে মব সৃষি করে আমাদের উচ্ছেদ করতে চাইছে। কিন্তু আমার বাবা তার একটি জায়গা বিক্রি করে সেকান থেকে প্রাপ্ত টাকা দিয়ে আমার ভাইকে ইতিপূর্বে একটি মামলার জামিন করিয়েছেন। তাছাড়া ওই জায়গা থেকে তিনি প্রতি মাসে ৩০ হাজার করে টাকা পান, য দিয়ে আমাদের সংসার চলে। এতাছা এমার নিজেস্ব একটি সার্কাস দল রয়েছে। আমরা সরকারের কাছে আমাদের পরিবারের যান মালের নিরাপত্তা চাই।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের জীবন, নিরাপত্তা ও মর্যাদার অধিকার নিশ্চিত। একজন ব্যক্তির অপরাধের দায় তার বাবা-মা বা পরিবারের অন্য সদস্যদের ওপর বর্তায় না। কাউকে জোরপূর্বক এলাকা থেকে উচ্ছেদ করার চেষ্টা করা দন্ডবিধির ৫০৬ ধারা অনুযায়ী ভয়ভীতি প্রদর্শনের অপরাধ এবং ১৪১১৪৯ ধারায় অবৈধ সমাবেশ ও দাঙ্গা সৃষ্টির শামিল।

এছাড়া, অসুস্থ ও বৃদ্ধ একজন নারীকে জোর করে বক্তব্য দিতে বাধ্য করা মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং ক্ষেত্র বিশেষে নারী ও শিশু নির্যাতন আইন ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলেও মত দেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, যারা এসব কর্মকান্ডে জড়িত তারা হয়তো বিষয়টির আইনগত ভয়াবহতা উপলব্ধি করছেন না। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ, ভুক্তভোগী পরিবারটির নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় হয়রানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

(ওএস/এসপি/জানুয়ারি ২৫, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

২৫ জানুয়ারি ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test