E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

আনোয়ার হোসেনকে দেশের প্রথম ভাষা শহীদ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবিতে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন 

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৬ ১৯:১৪:০৯
আনোয়ার হোসেনকে দেশের প্রথম ভাষা শহীদ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবিতে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন 

রঘুনাথ খাঁ সাতক্ষীরা : আনোয়ার হোসেনকে দেশের প্রথম ভাষা শহীদ হিসেবে স্বীকৃতি ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। আজ সোমবার সকালে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা বাজারে আনোয়ার হোসেন স্মৃতিস্তম্ভ সংলগ্ন এলাকায় এ কর্মসূচির আয়োজন করেন আনোয়ার হোসেন স্মৃতি সংরক্ষণ কমিটি।

কমিটির আহ্বায়ক সচ্চিদানন্দ দে সদয়ের সভাপতিত্বে এবং বুধহাটা আঞ্চলিক প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান ইকবাল মামুনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন দৈনিক প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক কল্যাণ ব্যানার্জি, আশাশুনি প্রেসক্লাবের সভাপতি ও স্মৃতি সংরক্ষণ কমিটির সদস্য সচিব এস কে হাসান, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও জজ কোর্টের এপিপি অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম, আনারুল ইসলাম, আবুল কালাম আজাদ, রেজাউল ইসলাম, সাংবাদিক ইয়াসিন আরাফাত, বাবুল হোসেন, ফারুক হোসেন, আবু হাসান চঞ্চল প্রমুখ।

এসময় বক্তারা বলেন, সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন ১৯৩০ সালে নানার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা কনুই গাজী ও মাতা পরীজান বিবি। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন বড়। বুধহাটা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষাজীবন শুরু করে পরে বুধহাটা বি.বি.এম কলেজিয়েট বিদ্যালয় হয়ে খুলনা জেলা স্কুল থেকে ১৯৪৬ সালে এসএসসি পাস করেন। এরপর খুলনার বিএল কলেজে অধ্যয়নকালে ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন।

১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ খুলনার তৎকালীন গান্ধী পার্কে ভাষা আন্দোলনের পক্ষে ইশতেহার পাঠ করার পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। কয়েকদিন পর মুক্তি পেলেও ১৯৪৯ সালে পুনরায় গ্রেপ্তার হয়ে প্রথমে কোতয়ালী থানায় এবং পরে রাজশাহী কারাগারে পাঠানো হয়। সেখানে পাকিস্তান সরকারের নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা রাখেন তিনি। ১৯৫০ সালের ২৪ এপ্রিল রাজশাহী জেলের খাপড়া ওয়ার্ডে গুলি চালনার ঘটনায় সাতজন কারাবন্দির সঙ্গে আনোয়ার হোসেনও শহীদ হন।

বক্তারা দাবি জানান, মাতৃভাষার অধিকার রক্ষায় আত্মদানকারী আনোয়ার হোসেনকে দেশের প্রথম ভাষা শহীদ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে। পাশাপাশি আশাশুনি সাতক্ষীরা সড়ক, আশাশুনি সরকারি কলেজ তাঁর নামে নামকরণ,বুধহাটা কলেজিয়েট স্কুল তার নামে নামকরণ সহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ এবং সরকারিভাবে একটি ট্রাস্ট গঠনেরও আহ্বান জানান তারা।

(আরকে/এসপি/ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test