E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কে পিচের বদলে ইটের সলিং!

২০২৬ মার্চ ০৮ ১৫:২৬:০১
ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কে পিচের বদলে ইটের সলিং!

হাবিবুর রহমান রুবেল, ঝিনাইদহ : দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়ক। যেখানে থাকার কথা মসৃণ পিচঢালা সড়ক, সেখানে দেখা যাচ্ছে ইটের সলিং। কোথাও পুরো রাস্তা জুড়ে, কোথাও আবার বড় বড় গর্ত ভরাটে ব্যবহার করা হয়েছে ইট। এতে একদিকে যেমন যানবাহনের গতি কমছে, অন্যদিকে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি ও জনদুর্ভোগ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, বরাদ্দ না থাকায় এটি সাময়িক ব্যবস্থা। তবে দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে সড়কের মান ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে।

জানা গেছে, ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের মোট ৪৭ কিলোমিটারের মধ্যে ঝিনাইদহ অংশে রয়েছে ২৪ কিলোমিটার। এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের অন্তত ৩ হাজার যানবহন চলাচল করে। মহাসড়কের অধিকাংশ জায়াগা খানাখন্দে ভরা। আবার অনেক জায়গায় পিচ উঠে যাওয়ায় সেখানে ইটের সলিং তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শহরের আরাপপুর এলাকায় ৮০০ মিটার, ভাটইবাজারে ৬৫০ মিটার, গাড়াগঞ্জে ২০০ মিটার ও শেখপাড়া এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা ইটের সলিং দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। তবে ভারী যানবহন চলাচলের কারণে অল্পদিনেই ইটের সলিং উঠে গেছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, ব্যস্ত মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে পিচ উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ। এসব জায়গায় বালু ফেলে তার ওপর ইট বিছিয়ে তৈরি করা হয়েছে অস্থায়ী চলাচলের পথ। ভারী যানবাহন চলাচলে ইট সরে গিয়ে তৈরি হচ্ছে আবার নতুন গর্ত। ফলে ওই মহাসড়ক দিয়ে চলাচলরত যানবাহনকে বারবার গতি কমাতে হচ্ছে, তৈরি হচ্ছে যানজটও। বিশেষ করে রাতের বেলায় ইটের উঁচুনিচু অংশ চোখে না পড়ায় ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

ওই মহাসড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী আবির আহমেদ নামের ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আগে ঝিনাইদহের হামদহ থেকে ক্যাম্পাসে পৌঁছাতে ২০ থেকে ২৫ মিনিট সময় লাগতো। এখন রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে এক থেকে দেড়ঘন্টাও ক্যাম্পাসে পৌঁছাতে পারি না। অনেক সময় ক্লাস শুরু হয়ে যায়। গত দুই বছর ধরে আমাদের এমন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয় গড়াই পরিবহনের চালক ওসমান আলী বলেন, ‘এমন মহাসড়ক এর আগে আমাদের দেখতে হয়নি। পিচঢালা সড়কে হঠাৎ ইটের সলিং থাকায় গাড়ির যন্ত্রাংশ দ্রুত নষ্ট হচ্ছে। গাড়ি নিয়ে ঝাঁকুনি খেতে খেতে চলতে হয়, ব্রেক কষলেও পিছলে যায়। ফলে আমাদের খুব ধীরে গাড়ী চালাতে হচ্ছে। এজন্য যাত্রাসময় বেড়ে যাচ্ছে। একই অবস্থা মাসের পর মাস ধরে, স্থায়ী মেরামতের দেখা মিলছে না।’

জেলা সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি আনোয়ারুজ্জামান আজাদ বলেন, ‘মহাসড়কে ইটের সলিং কোনোভাবেই টেকসই বা নিরাপদ সমাধান নয়। ভারী যানবাহনের চাপ সহ্য করার মতো শক্তি ইটের স্তরে থাকে না। ফলে দ্রুত ক্ষয় হয় এবং সড়ক আরও ঝুঁকিপূর্র্ণ হয়ে ওঠে। আমরা দেখেছি সরকার বিগত সময়ে সড়ক-মহাসড়ক সংস্কারের জন্য মোটা অংকের টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়ক সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্টরা।’

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান বলেন, ‘ওই সময়ে মহাসড়ক সংস্কারের জন্য আমাদের যথাযথ বরাদ্দ ছিল না। তাই মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্থ অংশে চলাচল সচল রাখতে সাময়িকভাবে ইটের সলিং দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ইতোমধ্যে ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের উন্নয়ন কাজের জন্য বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলে শিগগিরই ঠিকাদার নিয়োগ করে সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।’

(এইচআর/এএস/মার্চ ০৮, ২০২৬)






পাঠকের মতামত:

০৯ মার্চ ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test