E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

দিনাজপুরে দুই বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে বেকায়দায় বিএনপি

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৫ ১৮:৫১:০৮
দিনাজপুরে দুই বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে বেকায়দায় বিএনপি

শাহ্ আলম শাহী, দিনাজপুর : দিনাজপুরের ছয়টি আসনের মধ্যে দুইটি আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে বিএনপি বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। শেষ মূহুর্তে  বিএনপি প্রার্থী, দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা বিজয় ছিনিয়ে আনতে ব্যস্ত সময় পার করলেও দিনাজপুর- ২ (বিরল-বোচাগঞ্জ) ও দিনাজপুর- ৫ (পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী) আসনে এখনো পিছিয়ে রয়েছে নির্বাচনী সমীকরণে। অস্তিত্বের লড়াইয়ের সংকটে তারা। প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিএনপি ও জামায়াতের অধিকাংশ নেতা-কর্মী। বিএনপি'র বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরাও দাপিয়ে বেড়াচ্ছে মাঠ।

দিনাজপুর জেলা নির্বাচন রিটার্নিং অফিসার তথা জেলা প্রশাসক, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের পর চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণার পর থেকেই সরব হয়ে উঠেছে। এ নিয়ে বিএনপির প্রার্থীরা ঝামেলায় পড়েছে। দলের মধ্যেই লবিং-গ্রুপিং ছাড়াও যেন সাপে নেইলে বসবাস করছে নেতা-কর্মীরা।

দিনাজপুর-২ (বিরল-বোচাগঞ্জ): দিনাজপুর-২ (বিরল-বোচাগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. সাদিক রিয়াজ পিনাক চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর এ কে এম আফজালুল আনাম ও বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আ ন ম বজলুর রশিদ এখন নির্বাচনী মাঠেচল সরব।

দিনাজপুর জেলা বিএনপির সদস্য সাদিক রিয়াজ চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়ার পর দলের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। এ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মোজাহারুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আ ন ম বজলুর রশিদ ও শিক্ষা সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম। প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে তাঁদের অনুসারীরা কাফনের কাপড় পরে, ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে এবং বিক্ষোভ মশাল মিছিল করেছেন বেশ ক'দিন।

বিএনপির একাংশের দাবি আওয়ামীলীগের পূণর্বাসনকারী সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক। তাই বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী দিনাজপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ন ম বজলুর রশিদ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মাঠে আছেন।

এ নিয়ে চরম দ্বিধা-দ্বন্দ্বে, ত্রিমুখী-বিড়ম্বনায় পড়েছে দলটির মাঠ পর্যায়ের তৃনমুল নেতা কর্মীরা। তারা যেন অথৈজলে হা-বু-ডু-বু খাওয়ার মত অবস্থা। লম্বা সময় দুইভাগে বিভক্ত হয়ে নির্বাচনী প্রচার প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। আসনে বিএনপি নেতা সাবেক বিরল উপজেলা চেয়ারম্যান আ ন ম বজলুর রশিদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় বিএনপি প্রার্থী সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক বেকায়দায় পড়েছেন। এতে জামায়াতের প্রার্থী রয়েছেন সুবিধাজনক অবস্থানে। আওয়ামী লীগ শাসনামলে বজলুর রশিদ জেল-জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তিনি বিরলের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবেও জনপ্রিয়তায় রয়েছেন।

অন্যদিকে এ আসনে দু'টি উপজেলার মোট ভোটারের মধ্যে এক তৃতীয়াংশ ভোট বোচাগঞ্জ উপজেলায়। আর বাকি ভোট বিরল উপজেলায়। বোচাগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা বিএনপি প্রার্থী সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাকে বিরল উপজেলার দলীয় অনেক নেতা-কর্মী ও ভোটার এখনো গ্রহণ করতে পারছেন না। তাই, বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় নির্বাচনে বিএনপি হেরে যাওয়া সংকা দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এক কথায় বিএনপির প্রার্থী রিয়াজ চৌধুরী পিনাকের বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আ ন ম বজলুর রশিদ। বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আ ন ম বজলুর রশিদও টেনে নিয়েছেন, তৃণমূল বিএনপির অনেক নেতা-কর্মী।

পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এ আসনে বিএনপি-,জামায়াত ও বিএনপি বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে।। এই ফাঁকে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী বজলুর রশিদ বিজয়ের মালা নিয়ে বেরয়ে আসার সম্ভাবনা বেশি রয়েছে বলে দাবি করেছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

দিনাজপুর-৫ (পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী) আসনে বিএনপির এ কে এম কামরুজ্জামান, ১১ দল জোটের এনসিপির ডা. আব্দুল আহাদ এবং পার্বতীপুর উপজেলা বিএনপি সভাপতি এ জেড এম রেজওয়ানুল হক নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। এ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির প্রার্থী মো: আনোয়ার হোসেন মনোনয়ন প্রত্যাহার করে ১১ দলীয় জোটের এনসিপি প্রার্থী ডা. আব্দুল আহাদকে সমর্থন দিয়েছেন।

প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদ বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি, মধ্যপাড়া পাথরখনি ও দেশের একমাত্র কয়লা ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে এই অঞ্চলে। এছাড়াও রয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় রেলওয়ে জংশন পার্বতীপুর রেল জংশন। বাংলাদেশের ১০ নম্বর ও দিনাজপুর-৫ আসন গঠিত ফুলবাড়ী ও পার্বতীপুর উপজেলা নিয়ে।

এই আসনে গত সাতটি নির্বাচনে জিতেছিল আওয়ামী লীগ। এবার ভোটে অংশ নিতে পারছেনা কার্যক্রম নিষিদ্ধ এই দলটি। বিএনপির এ জেড এম রেজওয়ানুল হক এ আসনে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।

বিএনপির দ্বিতীয় দফা (গত ৪ ডিসেম্বর) প্রার্থী ঘোষণায় সকল জল্পনাকল্পনার অবসান ঘটিয়ে
এ আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে যুক্তরাজ্য বিএনপির সহসভাপতি এ কে এম কামরুজ্জামানকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়। এ নিয়ে ফুঁসে উঠে বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মী এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাবেক এমপি এ জেড এম রেজওয়ানুল হক ও বিএনপি নেতা জাকারিয়া বাচ্চুর সমর্থকরা। কোন ক্রমে তারা তা মেনে নিতে পেরে মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ, মিছিল, মিটিং, মানব্বন্ধন ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এ কে এম কামরুজ্জামান থেকে যায় বিএনপির প্রার্থী। তাই, বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন, পার্বতীপুর উপজেলা বিএনপি সভাপতি সাবেক এমপি এ জেড এম রেজওয়ানুল হক ও বিএনপি নেতা জাকারিয়া বাচ্চু।

দিনাজপুর- ৫ (পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী) আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সরগরম রাজনৈতিক অঙ্গন। কে বিজয় ছিনিয়ে আনবে ধানের শীষের প্রার্থী,বিএনপি বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী না এনসিপি?
এ প্রশ্ন এখন গ্রাম থেকে শহর, চায়ের দোকান থেকে আড্ডার টেবিল পর্যন্ত সর্বত্র আলোচনায়।
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাবেক এমপি বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী এ জেড এম রেজওয়ানুল হক এবং বিএনপি এ কে এম কামরুজ্জামান।

জামায়াতের জোটবদ্ধ নির্বাচনে এই আসনটি এনসিপির প্রার্থী ডা. আব্দুল আহাদ তেমন সুবিধা করতে পারছেন না। এতে বিএনপির প্রার্থী অথবা বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীর জন্য প্লাস পয়েন্ট হয়েছে। কারণ, জামায়াতের জন্য সুযোগ থাকলেও এনসিপির জন্য এ আসনে বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া ততোটা আশাবাদী নয়, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বিষয়ে জেলা বিএনপি সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন দুলাল বলেন, বিএনপি একটি সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল। এখানে মতের ভিন্নতা থাকতে পারে, তবে আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য এক—গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও দেশের মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনা। যারা মনোনয়ন না পেয়ে হতাশ, তাদের আমি আহ্বান জানাই—চলুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ ভাবে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করি। আগামী দিনে বিএনপি সরকার গঠন করলে, দিনাজপুর-২ আসনে দুর্নীতি বা স্বজনপ্রীতির কোনো স্থান থাকবে না। আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে এলাকার উন্নয়নে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সকলে একসঙ্গে কাজ করব। পলাতক ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসররা এখনও ষড়যন্ত্র করছে, নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু এই এলাকার জনগণ আর বিভ্রান্ত হবে না। তারা ধানের শীষের পক্ষে রায় দেবে।

(এসএস/এসপি/ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test