E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

 

শ্যামনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি ছামিউলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মানববন্ধন

২০২৬ মার্চ ০২ ১৮:৩৫:৫৮
শ্যামনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি ছামিউলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মানববন্ধন

রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার শ্যামনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও বিএনপি নেতা ছামিউল ইমাম আযম ওরফে মনিরের বেপরোয়া চাঁদাবাজি, সীমাহীন দুর্নীতি, ব্যবসায়ীকে মারপিট, সাধারণ মানুষকে নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ, প্রতিবাদ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

আজ সোমবার দুপুরের দিকে শ্যামনগর প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন চলাকালে উত্তেজনা সৃষ্টির একপর্যায়ে প্রেসক্লাবে ঢুকে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচীব আনোয়ারুল ইসলাম আঙুরের নেতৃত্বে সভাপতি ছামিউল ইমাম আযম ওরফে মনিরকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

ছামিউল ইমাম আযম ওরফে মনির শ্যামনগর উপজেলা সদরের বাধঘাটার প্রয়াত উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলামের ছেলে এবং সমকাল ও দৈনিক পত্রদূতের শ্যামনগর উপজেলা প্রতিনিধি।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা পৌরসভার নকীপুরের বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম ও বাধঘাটার আজগার আলী জানান, প্রেসক্লাব সভাপতি ছামিউল মনির সদর ইউনিয়ন বিএনপির ৫ নম্বর ওয়ার্ড এর সাবেক সভাপতি। তার ভাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি সাংস্কৃতিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য টাইগার সোহেল, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আনোয়ারুল ইসলাম আঙুরসহ ১৪ বালুমহল ইজারা গ্রহীতার কাছ থেকে ছামিউল মনির বিভিন্ন সময়ে চাঁদা গ্রহণ ও চাঁদাদাবি করাকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল। তার বিরুদ্ধে সাংবাদিক মেহেদীকে জীবননাশের হুমকি, জমি জবরদখল, ব্যবসায়ি আব্দুর রহিমকে মারপিট ও সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

জেলে খালির বিষ্টু পরমান্যের জমির উপর দিয়ে জোরপূর্বক বংশীপুরের নৌপুলিশ জহির গাজীর রাস্তা বের করে দেওয়া, হরিনগরের দীলিপ গাইনের জমি জবরদখলে পঁচি ভাঙ্গিকে সহায়তা, দীলিপ গাইন ঘর জ্বালানো মামলা তুলে না নেওয়ায় পুলিশ দিয়ে তার ভাইপো বিকাশ গাইনকে তুলে এনে ৩৫ ঘণ্টা পর মিথ্যা ধর্ষণ মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো, পঁচি ভাঙ্গির এক আত্মীয়াকে দিয়ে সাতক্ষীরার এক মানবাধিকার কর্মী কাম সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সাংবাদিক সম্মেলন করার অভিযোগ রয়েছে ছামিউল মনিরের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট পরবর্তী প্রেসক্লাবের সভাপতি পদকে কাজে লাগিয়ে বিএনপির একাংশের উপদেষ্টা বনে যান মনির। একপর্যায়ে বিগত সংসদীয় নির্বাচনে তিনি বিএনপি মনোনীত ড. মনিরুজ্জামানের ধানের শীষের প্রতীকে ভোটে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির অপর গ্রুপের সাথে তার দূরত্ব তৈরি জয়। শ্যামনগরের বিগত থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে তিনি জমিজায়গা নিয়ে বিরোধ, মারপিট, প্রেম প্রীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে শালিসি সিদ্ধান্ত দিতেন। এমনকি সাংবাদিক মেহেদী হাসানকে পুলিশের পক্ষ নিয়ে জীবননাশের হুমকি দিলে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। সর্বপরি শনিবার বিএনপির একটি গ্রুপের বিরুদ্ধে সনাতনী ব্যানারে প্রেসক্লাব চত্বরে হিন্দু নারীদের দিয়ে মানববন্ধন করান সাংবাদিক মনির। রবিবার বিকেলে শ্যামনগর বাসস্টা-ে ব্যবসায়ি আব্দুর রহিমকে ছামিউল ইমাম আযম মনিরের নেতৃত্বে মারপিট করা হয়। এ ঘটনায় আব্দুর রহিম ছামিউল মনিরের বিরুদ্ধে রবিবার রাতে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এ খবর পেয়ে মনির আরো বেপরোয়া হয়ে পড়েন।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন সাংবাদিক ও স্থানীয় বাসিন্দা জানান, শ্যামনগর প্রেসক্লাব সভাপতি ছামিউল ইমাম আযম ওরফে মনিরের বিরুদ্ধে মাদকাসক্তি, লাগামহীন দূর্ণীতি, ব্যবসায়িকে মারপিট, চাঁদাবাজি, জমিদখল ও সাধারণ মানুষকে নির্যাতনের প্রতিবাদে শ্যামনগরের সর্বস্তরের সাধারণ জনগনের ব্যনারে সোমবার সকাল ১১ টায় বাসস্টা-ে এক প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসুচি পালিত হয়। এর পরে একটি মিছিলটি প্রেসক্লাব চত্বরে যেয়ে শেষ হয়। সেখানে মানববন্ধন চলাকারে সাংবাদিক ছামিউল মনির মটর সাইকেল চালিয়ে মানববন্ধনকারিদের ধাক্কা মেরে প্রেসক্লাবে ঢোকেন। সেখান থেকে বেরিয়ে এসে প্রেসক্লাব ফটকে মানববন্ধনকারিদের উদ্দেশ্যে গালিগালাজ করে ভিতরে যাওয়ার সময় মানববন্ধনে অংশ নেওয়া যুবদল নেতা আঙুর, মিজান, মফু খাঁসহ কয়েকজন ছামিউল মনিরকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে এনে কিল, ঘুষি, লাথি মারেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে শ্যৗামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

তবে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সমকাল পত্রিকায় ‘যুবলীগ-যুবদল-যুব বিভাগ মিলে খোলপেটুয়া-কপোতাক্ষ নদের বালু লুট’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকে ছামিল মনিরকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে কয়েকজন সাংবাদিক অভিযোগ করেন।

শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক শাকির হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ছামিউল মনিরে শরীরের কোন গুরুতর জখমের চিহ্ন নেই। তিনি বিপদমুক্ত।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় ছামিউল মনিরের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে শ্যামনগর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচীব আনোয়ারুল ইসলাম আঙুর বলেন, আওয়ামী লীগের সাংসদ জগলুল হায়দারের সঙ্গে সখ্যতা রেখে ছামিউল মনির নিজের আখের গোছানোর পাশাপাশি বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের সদস্যদের বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় ঢোকানোসহ সাধারণ মানুষকে নির্যাতন নিপীড়ন করেছে। তিনি (আঙুর) সহ বালুমহল ইজারাদারদের কাছ থেকে গত বছর প্রেসক্লাবের নাম করে ৬০ হাজার টাকা নেয় সাংবাদিক ছামিউল মনির। এরপরও সে নিয়মিত চাঁদা চেয়ে আসছিল তাদের কাছে। চাঁদা না পেয়ে তাদের বিরুদ্ধে ইচ্ছামত লেখা হচ্ছিল। রবিবার ব্যবসায়ি আব্দুর রহিমকে মারপিট করে মাদকাসক্ত দূর্ণীতিবাজ মনির। প্রতিবাদ কর্মসূচিকে ঘিরে গালিগালাজ করায় তার সঙ্গে মানববন্ধনকারিদের হাতাহাতি হয়েছে।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

(আরকে/এসপি/মার্চ ০২, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

০২ মার্চ ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test