E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

প্যারোলে মুক্তি পেয়েও বাবার জানাজায় অংশ নিতে পারেননি যুবলীগ কর্মী

২০২৬ মার্চ ০৯ ১৮:১৬:২৩
প্যারোলে মুক্তি পেয়েও বাবার জানাজায় অংশ নিতে পারেননি যুবলীগ কর্মী

তুষার বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি পেলেও দেরিতে পৌঁছানোয় বাবার জানাজায় অংশ নিতে পারলেন না কোটালীপাড়া উপজেলা যুবলীগের এক কর্মী। পরে তিনি পৌঁছালে দাফন সম্পন্ন  হয়।

চঞ্চল মিয়া নামের ওই যুবলীগ কর্মী কোটালীপাড়া উপজেলার গচাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। গত বছরের ৯ অক্টোবর ঢাকার হাতিরপুল এলাকার ভূতের গলি থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে পুলিশ তাঁকে আটক করে কারাগারে পাঠায়। পরে কোটালীপাড়ার ওয়াবদারহাটে সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

চঞ্চল মিয়ার বাবা আবদুল হক শনিবার (৭ মার্চ) রাত ৯ টার দিকে উচ্চ রক্তচাপ ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে মারা যান। রবিবার (৮ মার্চ) বেলা আড়াইটায় কোটালীপাড়ার চিত্রাপাড়া এম এম খান উচ্চবিদ্যালয় মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

চঞ্চল মিয়ার স্ত্রী বিলকিস বেগম রোববার বেলা ১১টার দিকে প্যারোলে স্বামীর মুক্তির আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ তাঁকে দুপুর ১ টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৩ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তির অনুমতি দেয়। তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জেলখানায় পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় তিনি দুপুর আড়াইটায় মুক্তি পান। পরে পুলিশি পাহারায় বিকাল ৩ টার দিকে তাঁকে চিত্রাপাড়া এম এম খান উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আনা হয়। কিন্তু তিনি পৌঁছানোর আগেই বাবার জানাজা শেষ হয়ে যায়। এরপর হাতকড়া পরা অবস্থায় বাবার লাশের খাটিয়া কাঁধে নিয়ে চিত্রাপাড়া কবরস্থানে যান। দাফন শেষে বেলা ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে পুলিশ তাঁকে আবার গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারে নিয়ে যায়।

কোটালীপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুব্রত কুমার জানান, প্যারোলে মুক্তি পাওয়ার পর বিকাল ৩ টার দিকে পুলিশি পাহারায় জেলা কারাগার থেকে চঞ্চল মিয়াকে কোটালীপাড়ায় আনা হয়। তিনি হাতকড়া পরা অবস্থায় বাবার দাফনে অংশ নেন এবং দাফন শেষে তাঁকে আবার কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

বাবার দাফনের সময় উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশে কান্নাজড়িত কণ্ঠে চঞ্চল মিয়া বলেন, ‘মিথ্যা মামলায় ৫ মাস ধরে জেলে আছি। বাবার অসুস্থতার সময় তাঁর পাশে থাকতে পারিনি। আমি হতভাগা ছেলে। এমনকি বাবার জানাজায়ও অংশ নিতে পারলাম না। আমার বাবাকে সবাই ক্ষমা করে দেবেন।’ তিনি জানাজায় উপস্থিত মুসল্লিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

চঞ্চল মিয়ার স্ত্রী বিলকিস বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী ব্যবসায়ী, তিনি নিরপরাধ। ৫ মাস ধরে জেলে রয়েছে। ৩ মেয়েকে নিয়ে আমি অতিকষ্টে জীবনযাপন করছি। আমি আমার স্বামীর মুক্তি চাই।’

(টিবি/এসপি/মার্চ ০৯, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

০৯ মার্চ ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test