E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও বেতন উত্তোলন, শিক্ষিকার চাকরি থেকে অব্যাহতি

২০২৬ মার্চ ০৪ ১৯:৪৮:০১
কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও বেতন উত্তোলন, শিক্ষিকার চাকরি থেকে অব্যাহতি

বিকাশ স্বর্ণকার, বগুড়া : বগুড়ার ধুনট উপজেলায় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগে এক গণিত শিক্ষিকাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষিকা আফরিনা রহমান ছাতিয়ানী রোকেয়া ওবেদুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (গণিত) পদে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ(এনটিআরসিএ)-এর মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম জানান, আফরিনা রহমান ২০২৩ সালে বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। প্রথমদিকে কিছুদিন নিয়মিত উপস্থিত থাকলেও পরে তিনি প্রায়ই বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও নিয়মিত বেতন উত্তোলন করতেন। বিষয়টি নজরে এলে তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন তাকে ডেকে সতর্ক করেন। এরপরও অনিয়ম অব্যাহত থাকায় তাকে পরপর তিনটি শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়।পরবর্তীতে ২৬ ফেব্রুয়ারি অভিযুক্ত শিক্ষিকা স্বেচ্ছায় অব্যাহতির আবেদনপত্র জমা দেন। বিধি অনুযায়ী আবেদনটি গ্রহণ করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠায়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ৩ মে অব্যাহতির অনুমোদন দেন।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও তিনি নিয়মিত বেতন উত্তোলন করতেন। বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা দপ্তরের নজরে আসে এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষিকা আফরিনা রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি অব্যাহতি নিয়েছি।”

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, শিক্ষিকা আফরিনা রহমানের অনিয়মের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন জানান, চাকরির শুরু থেকেই আফরিনা রহমান অনিয়মিত ছিলেন। এ কারণে আগেও তাকে শোকজ করা হয়েছিল। উ

পজেলা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সাখাওয়াত হোসেন গণিত শিক্ষিকার অভিযোগের বিষয়ে নিশ্চিত করে বলেন, তাকে চাপ প্রয়োগ করলে তিনি অব্যাহতি পত্র জমা দেন তবে অন্য বিষয়ে আমরা তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। বিষয়টি পূর্ববর্তী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সময়ে প্রক্রিয়াধীন ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, আফরিনা রহমান বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-এর মাধ্যমে সহকারী শিক্ষক (গণিত) পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে ২০২৩ সালের ১ অক্টোবর বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি মাসে মাত্র একদিন বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে হাজিরা খাতায় পুরো মাসের স্বাক্ষর করতেন এবং নিয়মিত ব্যাংক থেকে বেতন উত্তোলন করতেন।

(বিএস/এএস/মার্চ ০৪, ২০২৬)























পাঠকের মতামত:

০৪ মার্চ ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test