E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

সংখ্যালঘুদের মধ্যে আতঙ্ক

আশাশুনির হামকোড়া জেলেপাড়ায় কালী প্রতিমা ভাঙচুর, ৪ দিনেও ক্লু উদ্ধার হয়নি

২০২৬ মার্চ ০৬ ১৮:৪৬:৫১
আশাশুনির হামকোড়া জেলেপাড়ায় কালী প্রতিমা ভাঙচুর, ৪ দিনেও ক্লু উদ্ধার হয়নি

রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কুল্ল্যা ইউনিয়নের হামকোড়া জেলেপাড়ার সার্বজনীন কালীমন্দিরে নির্মাণাধীন কালীপ্রতিমা ভাংচুরের চার দিন পেরিয়ে গেলেও ঘটনার কোন ক্লু উদ্ধার করা যায়নি। বিচার হয়না তাই করা হয়নি লিখিত অভিযোগ। ফলে হামকোড়া জেলেপাড়া ও পরামানিকপাড়ায় বসবাসরত ৮৫টি হিন্দু পরিবারের মধ্যে অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে।

হামকোড়া সার্বজনীন কালীমন্দিরের পুজার দায়িত্ব পালনকারি রুহিদাস মন্ডল জানান, দুই শতাধিক বছর আগে তাদের গ্রামের হৃদয় মন্ডল নিজের ১০ কাঠা জমি দান করে তাতে মন্দির বানিয়ে ফাল্গুন মাসের শেষ মঙ্গলবার কালীপুজা শুরু করেন। সেখান থেকে হামকোড়া জেলেপাড়ায় প্রতি বছরের ফাল্গুন মাসের শেষ মঙ্গলবার কালীপূজা করা হয়। ওই জমি মন্দিরের নামে দেবত্ব সম্পত্তি হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। ২০১৯ সালে মন্দির সংস্কারের জন্য তারা জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে এক লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়। সাড়ে চার হাজার টাকা চুক্তিতে আশাশুনির গাবতলার নারায়ন দাস গত ২১ ফেব্রুয়াারি থেকে এ মন্দিরে কালী প্রতিমা নির্মাণ কাজ শুরু করেন।

জেলেপাড়ার গৃহবধু রুপা মন্ডল জানান, আগামি ২৫ ফাল্গুন মঙ্গলবার কালীপূজা উপলক্ষে গত ৩ মার্চ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মন্দিরের দরজায় তালা মেয়ে মায়ের আসন বা পাটা কাটতে যান তারা। রাত সাড়ে আটটার দিকে তিনিসহ আলান বিশ্বাস, তার ছেলে নয়ন বিশ্বাস, নয়নের মা, রুমা বিশ্বাস ও রুহিদাস মন্ডলসহ কয়েকজন মায়ের আসন নিয়ে আসেন। এ সময় তারা গ্রীলের বাইরে থেকে একটি চার হাত মাপের বাঁশের চটা প্রতিমার বুকের উপর লাগিয়ে রাখতে দেখেন। পরে মন্দিরের ভিতরে ঢুকে তারা দেখতে পান যে, কালী প্রতিমার তিনটি হাত, মহাদেবের বাম হাত, মায়ের বুকে খোঁচা, জিহ্বা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান। তাৎক্ষণিক বিষয়টি তারা মুঠোফোনে ইউপি সদস্য আব্দুল কাদের ও ইউপি চেয়ারম্যান ওমর ছাদিক পলাশকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে রাত ১০টার দিকে দেবহাটা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বায়েজিদ ইসলাম, আশাশুনি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামীম আহম্মেদ খানসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা মন্দিরে চলে আসেন। একজন পুলিশ কর্মকর্তা তাদেরকে ভাঙা প্রতিমার ছবি ও ভিডিও করে কোথাও না দেওয়া ও রাতের মধ্যেই প্রতিমা সংস্কারের জন্য কড়া সুরে কথা বলেন। এক পর্যায়ে পরদিন সকাল ১০টার মধ্যে শিল্পী নারায়ন দাস প্রতিমা সংস্কার করে দেন। তবে প্রতিমা ভাংচুরের কাজে যে বাঁশের চটা ব্যবহার করা হয়েছে সেটি পার্শ্ববর্তী ধান খেত থেকে পেরেকসহ তুলে আনা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র হামকোড়া গ্রামের ভবতোষ মন্ডল বলেন, পুলিশ প্রতিমা ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করার চেয়ে দ্রুত প্রতিমা সংস্কার করার উপর গুরুত্ব আরোপ করায় তারা যে কি বিচার পাবেন তা জানতে বাকী থাকলো না। তাই তারা থানায় লিখিত অভিযোগ দেনননি।

জেলেপাড়ার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, গত ২০ জানুয়ারি কালিগঞ্জের তারালী ইউনিয়নের পূর্ব তেঁতুলিয়া গ্রামের পবিত্র স্বর্ণকারের বাড়িতে নির্মাণাধীন সরস্বতী প্রতিমা ভাঙচুর করা হলেও পুলিশ কর্মকর্তারা তড়িঘড়ি করে প্রতিমা সংস্কারের জন্য বলেন। এমনকি ওই ভিডিও বা স্থির ছবি যাতে কোন ফেইসবুক বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে না ছড়ায় তার জন্য সাবধান করা হয়। ওই ঘটনায়ও বিচার না পাওয়ার আশঙ্কায় থানায় অভিযোগ করা হয়নি।

এ ব্যাপারে আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামীম আহম্মেদ খান জানান, এ ঘটনায় কোন লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। হয়নি কোন ক্লু উদ্ধার।

(আরকে/এসপি/মার্চ ০৬, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

০৭ মার্চ ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test