E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

ভোটের মাঠে কিশোর গ্যাংয়ের দাপট

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৭ ১৮:০০:২৪
ভোটের মাঠে কিশোর গ্যাংয়ের দাপট

হাবিবুর রহমান, ঝিনাইদহ : নির্বাচনকে ঘিরে ঝিনাইদহের বিভিন্ন এলাকায় উদ্বেগজনক ভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে কিশোর গ্যাং। তাদের দাপটে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে ভোটার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে। পোস্টার লাগানো থেকে শুরু করে মাইকিং, প্রচারণা মিছিল, এমনকি রাতের আঁধারে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি  গিয়ে হুমকি-ধমকি প্রদান সবখানেই প্রভাব বিস্তার করছে এসব কিশোর গোষ্ঠী।

জানা গেছে, ঝিনাইদহরে বিভিন্ন এলাকায় ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদের নিয়ে গড়ে ওঠা একাধিক গ্যাং এখন নির্বাচনী প্রচারণার ভাড়াটে শক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তারা প্রতিপক্ষের পোস্টার ছেঁড়া, প্রচারণায় বাধা, পথরোধ, হুমকি দেওয়া এবং কখনো কখনো মারধরের মতো ঘটনায় জড়িয়ে পড়ছে। এমনকি রাতে সাধারণ ভোটারদের বাড়িতে ভোট চাওয়ার নামে চুরি-ডাকাতির মত ঘটনা ঘটাচ্ছে। লোহার রড কিংবা ধারালো অস্ত্র নিয়ে তারা প্রতিনিয়ত মহড়া দিচ্ছে। কোথাও কোথাও প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের নির্বাচনী কার্যালয় ও তাদের কর্মীসমর্থকদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুরে অংশ নিচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই কিশোর গ্যাংয়ের উত্থান এ জেলায় নতুন নয়। তবে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাদের সক্রিয়তা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা তাদের জন্য টাকা বিনিয়োগ করছে সেই সঙ্গে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে। প্রতিপক্ষ প্রার্থীকে দমন-পীড়ন করতে এসব কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের ব্যবহার করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কালীগঞ্জ শহরের এক চাল ব্যবসায়ী বলেন, ‘আগে বড়রা এসব কাজ করতো। এখন দেখি কিশোর ছেলেরা দল বেঁধে এসে আমাদের হুমকি দেয়। কয়েকদিন ধরে কিশোর অপরাধীদের দাপটে সন্ধ্যার পর অনেক এলাকায় দোকানপাট আগেভাগেই বন্ধ রাখা হচ্ছে।

ইয়াসমিন আরা নামের এক নারী ভোটার বলেন, ‘এবার কেন্দ্রে ভোট দিতে যাওয়ার নিরাপত্তা কতটুকু পাওয়া যাবে সেটা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছি। রাতে বাড়িতে এসে নির্দিষ্ট প্রতিকে ভোট দিতে চাপ প্রয়োগ করছে কিশোর সদস্যরা। বর্তমানে বাইরে কিশোর ছেলেদের দল দেখলে ভয় লাগে। ভোটের দিন তারা এ ধরণের কাজ অব্যাহত রাখলে আমাদের কেন্দ্রে যেতে অসুবিধে হবে।’

ঝিনাইদহ-৪ আসনের এক প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্ট বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারণায় বের হলেই বাঁধা আসে। বড়রা সামনে থাকে না, কিন্তু কিশোরদের দিয়ে কাজ করায়। তারা ভয় পায় না, কারণ জানে শাস্তি হবে না। নামমাত্র কিছু টাকা খরচ করলেই প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের অফিস ভাঙচুর ও পোস্টার ছেঁড়ার কাজ করনো যায়। এদের অনেকগুলো গ্রুপ আছে ইচ্ছানুযায়ী একেক সময় একেক গ্রুপকে কাজে লাগানো যায়।’

জেলা সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি আনোয়ারুজ্জামান আজাদ বলেন, ‘কিশোরদের এসব অপরাধে জড়িয়ে পড়ার পেছনে সামাজিক ও পারিবারিক কারণ রয়েছে। বেকারত্ব ও সামাজিক নজরদারির অভাব তাদের অপরাধের পথে ঠেলে দিচ্ছে। নির্বাচন এলে এই দুর্বলতাকে কাজে লাগাচ্ছে রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন প্রার্থীরা। এ অপরাধ রোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ালেই হবে না। রাজনৈতিক দলগুলোর দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা, কিশোরদের অপরাধে ব্যবহারের প্রবণতা বন্ধ করা এবং সামাজিকভাবে তাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে হবে। নইলে নির্বাচন এলেই কিশোর গ্যাংয়ের দাপট আরো ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এ ধরণের অপরাধ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য বড় হুমকি।

এ ব্যাপারে জেলা রিটার্নি কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাসউদ বলেন, ‘কিশোর অপরাধের বিষয়টি নজরে রাখা হচ্ছে। আমরা গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়িয়েছি। এ ধরণের ঘটনা ঘটলেই তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

(এইচআর/এসপি/ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test