E Paper Of Daily Bangla 71
Sikdar Dental Care
Walton New
Mobile Version

পাশাপাশি কবরে ৯ জনের দাফন সম্পন্ন

২০২৬ মার্চ ১৩ ১৮:৫৮:৫০
পাশাপাশি কবরে ৯ জনের দাফন সম্পন্ন

বাগেরহাট প্রতিনিধি : বাগেরহাটের রামপালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৪ জনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আজ শুক্রবার জুমার পর মোংলা উপজেলা পরিষদ মাঠে বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাকসহ তার পরিবারের ৯ সদস্যের নামাজে জানাজা সম্পন্ন হয়।

জানাজায় পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী, নিহতদের স্বজনসহ কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেয়। এদিন কানায় কানায় ভরে যায় উপজেলা পরিষদ মাঠ।

জানাজায় ইমামতি করেন মোংলা ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. রুহুল আমিন। পরে মোংলা কবরস্থানে পাশাপাশি কবরে ৯ জনকে দাফন করা হয়।

এদিকে একই দুর্ঘটনায় নিহত কনেপক্ষের চারজনের জানাজা কয়রা উপজেলার নকশা গ্রামে এবং মাইক্রোচালকের জানাজা রামপালে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জানাজার আগ মুহূর্তে পরিবারের নিহত সদস্যদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন স্ত্রী সন্তান, বাবা, ভাই ও বোন হারানো আশরাফুল আলম জনি। জনির আকুতিতে ভারি হয়ে ওঠে আকাশ-বাতাস।

জনি বলেন, আমি বাবা, ভাই, স্ত্রী, সন্তান, বোন, ভাগ্নে সবই হারিয়েছি। আমার বাবা রাজনীতি করতেন, ভাইরা ব্যবসা করতেন, কারও যদি কোনো দেনা-পাওনা থাকে জানাবেন, আমরা পরিশোধ করব। আর সবাইকে ক্ষমা করে দেওয়ার অনুরোধ করেন স্বজনহারা জনি।

জানাজা পূর্ব বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি একটি হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা। প্রধানমন্ত্রী নিহত পরিবারের খোঁজ নিয়েছেন। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। আব্দুর রাজ্জাক সজ্জন ব্যক্তি ছিলেন। তিনিসহ নিহত সবার রুহের মাগফেরাত কামনা করছি।

বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ বলেন, যে বাড়িতে আজ আনন্দ থাকার কথা, সেখানে বিশাদের কালো ছায়া। আমরা শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।

প্রসঙ্গত বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা-মোংলা মাসহড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর স্টাফবাস ও যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে বর-কনেসহ ১৪ জন নিহত হন। পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্তছাড়াই বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নিহতদের মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হয়।

নিহতরা হলেন, বর আহাদুর রহমান ছাব্বির, তার বাবা আব্দুর রাজ্জাক, বরের ভাই আব্দুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া ঐশী, তার ছেলে সামিউল ইসলাম ফাহিম, বড় ভাই আশরাফুল আলম জনির স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকা পুতুল, তাদের ছেলে আলিফ, আরফা, ইরাম। কনে মার্জিয়া আক্তার (মিতু), তার ছোট বোন লামিয়া আক্তার, দাদি রাশিদা বেগম ও নানি আনোয়ারা বেগম এবং মাইক্রোবাস চালক নাঈম।

মাইক্রোবাস চালক নাইমের বাড়ি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার পেড়িখালি ইউনিয়নের সিংগেরবুনিয়া গ্রামের। শুক্রবার জুমার আগে গ্রামের বাড়িতে তার নামাজে জানাজা সম্পন্ন হয়েছে।

বর ছাব্বিরের মোংলা শহরে মোবাইলের দোকান ছিল। কনে মিতু কয়রার নাকসা আলিম মাদ্রাসার আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

(ওএস/এসপি/মার্চ ১৩, ২০২৬)

পাঠকের মতামত:

১৩ মার্চ ২০২৬

এ পাতার আরও সংবাদ

উপরে
Website Security Test