E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

নেশার টাকা জোগাতে আইফোন ছিনতাই  

গোপালগঞ্জে নিখোঁজের ২ দিন পর কলেজ ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার 

২০২৬ মার্চ ১০ ১৭:৪৪:৫৩
গোপালগঞ্জে নিখোঁজের ২ দিন পর কলেজ ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার 

তুষার বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জে নিখোঁজের ২ দিন কলেজ ছাত্র সিয়াম মোল্যার (১৭) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

গতকাল সোমবার রাতের দিকে মুকসুদপুর উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পেছনের একটি পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে মুকসুদপুর থানা পুলিশ।

নেশার টাকা জোগাড় করতে আই ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ৪ সহপাঠী তাকে হত্যা করে বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে।

নিহত সিয়াম মোল্যা মুকসুদপুর উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের ঝুটিগ্রামের ইতালী প্রবাসী লিখন মোল্যার ছেলে ও মুকসুদপুর কলেজের এইচএসসির ২য় বর্ষের ছাত্র।

মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, গত ৭ মার্চ ৪ সহপাঠী কলেজ ছাত্র সিয়ামকে বাঁশবাড়িয়া গ্রামের নানাবাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। তারপর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। পরিবারের লোকজন তাকে সম্ভাব্যস্থানে খুঁজে না পেয়ে পুলিশকে জানায়। পুলিশ এ ঘটনার তদন্তে নেমে সহপাঠী ঝুটিগ্রামের শাহিন মিয়ার ছেলে দিদার (১৬) ও বাঁশবাড়িয়া গ্রামের টিটুল মুন্সীর ছেলে পারভেজকে (১৭) আটকের পর থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সিয়ামের মরদেহ উদ্ধার করে। তারা এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। এসময় তারা হত্যাকান্ডের বর্ণনা দেয়।

ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, সিয়ামের কাছে একটি আইফোন ও নগদ টাকা ছিল। ফোন নিয়ে মনোমালিন্য ও নগদ টাকা ছিনিয়ে মাদকের টাকা জোগার করতে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে তার ৪ সহপাঠী বাঁশবাড়িয়া গ্রামের ইউপি সদস্য (মেম্বার) রিপনের ছেলে সাজিদ, টুটুল মুন্সীর ছেলে পারভেজ মুন্সী এবং ঝুটিগ্রামের শাহীন মিয়ার ছেলে দিদার মিয়াসহ ৪ জন। সে পরিকল্পনা অনুযায়ী শনিবার (৭ মার্চ) সিয়ামকে তারা শ্বাসরোধে হত্যার পর পুকুরের কচুরিপানার নিচে মরদেহ ঢেকে রাখে। হত্যার পর আই ফোনটি নিজেদের দখলে নেয়। পরে সেটি পাশ্ববর্তী বোয়ালিয়া গ্রামের এক ব্যক্তির কাছে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে।

ওই কর্মকর্তা আরো জানান, আটক ২ জনকে কোর্টের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অপর ২ জনকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ আজ মঙ্গলবার সকালে সিয়ামের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ আড়াই শ’ বেড জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। আইনী প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন মুকসুদপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন। এ ব্যাপারে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর মামলা দায়ের করা হবে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

এলাকাবাসী জানান, প্রায় ৪ বছর আগে সিমামের মা মারা যান। বাব ইতালী প্রবাসী। এ কারণে ঝুটিগ্রামের নানা বাড়িতে থাকতো সিয়াম। একটি আইন ফোন ছিনিয়ে নেশার টাকার জোগার করতে এ হত্যাকান্ডের ঘটেছে। এতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা এ ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

(টিবি/এসপি/মার্চ ১০, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

১০ মার্চ ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test