E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

নেই বিদ্যুৎ সংযোগ, মরদেহ সংরক্ষণের ফ্রিজটিও দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত 

২০২৬ জানুয়ারি ২৬ ১৯:১৫:৩৩
নেই বিদ্যুৎ সংযোগ, মরদেহ সংরক্ষণের ফ্রিজটিও দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত 

একে আজাদ, রাজবাড়ী : রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল মর্গের ভবনটি ঝুঁকিপর্ণ হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নেই বিদ্যুৎ সংযোগ। মরদেহ সংরক্ষণের ফ্রিজটিও দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসককে খোলা জায়গায় চেয়ার টেবিল পেতে তদন্ত কাজ করায় লঙ্ঘিত হচ্ছে গোপনীয়তা। এছাড়া মরদেহ কাটাছেড়াতে সনাতন পদ্ধতিতে ছুড়ি, হাতুড়ি, করাত ইত্যাদি ব্যবহার করতে হচ্ছে। থানা থেকে মরদেহ মর্গে আনা নেওয়াতেও ভোগান্তিতে পড়তে হয় সংশ্লিষ্ট থানা কর্তৃপক্ষকে।

রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে বিনোদপুর ড্রাইআইচ ফ্যাক্টরি এলাকায় অবস্থিত সদর হাসপাতালের মর্গটি। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, মর্গে তিনটি কক্ষ আছে। বাম পাশের কক্ষে মরদেহ রাখার ছয়টি পকেট সম্বলিত ফ্রিজটি পরিত্যক্ত অবস্থায় দন্ডায়মান। মাঝের কক্ষটি ফাঁকা অথচ নোংরা আবর্জনা। ডানপাশের কক্ষে মরদেহ কাটাছেড়া করা হয়। মর্গে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় পর্যাপ্ত আলোরও ব্যবস্থা নেই। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসককে মর্গের বারান্দায় বসে কাজ করতে হয়।

রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট একজন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মর্গের ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট একটি গোপনীয় বিষয়। অথচ, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট করতে হয় খোলা জায়গায় বসে। এতে গোপনীয়তা চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। মেঘলা দিনে অথবা সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে পর্যাপ্ত আলোর অভাবে রিপোর্ট করতে সমস্যায় পড়তে হয়। বর্তমান সময়ে ময়নাতদন্তে ডিসেকশন ফরমেইস, চিজেল, নিবলার, স ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়। এসব না থাকায় হাতুড়ি বাটাল দিয়ে কাজ চালাতে হয়। রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে লাশ রাখার একটি ঘর আছে। সাধারণত হাসপাতালে কেউ মারা গেলে ওখানে রাখা হয়। কিন্তু মর্গের ফ্রিজ নষ্ট থাকার কারণে অনেক সময় মরদেহ হাসপাতালের ওই ঘরে রাখতে হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পর্যাপ্ত আলোর অভাবে মরদেহ ময়নাতদন্ত যথাসময়ে করতে না পারার কারণে পরদিন করতে হয়েছে। এমন ঘটনা ঘটেছে বেশ কয়েকবার।

এদিকে থানা থেকে মরদেহ মর্গে নিতে সমস্যায় পড়তে হয় থানা কর্তৃপক্ষকে। পাংশা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল গণি জানান, মরদেহ মর্গে নেওয়ার ভাড়া অনেকেই দিতে চায়না। অনেক গাড়ি চালক মরদেহ বহন করতে চায়না। মরদেহ পরিবহনে তাদের কোনো নিজস্ব গাড়ি নেই। বিকেলে বা সন্ধ্যায় কোনো মরদেহ উদ্ধার হলে তা থানা চত্ত্বরে খোলা জায়গায় রাখতে হয়।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মো. মমিনুল ইসলাম জানান, অস্বাভাবিক মৃত্যু হলে অনেকেই ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ময়নাতদন্ত করতে চায়না। থানায় মরদেহ রাখার কোনো জায়গা নেই। সাধারণত ঘটনাস্থল থেকেই মর্গে মরদেহ পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সন্ধ্যার দিকে বা তার পরে মরদেহ উদ্ধার হলে তাদের হেফাজতে নিয়ে থানা চত্ত্বরে একজন সেন্ট্রিকে পাহাড়ার দায়িত্ব দিয়ে রেখে দেওয়া হয়।

এবিষয়ে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এসএমএ হান্নান জানান, মরদেহ ময়নাতদন্ত করার বিষয়টি সিভিল সার্জনের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। এখানে তার করণীয় তেমন কিছু নেই। তবে, তিনি শুনেছেন মর্গে মরদেহ সংরক্ষণের জন্য যে ফ্রিজটি আছে সেখানে ছয়টি মরদেহ রাখা যেত। সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ফ্রিজটি নষ্ট হয়ে গেছে। সেটি মেরামত করারও অবস্থায় নেই। বিল্ডিংটিও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের নতুন বিল্ডিং চালু হলে সেখানে চারটি মরদেহ রাখার ব্যবস্থা থাকবে বলে জানান তিনি।

রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. এসএম মাসুদ বলেন, রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল মর্গে অনেক সমস্যা আছে। এসব সমস্যার কথা জানিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে তিনবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। মর্গ মেরামতের দায়িত্ব গণপূর্ত বিভাগের। গণপূর্ত বিভাগকে বারবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। জেলা সমন্বয় সভায় বিষয়টি অনেকবার উত্থাপন করা হয়েছে। গণপূর্ত বিভাগ বলছে, তাদের ফান্ড আসলে তবেই মেরামত করবে। মর্গে মরদেহ রাখার জন্য একটি ফ্রিজে ছয়টি পকেট আছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তা অকেজো। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

রাজবাড়ী গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. জহুরুল ইসলাম জানান, মর্গ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করার দায়িত্ব গণপূর্ত বিভাগের নয়। বিল্ডিং ঠিকভাবে আছে কীনা সেটা দেখা, রঙচং করা এসব গণপূর্ত বিভাগের দায়িত্ব। মর্গের মরদেহ রাখার ফ্রিজটি আছে সেটি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট হয়ে আছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি সিভিল সার্জনের সাথে কথা বলবেন।

(একে/এসপি/জানুয়ারি ২৬, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

২৬ জানুয়ারি ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test