E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

ঈশ্বরদীতে দাদি-নাতনি হত্যা রহস্য উদ্ঘাটন, খুনি গ্রেফতার

২০২৬ মার্চ ০১ ২০:১১:২০
ঈশ্বরদীতে দাদি-নাতনি হত্যা রহস্য উদ্ঘাটন, খুনি গ্রেফতার

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি : ঈশ্বরদীতে চাঞ্চল্যকর দাদি-নাতনি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পাবনা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় শরিফুল ইসলাম শরীফ (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি নিহত কিশোরী জামিলা আক্তারের সম্পর্কে চাচা।

ডিবি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, যৌন হয়রানির চেষ্টা এবং তাতে বাধা পেয়ে ক্ষোভ থেকেই শরীফ সুফিয়া খাতুন (৬৫) ও তার নাতনি জামিলা আক্তারকে (১৬) হত্যা করে। গ্রেফতারকৃত শরীফ দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর উত্তরপাড়া গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে। তিনি পেশায় ট্রাকচালক। নিহতরাও একই এলাকার বাসিন্দা। জামিলা স্থানীয় একটি মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

এ ঘটনায় জামিলার বোন বাদী হয়ে গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ঈশ্বরদী থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জামিলার বাবা জয়নাল খাঁ কাজের সুবাদে প্রায়ই ঢাকার সাভারে বড় মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করতেন। জামিলা তার দাদি সুফিয়া খাতুনের সঙ্গে গ্রামের বাড়িতেই থাকত। ঘটনার সময় তার বাবা বাড়িতে ছিলেন না।

ডিবি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শরীফ হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছে বলে জানান ডিবির ওসি রাশিদুল ইসলাম। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে শরীফ বাজার পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে জামিলাদের বাড়িতে যায়। সে সময় দাদি বাড়িতে না থাকার সুযোগে জামিলাকে যৌন হয়রানির চেষ্টা করে। এতে জামিলা প্রতিবাদ করে এবং তাকে চড় মারে। অপমানিত হয়ে সেদিন সে ফিরে যায়।

এরপর গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে শরীফ পুনরায় ওই বাড়িতে যায়। প্রথমে আগের ঘটনার জন্য ক্ষমা চাইলেও সুফিয়া খাতুন তাকে ক্ষমা না করে চিৎকার শুরু করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শরীফ পাশে থাকা একটি কাঠের বাটাম দিয়ে সুফিয়া খাতুনের মাথায় আঘাত করে। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে জামিলা চিৎকার শুরু করে। এসময় শরীফ নির্মাণকাজে ব্যবহৃত একটি যন্ত্র দিয়ে তার মাথা ও কপালে আঘাত করে।

পরে জামিলাকে টেনে বাড়ির পাশের সরিষাক্ষেতে নিয়ে যায়। পথে পুকুরপাড়ে তাকে ধর্ষণের পর গলা টিপে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে যায় বলে পুলিশের দাবি।

শনিবার সকালে স্থানীয়রা বাড়ির উঠানে সুফিয়া খাতুনের রক্তাক্ত মরদেহ এবং পাশের সরিষাক্ষেতে জামিলার মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। ঈশ্বরদী থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে ঈশ্বরদী থানার ওসি মমিনুজ্জামান এবং ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন।

ডিবির ওসি রাশিদুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়। স্থানীয় তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজন হিসেবে শরীফুল ইসলামকে শনিবার রাতেই আটক করা হয়। ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে সে অপরাধ স্বীকার করে এবং ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেয়।

(এসকেকে/এএস/মার্চ ০১, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

০১ মার্চ ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test