E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

গোপালগঞ্জে মতুয়া সম্মেলনে এমপি কেএম বাবর 

হিন্দুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও মডেল মন্দির নির্মাণের আশ্বাস

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২১ ১৯:২১:৩৭
হিন্দুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও মডেল মন্দির নির্মাণের আশ্বাস

তুষার বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জে মতুয়া সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সদর উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়া হরি মন্দির মাঠে শ্রী শ্রী শান্তিহরি গুরুচাঁদ মন্দির কমিটি এ সম্মেলনের আয়োজন করে।  

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর। এ সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও মডেল মন্দির নির্মাণের আশ্বাস দেন।

প্রথান অতিথির বক্তব্যে বাবার বলেন, জেলার প্রতিটি হিন্দু অধ্যুষিত ইউনিয়নে একটি করে মডেল মন্দির নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রঘুনাথপুর যেহেতু হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা, এখানে একটি মডেল মন্দির নির্মাণ করা হবে বলেও তিনি জানান।

এমপি বাবর বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, বসবাসের স্বাধীনতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব। কেউ যেন তাদের ওপর অন্যায়, অত্যাচার বা জুলুম করতে না পারে, সে বিষয়ে আমি সবসময় পাশে থাকব।

তিনি আরও উল্লেখ করেন,“বাংলাদেশে সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু বলে কোনো বিভাজন থাকা উচিত নয়। আমরা সবাই বাংলাদেশী । কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের উন্নয়নে কাজ করতে হবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-২ আসনের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ আমার পাশে দৃড়ভাবে ছিল। এজন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে সেই আস্থার প্রতিদান দেব। হিন্দু ভাইদের পাশে আমি অতন্দ্র প্রহরীর মতো আছি। যেকোনো প্রয়োজনে ডাকলেই পাশে ছুটে যাব,” বলেন তিনি।
২০২২ সাল থেকে প্রতিবছর ফাল্গুন মাসের প্রথম সপ্তাহে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়া হরি মন্দির মাঠে মতুয়া সম্মেলন আয়োজন করে আসছে শ্রী শ্রী শান্তিহরি গুরুচাঁদ মন্দির কমিটি। এবছর ২১ ফ্রব্রুয়ারি পঞ্চম বারের মত দিনব্যাপী এ মতুয়া সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আয়োজকদের দাবি এবারের আয়োজনে গোপালগঞ্জ ও পার্শ্ববর্তী জেলার প্রায় ১০০টি মতুয়া দল অংশ নিয়েছে।

রঘুনাথপুর পশ্চিমপাড়া হরি মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাবুল বিশ্বাস জানান, দূর-দূরান্ত থেকে প্রায় ৩০ হাজার ভক্ত এ সম্মেলনে অংশ নিয়েছে। নিশান উড়িয়ে ঢাক-ঢোল, ডঙ্কা ও করতালের সুমধুর ধ্বনিতে এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। ভক্তদের জন্য মহাপ্রসাদের ব্যবস্থা ছিল।

তিনি আরও বলেন, “হিন্দু-মুসলিম সবাই আমাদের সহযোগিতা করেছে, কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি হয়নি।” বর্তমানে এখানে দুটি মন্দির রয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও মন্দির নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এমপি বাবর একটি মডেল হরি মন্দির নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সম্মেলনে উপস্থিত রঘুনাথপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা সিদ্ধার্থ বিশ্বাস সতু জানান, এটি পঞ্চম বর্ষের আয়োজন। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ১০০টির বেশি মতুয়া দলকে নিমন্ত্রণ করা হয়েছে। গত বছর গুলোর তুলনায় এ বছর লোক সমাগম বেশি হয়েছে। অনেক বছর পর একজন সংসদ সদস্য অনুষ্ঠানে এসে ভক্তদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করেন, যা আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহিত করেছে।

তিনি আরও বলেন, “হরিচাঁদ ঠাকুরের আদর্শ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া এবং ধর্মীয় চেতনা ও ঐক্য সুদৃঢ় করাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।” হিন্দু-মুসলিম ভেদাভেদ ভুলে সবাই মিলে প্রতিবছর এই আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এদিকে খুলনা জেলার কামারখোলা এলাকা থেকে শতাধিক ভক্ত নিয়ে সম্মেলনে যোগ দেন অজিত হাজরা। তিনি বলেন, “ঠাকুরের নাম কীর্তন ও ধর্মীয় পরিবেশ আমাকে টানে। খুব ভালো লাগে বলেই প্রতিবছর আসি।” বাসযোগে এসে একই দিন ফিরে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।

ধর্মীয় আবহ, ভক্তদের অংশগ্রহণ এবং রাজনৈতিক আশ্বাস সব মিলিয়ে এবারের মতুয়া মহাসম্মেলন উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে।

(টিবি/এসপি/ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test